Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৪ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪৪৮ বার
+ - R Print

সূরা ফজর

সূরা ফজর বা ঊষা - ৮৯

৩০ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি প্রথমে অবতীর্ণ হওয়া সূরাগুলির অন্যতম। সম্ভবতঃ ধারাবাহিকতায় এই সূরাটি প্রথম দশটি সূরার অন্তর্গত।

মানুষের সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং মানুষের প্রকৃতির মধ্যে তুলনা দ্বারা এই সূরার বিষয়বস্তুকে তুলে ধরা হয়েছে। যার ফলে যারা পরলোকের ধারণায় বিশ্বাসী তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে আরও শক্ত করা হয়েছে। ইতিহাসে উদ্ধৃত কল্পকাহিনী আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, কোনও বীরত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব চিরদিন টিকে থাকে না এবং উদ্ধত ও অহংকারীরা ধ্বংস হয়েছে যুগে যুগে। ইতিহাসের কাহিনী যুগে যুগে নৈতিক নীতিমালার এই অভ্রান্ত সত্যকেই তুলে ধরেছে। প্রকৃত পক্ষে ঐতিহাসিক কাহিনী সব সময়ই নৈতিক নীতিমালার এক অপূর্ব সৃষ্টিকর্ম যার প্রত্যেকটি কাহিনীকে জীবনের বিশেষ বিশেষ প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।

মানুষ সব সময়েই সৌভাগ্যের বিপরীত অবস্থানকে ভয় পায়। ভয় পায় দুর্ভাগ্যকে। তবুও সে অন্যের দুঃখ দুর্দ্দশাতে ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা লাভ করে না, এবং ভালো কাজের মাধ্যমে পরলোকের উন্নত জীবনের সন্ধান করে না। পৃথিবীর কর্মব্যস্ত জীবন তাকে পরকালকে ভুলিয়ে দেয়। এই পৃথিবীর যা কিছু পার্থিব চিন্তা ভাবনা মানুষের মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো, তা যখন মৃত্যুর সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যাবে তখন সে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারবে। আল্লাহ্‌র ক্ষমতা,মহিমা, ভালোবাসা, মহত্ব এবং সৌন্দর্য্য হবে বেহেশতের বাগানের আলো স্বরূপ।

সূরা ফজর বা ঊষা - ৮৯

৩০ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


১। শপথ ঊষার ; ৬১০৮

৬১০৮। আল্লাহ্‌র শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতাকে, চারটি আকর্ষণীয় তুলনামূলক শপথের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। " বোধশক্তি সম্পন্নদের জন্য।" প্রথমটি : ঊষার লগ্নের রহস্য ও সৌন্দর্য্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ঊষা হচ্ছে রাত্রির সুচীভেদ্য অন্ধকার ভেদ করে প্রথম আলোক রশ্মী যখন দিক্‌চক্রবালকে আলোকিত করে, সেই সময়। এই সময়টাকে মুসলমানেরা বলে সুবে সাদেকের সময় এবং হিন্দুরা বলে ব্রহ্মমূহুর্ত। দিন রাত্রির সন্ধিক্ষণের এই সময়টি মানুষের মনের উপরে গভীরভাবে রেখাপাত করার ক্ষমতা রাখে। যে ব্যক্তিগত ভাবে উম্মুক্ত প্রান্তরে কখনও সূর্যদয়ের পূর্বে এরূপ সময়কে অবলোকন করেছে সে জানে এই মূহুর্তের কি ক্ষমতা মনোজগতের উপরে। এই সময়টি হচ্ছে রাত্রির সূচীভেদ্য অন্ধকারের শঙ্কা ও দিনের আলোর সৌন্দর্য্যের মধ্যবর্তী অবস্থা যা আশা আকাঙ্খার প্রতীক। সুবেহ সাদেক হচ্ছে অন্ধকারের সমাপ্তি ঘোষণা ও আলোর যাত্রা শুরুর র্বাতা, যা অত্যন্ত পবিত্র সময়। সুবেহ্‌ সাদেকের শপথের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যে জগতে অবিশ্বাসের অন্ধকারের থেকে আত্মার জাগরণ ঘটে বিশ্বাসের আলোতে ; মৃত্যু থেকে জাগরণ ঘটে পুণরুত্থানের মাধ্যমে।

২। পাঁচের দ্বিগুণ [ দশ ] রাত্রির শপথ ; ৬১০৯

৬১০৯। যে দশ রজনীর শপথ করা হয়েছে, ধারণা করা হয় এই দশ রজনী হচ্ছে জুল-হজ্ব মাসের প্রথম দশ রাত্রি। প্রাচীন কাল থেকে মক্কা হচ্ছে আরব তীর্থযাত্রীদের জন্য পবিত্র নগরী। হযরত ইব্রাহীমের সাথে পবিত্র মক্কা নগরীর নাম জড়িত। দেখুন সূরা [ ২ : ১২৫ - ১২৭ ] এবং সংলগ্ন টিকাসমূহ এবং সূরা [ ২ : ১৯৭ ] আয়াতের টিকা ২১৭। মোশরেক আরবদের সময়ে পবিত্র কাবা ঘরে বহুধরণের কুসংস্কার বিদ্যমান ছিলো। ইসলাম এ সব কুসংস্কার দূরীভুত করে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতাকে পূত ও পবিত্র রূপ দান করে। তাতে নূতন দিক্‌ নির্দ্দেশনা প্রদান করে। এই দশদিন হজ্বযাত্রীদের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কা নগরী চর্তদ্দিকে পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত হওয়ার জন্য অন্যান্য শহর থেকে স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত। এই নির্জন নগরী হজ্বের প্রাক্কালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ হজ্বযাত্রীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। তারা তাদের সৌখিন বস্ত্র ত্যাগ করে সাধারণ এহ্‌রাম পরিধান করে থাকেন [ দেখুন টিকা ২১৭] ; তারা সকল প্রকার যুদ্ধ ও বিবাদ বিসংবাদ ত্যাগ করেন; তারা সকল প্রকার সৌখিনতা ত্যাগ করেন ; তারা অসংযমী হওয়া থেকে বিরত থাকেন; তারা সকল জীবনকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করেন ফলে কোন জীব হত্যা করেন না; - কোরবানী ব্যতীত। বিনয় ও নম্রতা হয় তাদের ভূষণ। তারা দিবা রাত্রির অধিকাংশ সময় এবাদতে মশগুল থাকেন। এই দশ রাত্রির সাথে উক্ত পবিত্র ক্রিয়াকর্ম বিদ্যমান। সুতারাং এই দশ রাত্রির শপথ এখানে করা হয়েছে।

৩। জোড় ও বিজোড়ের শপথ, ৬১১০

৬১১০। সংখ্যাতত্ব নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা জোড় ও বিজোড় সংখ্যার গুণাগুণ ব্যক্ত করবেন। সাধারণ ভাবে বলা যায় জোড় ও বিজোড় সংখ্যা পরস্পর সর্ম্পকযুক্ত; একে অপরের পরেই আগমন করে থাকে। তবুও এরা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র সংখ্যা। তবুও দুটি বিজোড় সংখ্যার সমষ্টি জোড় সংখ্যা। এখানে জোড় বলে সমগ্র সৃষ্ট জগতকে বোঝানো হয়েছে। কেননা আল্লাহ্‌ সমস্ত সৃষ্ট জগতকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন ; দেখুন [৩৬: ৩৬] আয়াত ও টিকা ৩৯৮১।জীব জগতে 'জোড়া ' শব্দটি দ্বারা দুজনকে বুঝানো হয়। যদিও তারা ভিন্ন ব্যক্তিসত্ত্বা; তবুও নারী ও পুরুষ এই মিলে একক মানুষ সত্ত্বা [ বিজোড় ] ; কারণ তারা একে অপরের সম্পুরক। এভাবেই জোড় থেকে বিজোড় হয়। সৃষ্টিতে নারী পুরুষের ন্যায় বহু জিনিষ বিদ্যমান যা একে অপরের সম্পুরক হয়ে একক সত্ত্বার ন্যায় বিরাজ করে। যেমন পরমাণুর মৌলিক উপাদান প্রোটন ও ইলেক্ট্রন জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে, যদিও তারা একক ভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মাম্বলী। সুতারাং ইহকাল ও পরকালকে ভিন্ন ভাবে চিন্তা না করে পরকালকে ইহকালের পটভূমিতে বিচার করতে হবে। ইহকালের কর্মফলই হবে পরকালের জীবনের পটভূমি। ইহকাল ও পরকাল মিলে একক সত্ত্বা। এখানে যে বিষয়ের জন্য শপথ করা হয়েছে তা এই যে, মানুষের প্রত্যেক কর্মের পরকালে হিসাব নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী তার শাস্তি ও পুরষ্কার হওয়া সন্দেহ ও সংশয়ের উর্দ্ধে, তবুও কেন আমরা পরকালে অবিশ্বাস করি ?

৪। এবং শপথ রজনীর যখন তা অপসৃয়মান হয়; ৬১১১

৬১১১। রজনী যখন গত হয়, অর্থাৎ রাত্রির শেষ যাম অর্থাৎ সূর্যদয়ের পূর্বে রাত্রির যে অংশ থাকে। শপথ বাক্যগুলির ধারাবাহিকতা গুলির সৌন্দর্য লক্ষ্য করুণ। প্রথমে বলা হয়েছে রাত্রির অন্ধকার ভেদ করে প্রথম আলোক রশ্মির ঘোষণা ; দ্বিতীয়ত : বলা হয়েছে ধর্মের যে আনুষ্ঠানিককতা আছে সে সম্বন্ধে যেমন জুল -হজ্ব মাসের প্রথম দশ রাত্রি তীর্থযাত্রীদের নিকট ; তৃতীয়তঃ বলা হয়েছে যখন ইহকাল ও পরকালের বৈষম্য দূর হয়ে যাবে ; চতুর্থতঃ শেষ শপথে বলা হয়েছে রাত্রির শেষ যামের, যার পরেই আসবে দিনের আলো। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যখন এই পৃথিবী অদৃশ্য হয়ে যাবে পরলোকের প্রকৃত জীবন তখন দিবালোকের ন্যায় সত্য বলে প্রতিভাত হবে।

৫। নিশ্চয়ই এর মাঝে শপথ রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য, ৬১১২

৬১১২। এ সব পবিত্র শপথের মাধ্যমে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্বের প্রতি। আধ্যাত্মিক অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের অন্ধকার থেকে মানব আত্মা কিভাবে প্রত্যাদেশের আলোতে গৌরবময় আলোকজ্জ্বল আধ্যাত্মিক আলোর সন্ধান লাভ করবে, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে সে সব জাতির প্রতি যারা আল্লাহ্‌র বিধানকে অস্বীকার করার ফলে নিজেদের ধ্বংস নিজেরাই ডেকে এনেছিলো। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে আ'দ ও সামুদ জাতির কথা যারা নিজেদের গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও তাদের ধ্বংস কেউ রোধ করতে পারে নাই। এ সব উদাহরণের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ মানুষের সীমিত পার্থিব জ্ঞানের সীমানার সীমারেখাকে বিস্তৃত করতে চেয়েছেন। যতক্ষণ আত্মা নশ্বর দেহকে ধারণ করে থাকে ততক্ষণ আত্মা তার জ্ঞানের সীমারেখাকে পরলোক পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারে না। শুধুমাত্র উপলব্ধি ও অনুভবই পারে এই সীমাকে অতিক্রম করে সসীমকে অসীমে পরিণত করতে। সুতারাং আমাদের সেই বিশ্ব স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করা প্রয়োজন যেনো আমরা আমাদের সসীম জ্ঞানের সীমারেখাকে অতিক্রম করে "বোধ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষে পরিণত হতে পারি।

৬। তুমি কি দেখো নাই, তোমার প্রভু কি ভাবে আ'দ [জাতির ] সাথে ব্যবহার করেছিলেন ৬১১৩, -

৬১১৩। আ'দ জাতির সম্পর্কে দেখুন [ ৭ : ৬৫ ] আয়াতের টিকা নং ১০৪০। বর্ণনা করা হয়েছে যে এই প্রাচীন জাতি উন্নত সভ্যতার অধিকারী ছিলো, কিন্তু বারে বারে আল্লাহ্‌র হুকুম সমূহ প্রত্যাখান করার ফলে তাদের ধ্বংস করে দেয়া হয়।

৭। ইরাম গোত্রের প্রতি - যারা অধিকারী ছিলো সুউচ্চ প্রাসাদের, ৬১১৪ -

৬১১৪। এই আয়াতের প্রচলিত বাংলা অনুবাদে বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। ইংরেজী অনুবাদ নিম্নরূপ : Of the [ City of ] Iram , with lofty pillars। ইরাম হচ্ছে আরবের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাচীন আ'দদের রাজধানী। রাজধানীর স্থাপত্য শিল্পের জন্য আ'দ জাতিরা অত্যন্ত গর্বিত ছিলো। কোন কোন তফসীরকারের মতে ইরাম ছিলেন আ'দ জাতিদের পূর্বপুরুষদের একজন। এক মতে ইনি স্যাম ইবন নূহ্‌ এর পুত্র। জাতি হিসেবে এরা ছিলো অত্যন্ত দীর্ঘকায়।

৮। যার সমতুল্য, কোন দেশে নির্মিত হয় নাই ; ৬১১৫

৬১১৫। আরবের দক্ষিণের এই অঞ্চলগুলি [ Arabian Felix ] এক সময়ে সভ্যতা ও সমৃদ্ধিতে অতি উন্নত ছিলো যার ধ্বংসাবশেষ ও শিলালিপি এ কথার প্রমাণ করে। Muawiya এর সময়ে এই অঞ্চলের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে থেকে কিছু মুল্যবান প্রস্তর আবিষ্কৃত হয়। বর্তমান কালে এখানে ব্রোঞ্জ নির্মিত সিংহের মাথা ও ব্রোঞ্জের কিছু টুকরা পাওয়া যায় যেগুলির উপরে সাবিঈনদের নাম মুদ্রিত আছে। এগুলি পাওয়া যায় নাজরানা প্রদেশে যার বর্ণনা আছে British Museum Quarterly [Vol xi , no. 4, sept. 1937 ] ।

৯। এবং সামুদ [ জাতি ] ৬১১৬, যারা উপত্যকায় [বিশাল ] পাথর কেটেছিলো [ গৃহ নির্মাণের জন্য ] ?

৬১১৬। সামুদ জাতির জন্য দেখুন [ ৬: ৭৩ ] আয়াতের টিকা ১০৪৩। এদের সভ্যতায় মিশর, সিরিয়া এবং শেষ দিকে গ্রীস ও রোমান প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এরা সুন্দর মন্দির,কবর, এবং অট্টালিকা তৈরি করেছিলো পাথর কেটে। এদের মধ্যে 'লাত' দেবীর উপাসনা প্রাধান্য লাভ করে।

১০। এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের প্রতি ? ৬১১৭

৬১১৭। আরবী শব্দটির অনুবাদ হবে "কীলকের অধিপতি "। এ স্থলে ইহার ভাবার্থ করা হয়েছে। সৈনিকদের শিবির যা বড় বড় কীলক দ্বারা ভূমিতে স্থাপন করা হয়। "কীলকের অধিপতি সম্বন্ধে দেখুন সূরা [৩৮: ১২ ] আয়াত ও টিকা ৪১৬০। ফেরাউনের দম্ভ,অহংকার ও তার পতনের জন্য দেখুন [ ২০ : ৪৩, ৭৮ - ৭৯ ] আয়াত। আ'দ,সামুদ ও ফেরাউন এই তিনটি শক্তিশালী জাতি ও ব্যক্তির উদাহরণ এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, ব্যক্তি বা জাতি যত শক্তিশালী ও সমৃদ্ধিশালীই হোক না কেন, যদি তারা আল্লাহ্‌র আইনকে অস্বীকার করে এবং অন্যায়, অত্যাচার করে তবে তাদের পতন অবশ্যম্ভবী। আল্লাহ্‌র আইন হচ্ছে প্রকৃতির আইন। মানুষের প্রবৃত্তিকে স্রষ্টা যে ভাবে সৃষ্টি করেছেন যদি তার স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে তবেই মানুষ ইহ জীবনে ও পরলোকে সুখ ও শান্তি লাভ করতে পারবে। প্রবৃত্তির এই স্বাভাবিক বিকাশকে নিশ্চিত করার জন্যই আল্লাহ্‌ তাঁর বিধান সমূহ অবতীর্ণ করেছেন, মানুষের কল্যাণের জন্য, মঙ্গলের জন্য। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে মানুষ কিভাবে আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথে নিজেকে বিকশিত করতে পেরেছে। যদি তারা তা না পারে তবে তাদের ধবং স অনিবার্য। পৃথিবীর বুক থেকে তারা চিরতরে মুছে যাবে।