Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৪ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪৪০ বার
+ - R Print

সূরা আবাসা

সূরা আবাসা বা ভ্রুকুটি করা -৮০

৪২ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা ও সারসংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের প্রতি রাসুলের (সা) আন্তরিক আনুগত্যের সাথে এ সূরাটি সম্পৃক্ত। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন হযরত মুহম্মদ মুস্তফা (সা)। তবুও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির বাইরে ছিলেন না। আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের গভীর আবেগ ও উদ্দীপনা থেকে ক্ষণ কালের জন্য তিনি সাময়িক ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা তাঁর ন্যায় সর্বোচ্চ মুল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাভাবিক ছিলো না। এই ভুলকে তিনি সানন্দে, সাগ্রহে সংশোধনে আগ্রহী ছিলেন।

একদিন রাসুল (সা) গভীর আন্তরিকতা নিয়ে কতিপয় ধনী মোশরেক কোরাইশ সরদারদের সাথে কোরাণের বাণী আলোচনা করছিলেন। তিনি যখন কোরাণের প্রত্যাদেশ সমূহ তাদের নিকট ব্যাখ্যা করছিলেন সে সময়ে আব্দুল্লা-ইবন- উমাই -ই মুকতাম নামক এক গরীব অন্ধ ব্যক্তি তাঁর নিকট ধর্মীয় উপদেশ যাঞা করেন। সম্ভ্রান্ত কোরাইশদের মজলিশের মাঝপথে এরূপ বাঁধা রাসুল (সা) পছন্দ করলেন না। সম্ভবত : রাসুলের (সা ) বিরক্ত মনোভাব অন্ধ বেচারীর অনুভূতিকে আহত করে। যে মহামানবের হৃদয় গরীব ও হতাভাগ্যদের জন্য সর্বদা সহানুভূতিতে আপ্লুত থাকতো, ক্ষণকালের এই বিভ্রান্তিতে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ নাজেল করেন। প্রত্যাদেশের আলোয় তার বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়, তিনি সাথে সাথে ইতঃস্তত না করে তা সর্ব সমক্ষে প্রকাশ করে দেন। আর এই প্রত্যাদেশ পবিত্র ধর্মীয় পুস্তকের অংশ হয়ে যায়, যার উল্লেখ আছে আয়াত [ ১৩ - ১৬ ]। এর পর থেকে রাসুল (সা) সর্বদা উক্ত ব্যক্তিকে উচ্চ সম্মান ও মর্যদা প্রদর্শন করতেন।

চলমান পৃথিবীতে এরূপ ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। রাসুলের (সা ) জীবনের মাধ্যমে এরূপ ঘটনার শাশ্বত সত্য নীতি সমূহের প্রত্যাদেশ পৃথিবীর মানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়। এই সূরা পুণরায় স্মরণ করিয়ে দেয় মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌র করুণা, ইহকাল ও পরকালে ভালো ও মন্দ কাজের শেষ পরিণতি।


সূরা আবাসা বা ভ্রুকুটি করা -৮০

৪২ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

১। সে [ রসুল ] ভ্রুকুটি করলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, ৫৯৫০

২। কারণ তাঁর নিকট একটি অন্ধ লোক এসেছিলো।

৫৯৫০। এখানে 'সে' দ্বারা রাসুলুল্লাহকে (সা) বুঝানো হয়েছে। রাসুলের (সা) ভ্রুকুঞ্চানো এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়ার প্রেক্ষাপট সূরাটির ভূমিকাতে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সূরার আয়াতগুলির দ্বারা রাসুলের (সা) জীবনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্‌ বিশ্ব মানবকে এই উপদেশ দিয়েছেন যে নৈতিক উৎকর্ষতা বা আধ্যাত্মিক পথের সাফল্য জাগতিক বিষয় বৈভব বা মান -সম্মান ও প্রভাব প্রতিপত্তির উপরে নির্ভরশীল নয়। দরিদ্র বা অন্ধ বা পঙ্গু বা সমাজে প্রতিপত্তিহীন ব্যক্তিও আল্লাহ্‌র উপদেশ গ্রহণে অধিক মনোযোগী হতে পারে ; বুদ্ধিমান, প্রতিভাবান, মানসিক দক্ষতাতে সমৃদ্ধ, সমাজে উচ্চস্থানে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ অপেক্ষা। কারণ যারা আল্লাহ্‌র এ সব নেয়ামতে ধন্য হন বিশেষতঃ তাদের মাঝে অহংকার, গর্ব দেখা যায়। তাদের নিজস্ব ক্ষমতার উপরে আত্মবিশ্বাস আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীলতা নষ্ট করে দেয়। ফলে আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো ও তাদের আত্মার মাঝে এক পর্দা বা অন্তরালের সৃষ্টি হয়, যে দুর্ভেদ্দ দেয়াল ভেদ করে তাদের হৃদয়ে আল্লাহ্‌র হেদায়েতের আলো পৌঁছায় না।

৩। কিন্তু তুমি কি ভাবে জানবে, হয়তো বা সে [ আধ্যাত্মিক ভাবে ] পরিশুদ্ধ হতে পারতো ? -

৪। অথবা হয়তো সে সতর্কবাণী গ্রহণ করতো, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসতো ? ৫৯৫১

৫৯৫১। বাইরে সামাজিক অবস্থান থেকে কোন ব্যক্তির আধ্যাত্মিক জগতের সমৃদ্ধি পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যে গরীব অন্ধ ব্যক্তির হৃদয় হয়তো হেদায়েতের আলো ধারণ করার জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। সুতারাং হেদায়েতের দ্বারা সে তার আধ্যাত্মিক জগতের সমৃদ্ধি সাধনে সক্ষম হবে যা উদ্ধত অহংকারী ধনী কোরাইশ নেতাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ্‌র নিকট পার্থিব ধন-সম্পদ, মান-মর্যদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, কোনও কিছুরই মুল্য নাই। আল্লাহ্‌র নিকট মূল্যবান হচ্ছে প্রকৃত হৃদয়, যে হৃদয় আল্লাহ্‌র ভালোবাসা হারানোর ভয়ে ভীত, আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভের কাঙ্গাল। সেই তো সম্পদশালী, হৃদয় যার সমৃদ্ধ। এ কথা এই গরীব অন্ধ লোকটির জন্য সত্য ছিলো। পরবর্তীতে এই অন্ধ লোকটি একজন জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন মুসলমানে রূপান্তরিত হন। মনে রাখতে হবে মানুষ বই পড়ে অর্থকরী জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করা যায় আল্লাহ্‌র নিকট থেকে। এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করার ক্ষমতা পৃথিবীতে আর কারও নাই। আল্লাহ্‌ ও আত্মার অনুভূতির মাঝের পর্দা যখন অর্ন্তহিত হয় তখনই হেদায়েতের আলো আত্মাকে করে আলোকিত, ফলে আত্মার মাঝে প্রজ্ঞার জন্ম নেয়। এই গরীব অন্ধ ব্যক্তি পরবর্তীতে মদিনার গভর্ণর নিযুক্ত হয়েছিলেন।

৫। পক্ষান্তরে যে নিজেকে মনে করে স্বাবলম্বী ৫৯৫২,

৬। তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিয়েছ,

৫৯৫২। "যে নিজকে মনে করে স্বাবলম্বী" এই বাক্যটি দ্বারা মক্কার প্রভাবশালী কোরাইশ নেতাদের বুঝানো হয়েছে। এই মোশরেক প্রভাবশালী কোরাইশ নেতাদের মুসলিম ধর্মে দিক্ষীত করার জন্য আল্লাহ্‌র নবী ব্যগ্র হয়েছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, এর দ্বারা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে দ্রুত গতি আনায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু পৃথিবীতে এটা সত্য যে, ইসলাম বা খৃষ্ট ধর্ম প্রথমে প্রসার লাভ করে দরিদ্র প্রভাব প্রতিপত্তিহীন, সরল -সোজা জনসাধারণের মাঝে। যারা শক্তিধর তারা কখনও কোনও নূতন ভাবধারাকে গ্রহণ করে না। তারা তখনই তা গ্রহণ করে যখন তা অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। পৃথিবীর এই চিরন্তন সত্যকে এই আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

৭। যদিও সে নিজে [ আধ্যাত্মিক ভাবে ] পরিশুদ্ধ হতে না চায় [ তাতে ] তোমার কোন দোষ নাই ৫৯৫৩

৫৯৫৩। আল্লাহ্‌র বাণী সকলের জন্য। যদি কেউ অন্ধ অহংকারে গর্বভরে মুখ ফিরিয়ে রাখে তবে তা ধর্ম প্রচারকের দোষ নয়। প্রচারকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী সর্বসাধারণের জন্য প্রচার করা। তিনি ধনী,গরীব সকলকে সমভাবে গ্রহণ করবেন।

৮। কিন্তু যে আকুল আগ্রহে তোমার নিকটে ছুটে এলো,

৯। [ হৃদয়ে ] ভয় এবং শংকা নিয়ে ৫৯৫৪,

১০। তুমি তার প্রতি অমনোযোগী হলে।

৫৯৫৪। এখানে, " ভয় এবং শংকা ' শব্দটি দ্বারা গরীব লোকটির অন্তরের চিত্র আঁকা হয়েছে। তাঁর মনের অবস্থা ছিলো দ্বিবিধ। ১) তিনি ছিলেন বিনয়ী, নম্র, এবং আল্লাহ্‌র ভয়ে ভীত। কোন অহংকার বা উদ্ধতপনার স্থান তাঁর হৃদয়ে ছিলো না। ২) দরিদ্র ও অন্ধ হওয়ার কারণে তিনি থাকতেন ভীত, যে, এত মহান নবীর দরবারে তাঁর মত লোক কিভাবে প্রবেশ করবেন ? কিন্তু আল্লাহ্‌র অমিয় বাণী কোরাণ শেখার ঐকান্তিক ইচ্ছায় তিনি সকল শঙ্কা,দ্বিধা,ভয় ত্যাগ করে সাহসের সাথে রাসুলের (সা) দরবারে গমন করেন। যদিও মনে হয় তাঁর আগমন ঘটেছিলো অসময়ে, যে কারণে রাসুল (সা) বিরক্ত হয়েছিলেন, তবুও তা ছিলো যোগ্য সাহসের কাজ। কারণ তার অন্তরের বিশুদ্ধতাই ছিলো আল্লাহ্‌র কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয়।

উপদেশ : প্রতিটি মোমেন মুসলমানের এই সূরা ও উদাহরণের মাধ্যমে শেখার বিষয় হচ্ছে, বাইরের ভনিতা, বা পার্থিব কোন বস্তুই আত্মিক সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন নাই। শুধু প্রয়োজন আল্লাহ্‌র ভালোবাসা হারানোর ভয়ে ভীত ব্যকুল হৃদয়। সেই হচ্ছে প্রকৃত মোমেন ও মুত্তাকী।

১১। না, এই আচরণ ঠিক নয়, নিশ্চয়ই ইহা এক উপদেশবাণী। ৫৯৫৫

১২। অতএব, যে ইচ্ছা করবে সে ইহা স্মরণ করবে।

৫৯৫৫। "এই আচরণ" অর্থাৎ পূর্বোক্ত আয়াতের বর্ণিত আচরণ। আল্লাহ্‌ সম্পুর্ণ ঘটনাটিকে বলেছেন উপদেশ বাণী। কারণ আল্লাহ্‌র বাণীর অমিয় ধারা,ধনী গরীব, উচ্চ,নীচ বিদ্বান, মুর্খ সকলের জন্য সমভাবে প্রবাহিত। যদি কারও হৃদয় এই ধারাতে অবগাহনের জন্য ব্যকুল হয়, তবে তাঁকে আল্লাহ্‌ যোগ্য সম্মান দান করেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন।

১৩। [ ইহা ৫৯৫৬ ] লিখিত আছে মহা সম্মানীয় কিতাবের পাতায়,

৫৯৫৬। "কিতাবের পাতায় " অর্থাৎ পূর্ববর্তী সূরা সমূহ। যখন এই সূরাটি অবতীর্ণ হয়, সে সময়ে মুসলমানদের হাতে সর্বমোট সূরার সংখ্যা ছিলো ৪২ থেকে ৪৫ টি। তবে সংখ্যার স্বল্পত্ব কোন ব্যাপার ছিলো না ; কারণ সূরাগুলি ছিলো আধ্যাত্মিক উপদেশে সমৃদ্ধ। সে সব উপদেশ এই সূরাটির জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। এই সূরাগুলি মুসলমানদের অন্তরের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলো। তা ছিলো তাদের হৃদয়ে উচ্চ ও মহিমান্বিত সর্বোচ্চ সম্মানের বস্তু। কারণ তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র পবিত্র বাণী। ইসলামের প্রথম যুগে যারা আল্লাহ্‌র বাণী বা সূরা সমূহ লিখে রাখতেন তাঁরা ছিলেন পূণ্যাত্মা, ন্যায়বান ও সম্মানীয়। অনেকে বলেন যে, প্রাথমিক সূরাগুলি লেখার ও সংরক্ষণ করার সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করা হয় নাই। তাদের এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা।

প্রথম ও তৃতীয় খলিফার সময়ে যে সংশোধনী আনা হয়, তা ছিলো কোরাণের বিশুদ্ধতা সংরক্ষণের জন্য এবং সুবিন্যস্ত করার নিরাপদ কৌশল হিসেবে। কারণ সে সময়ে ইসলাম আরবের সীমান্ত অতিক্রম করে আরবীতে কথা বলেন না তাদের মাঝেও প্রসার লাভ করেছে। সুতারাং সেই বিশাল বিস্তৃতির মাঝে কোরাণের প্রচার ও প্রসারের জন্য সাবধানতার প্রয়োজন ছিলো বৈকি।

১৪। [ যা সম্মানে ] উন্নত, পূত পবিত্র,

১৫। [ লিখিত হয়েছে ] সেই লিপিকরদের দ্বারা,

১৬। যারা সম্মানীয় এবং পূণ্যবান ও ন্যায়বান।

১৭। দুর্ভাগ্য মানুষের ! কেন সে আল্লাহকে প্রত্যাখান করে ?

১৮। তিনি তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন ?

১৯। এক বিন্দু বীর্য থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন ৫৯৫৭, এবং তারপরে তাকে সঠিক অনুপাতে গঠন করেছেন,

৫৯৫৭। দেখুন [ ৭৬ : ২ ] আয়াত ও টিকা ৫৮৩২। মানুষের সৃষ্টি হয়েছে প্রাণীর সৃষ্টির ন্যায় অতি নগন্য পদার্থ থেকে। কিন্তু মানুষ প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ। তার এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হচ্ছে আল্লাহ্‌ তাঁকে বিশেষ বুদ্ধিমত্তা ও বিশেষ বিশেষ মানসিক দক্ষতা দান করেছেন। তাঁর এই নশ্বর দেহের মাঝে বাস করে রূহু বা আত্মা। মানুষকে আল্লাহ্‌ ঐশ্বরিক অনুগ্রহ দান করেছেন, যে কারণে আল্লাহ্‌ তাঁকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন [ ২ : ৩০ ]। তাঁর আছে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি, আধ্যাত্মিক জগত, ভালোবাসার ক্ষমতা, যে ভালোবাসাকে সে বিশ্ব মানবতার মাঝে সম্প্রসারিত করতে সক্ষম। সীমিত ভাবে হলেও প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সে রাখে। প্রাকৃতিক শক্তিকে সে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে সক্ষম। সেই সাথে তাঁকে দেয়া হয়েছে বিচার ক্ষমতা বা বিবেক ফলে সে কখনও সীমা ছাড়িয়ে যায় না, সর্বদা মধ্য পথ অবলম্বন করে। এ ভাবেই মানব জীবনে চলার পথের যে বিভিন্ন ধারা তা মানুষের জন্য সহজ করে দিয়েছেন, " অতঃপর উহার জন্য পথ সহজ করে দেন।"