Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৪ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪৩৯ বার
+ - R Print

সূরা আন্‌ফাল

সূরা আন্‌ফাল বা যুদ্ধের লুটের মাল - ৮

আয়াত ৭৫, রুকু ১০, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]




ভূমিকা : পূর্বের সূরাগুলিতে দেখানো হয়েছে কিভাবে কোরানের শিক্ষার ধাপে ধাপে ক্রমবিকাশ ঘটেছে। প্রথম সাতটি সূরা কোরান শরীফের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এই অংশে দেখানো হয়েছে মানুষের ধর্মীয় ইতিহাস ও কিভাবে তার ধাপে ধাপে ক্রমবিকাশ ঘটেছে, কিভাবে রাসূলের (সাঃ) প্রভাবে এক নূতন সম্প্রদায় বা উম্মতের আবির্ভাব ঘটেছে। এই সূরাতে এই নূতন সম্প্রদায়ের ক্রমবিকাশের আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে তাদের সমষ্টিগত অগ্রগতির বিভিন্ন ধাপ।

এই অধ্যায়ে বদরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে জীবনের বৃহত্তর ক্ষেত্রে উপদেশ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এগুলি হচ্ছে : (১) যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত গণিমতের বা লুটের মাল, (২) যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীর সৈনিকের যে সব গুণাবলীর প্রয়োজন, (৩) বাধা বিপত্তির বিরুদ্ধে জয় লাভ করা, (৪) যুদ্ধ জয়ের মূহুর্তে দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন নিজের আত্ম উন্নতির জন্য ও অন্যের জন্য প্রয়োজন।

যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য গণিমতের মালের লোভ হওয়া উচিত নয়। গণিমতের মাল হচ্ছে যুদ্ধ জয়ের এক বিশেষ সুবিধা, যা অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া, যা আমাদের যুদ্ধ জয়ের কোনও উদ্দেশ্য হতে পারে না। দ্বিতীয়তঃ কোনও সৈনিকের বা সেনাদলের জন্য গণিমতের মাল কোনও ন্যায় সঙ্গত অধিকারের বস্তু হতে পারে না। জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধ হচ্ছে আল্লাহ্‌র পক্ষে যুদ্ধ, এই যুদ্ধ জয়ে যা লাভ সবই প্রাপ্য আল্লাহ্‌র। তৃতীয়তঃ গণিমতের মালের সুষ্ঠ বণ্টনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন, যেনো মানুষের স্বার্থপরতা ও লোভ লালসা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে না পারে। গণিমতের মালের এক পঞ্চমাংশ ইমাম বা ধর্মীয় নেতার প্রাপ্য। তিনি তা নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী, নিজ প্রয়োজনে বা গরীব, দুস্থ, বিপদগ্রস্থ, এতিম ও বিধবা নারীদের মধ্যে বিতরণ করতে পারেন [৮ : ৪১]। অবশিষ্ট চার পঞ্চমাংশ বিতরণ করতে হবে রাসূল যেভাবে করতেন তার অনুসরণে। রাসূল গণিমতের মাল শুধুমাত্র যারা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতো তাদের মধ্যেই বিতরণ করতেন তা নয়; যারা এই দুঃসাহসিক অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলেও বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতার হস্ত প্রসারিত করেছে, স্ব-স্ব কর্তব্য ও দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে তাদেরও যুদ্ধে লব্ধ মালের অংশ দেওয়া হতো, চতুর্থতঃ নিজেদের মধ্যে কোন বিবাদ বা বিসংবাদ নয় - কারণ তা সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে।
সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বদরের যুদ্ধ। আকাশ ছোঁয়া প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বদরের যুদ্ধ। যারা মহত্বর কারণের জন্য যুদ্ধ করে, আল্লাহ্‌ স্বয়ং তাদের সাহায্য করেন, তাদের জয় সুনিশ্চিত। যুদ্ধ বন্দীদের সম্পর্কে নির্দেশ দান করা হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সংহতির নির্দেশ আছে এই সূরাতে।

বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয় দ্বিতীয় হিজরীর রমজান মাসের ১৭ তারিখ শুক্রবারে। এই সূরা, বদরের যুদ্ধের অল্প কিছু পরে নাজেল হয়। যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে সূরা [৩ : ১৩] আয়াতে এবং টীকা ৩৫২।

সারসংক্ষেপ : সমস্ত গণিমতের মাল বিতরণের ভার আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুসারে আল্লাহ্‌র রাসূলের উপরে। বিশ্বাসী মোমেন বান্দারা প্রফুল্ল চিত্তে রাসূলের হুকুম মান্য করবে। যুদ্ধ জয় ও জয়ের পুরস্কার আল্লাহ্‌র নিকট থেকে পাওয়া, বদরের যুদ্ধ এই কথাই প্রমাণ করে [৮ ১-১৯]।

আনুগত্য, শৃঙ্খলা, উৎসাহ উদ্দীপনা, আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা হচ্ছে সাফল্যের চাবিকাঠি ও পাপ থেকে আত্মরক্ষার উপায়। পাপ কাজ ক্রমান্বয়ে তার গতি ত্বরান্বিত করে, ফলে পাপের বোঝা একদিন পাপীকে ধ্বংস করে দেয় [৮ : ২০-৩৭]।

বদরের যুদ্ধ ছিল আল্লাহ্‌র পরীক্ষা, এই পরীক্ষা ছিল চারিত্রিক গুণাবলী ও শৌর্য-বীর্যের। বদরের যুদ্ধ এ কথাই প্রমাণ করে যে, চারিত্রিক গুণাবলী ও শৌর্য-বীর্য যে কোনও বাঁধাকে অতিক্রম করতে সক্ষম। আল্লাহ্‌র প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, সাহস, অমিত তেজ, সঠিক প্রস্তুতি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার বিপদকে অতিক্রম করতে পারে, কারণ আল্লাহ্‌র সাহায্য তাদের জন্যই [৮ : ৩৮-৬৪]।

সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ্‌র রাস্তায় যে যুদ্ধ করে, আল্লাহ্‌ তাদের সাহায্য করেন। এ সব সত্যের সৈনিকেরা দশ গুণ বাঁধাকেও অতিক্রম করতে সক্ষম। স্মরণ রাখতে হবে যে, জয়ের মূহুর্তে ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন উত্তম [৮ : ৬৫-৭৫]।

সূরা আন্‌ফাল বা যুদ্ধের লুটের মাল - ৮

আয়াত ৭৫, রুকু ১০, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]



০১। তারা তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে ১১৭৮। বল, "[এই] সম্পদ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের নিয়ন্ত্রণে ১১৭৯। সুতরাং আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক সহজ সরল রাখ। যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলকে মান্য কর।

১১৭৮। বদরের যুদ্ধ জয়ের পরে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বিলিবণ্টনের প্রশ্নটি আসে। দেখুন এই সূরার ভূমিকা।

১১৭৯। বদর যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের নিয়েই এই আয়াতের বিষয়বস্তু। সে ঘটনাটি ছিল এই যে, গণিমতের মালামাল বিলি বণ্টনের ব্যাপারে মুসলমানদের মাঝে সামান্য মতবিরোধ হয়। ফলে মুসলমানদের চরিত্রে অশুভ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আল্লাহ্‌ এই আয়াতের মাধ্যমে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বিলবণ্টনের নীতিনির্ধারণ করে দেন। সত্য ও ন্যায়ের যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ সবই আল্লাহ্‌র। কারণ আল্লাহ্‌র সত্যকে রক্ষা করার জন্যই এই যুদ্ধ। তাঁর অনুগ্রহেই এই সম্পদ হস্তগত হয়, কারও বাহুবলে তা অর্জিত হয় নাই। রাসূল আল্লাহ্‌র ব্যবস্থাপক। আল্লাহ্‌র বিধান অনুযায়ী তা বণ্টন করবেন রাসূল। আল্লাহ্‌র রাস্তায় যুদ্ধের একটাই মানদন্ড, আর তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রতি ঐকান্তিক বিশ্বস্ততা অর্থাৎ ঈমানের দাবীই হল আনুগত্য। এই বিশ্বস্ততাই সকল মোমেন বান্দাদের ঐক্যের ভিত্তি। যুদ্ধলব্ধ সম্পদের বিলিবণ্টনকে কেন্দ্র করে যে মনোমালিন্যের কারণ ছিল তাঁর আভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পারস্পরিক সম্পর্ককে সুন্দর করার উপায় বলা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দু হল "তাকওয়া" বা পরহেযগারী বা খোদাভীতি। "নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক সহজ সরল রাখা।" অর্থাৎ অর্থলিন্সা, বা পার্থিব লাভ লোকসান যেনো মুসলমানদের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি না করে। সে জন্য সর্বাগ্রে এ আয়াতে সাবধান করা হয়েছে, যাতে পূতঃ পবিত্র এবং নিষ্কলুষ সম্প্রদায়ের অন্তরের বিশ্বাস ও নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং ঐক্য ও আত্মত্যাগের প্রেরণা ব্যতীত অন্য কোনও কিছু থাকতে না পারে।

০২। তারাই বিশ্বাসী যাদের হৃদয়, আল্লাহ্‌র নামের উল্লেখে কম্পিত হয়, যখন তারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ আবৃত্তি করতে শোনে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তাদের [সকল] নির্ভরতা [শুধুই] তাদের প্রভুর উপরে স্থাপন করে।

০৩। যারা নিয়মিত সালাত কায়েম করে এবং তাদের জীবিকার জন্য আমি যা অনুগ্রহ প্রদান করেছি তা থেকে [মুক্ত হস্তে] ব্যয় করে; ১১৮০।

১১৮০। "যা অনুগ্রহ প্রদান করেছি" - অর্থাৎ আল্লাহ্‌ যে জীবিকা বা সম্পদ দান করেছেন। এই আয়াত দ্বারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির বিরুদ্ধে সাবধান করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ মুমিন বান্দাদের জীবিকার ব্যাপারে উদার ও মহৎ।

০৪। এরাই প্রকৃত বিশ্বাসী। তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধাপের মর্যাদা, ক্ষমা এবং উদার জীবিকা।

০৫। ইহা এরূপ ১১৮১ যে তোমার প্রভু সত্যই তোমাকে তোমার বাড়ির বাইরে যেতে আদেশ দিয়েছিলেন, যদিও বিশ্বাসীদের একদল তা অপছন্দ করেছিলো।

১১৮১। বদরের যুদ্ধের পটভূমিতে আয়াতটি নাযেল হয়। আল্লাহ্‌ বিশ্বাসীদের ন্যায়ের যুদ্ধের জন্য গৃহত্যাগ করতে বলেন। 'Haqq' এই শব্দটির অনুবাদ করা হয়েছে "সত্যই", ইংরেজীতে অনুবাদ করা হয়েছে 'Truth' ইত্যাদি। সত্যিকারের মোমেন বান্দা সত্যে বিশ্বাসী, এবং আল্লাহ্‌র আনুগত্যে সঠিক পথ অবলম্বন করে। আল্লাহ্‌ মোমেন বান্দাদের সত্যের পথে ন্যায়ের পথে শতবাধা বিপত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে আদেশ দান করেন - কারণ এই হচ্ছে মুক্তির পথ, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার পথ। আর এই সংগ্রামে বিশ্বাসীদের জয় অবশ্যাম্ভবী।

০৬। সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। মনে হচ্ছিল তারা যেনো মৃত্যুর দিকে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা যেনো [প্রকৃতই] তা প্রত্যক্ষ করছে ১১৮২।

১১৮২। "সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর।" অর্থাৎ মুসলমানদের একটি দল এই জেহাদকে কঠিন মনে করেছিল তারই উল্লেখ এখানে করা হয়েছে। "সত্য" অর্থাৎ জেহাদের ঘোষণা। তারা মনে করেছিলেন যে জেহাদের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। তাদের মনে "জেহাদ"-কে মৃত্যুর পরোয়ানারূপে মনে হয়েছিলো। "তারা যেন মৃত্যুর দিকে পরিচালিত হচ্ছে।"

০৭। দেখ ! আল্লাহ্‌ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, [শত্রুদের] দু'দলের একদল তোমাদের [আয়ত্ত্বাধীন] হবে। ১১৮৩ তোমরা চাচ্ছিলে যে নিরস্ত্র দলটি তোমাদের হোক, অথচ আল্লাহ্‌ চাচ্ছিলেন তাঁর বাণীকে সত্য দ্বারা সমর্থন করতে এবং অবিশ্বাসীদের [কাফেরদের] নির্মুল করতে;-

১১৮৩। বদরের যুদ্ধের পটভূমি এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কোরেশদের এক বাণিজ্য বহর প্রচুর সম্পদসহ সিরিয়া থেকে মক্কাতে প্রত্যাবর্তন করছিলো। সিরিয়া থেকে মক্কা ফিরে যাওয়ার পথে ছিল মদিনায় অবস্থান। পূর্ব শত্রুতা বশতঃ আবু সুফিয়ানের ভয় ছিল মদিনার নব্য মুসলমানদের। এই অমূলক ভয়ের বশবর্তী হয়ে আবু সুফিয়ান মক্কার কোরেশদের নিকট সাহায্যের আবেদন জানায়। মুসলমানদের সামনে দুটো পথ খোলা ছিল। হয় তাদের আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য বহরকে আক্রমণ করতে হবে নয়তো সাহায্যকারী কোরেশ বাহিনীর গতিরোধ করতে হবে। বাণিজ্য বহরকে আক্রমণ করে লুণ্ঠিত করার অর্থ হচ্ছে প্রভূত ধন সম্পদ হস্তগত করা। নিরস্ত্র বাণিজ্য বহরের সাথে যুদ্ধ করে তা লুণ্ঠিত করা অনেক নিরাপদ ও লাভজনক। কারণ এই বাণিজ্য বহর যদিও প্রচুর ধন সম্পদ বহন করেছিল, কিন্তু তার জনবল ছিল মাত্র ৪০ জন এবং তারা ছিল নিরস্ত্র। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিরস্ত্র বাণিজ্য বহরকে আক্রমণ করা শুধু যে লাভজনক তাই-ই নয় নিরাপদ-ও। বিকল্প রাস্তাটি হচ্ছে এই লাভজনক ধন সম্পদের আশা ত্যাগ করে, অস্ত্র- শস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধ বিদ্যায় অভিজ্ঞ কোরেশ বাহিনীর মোকাবিল করা। কোরেশ বাহিনীতে যেমন ছিল সৈন্য সংখ্যার আধিক্য, তেমন তারা ছিল অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত। এই আয়াতে যে "দুই দলের" কথা বলা হয়েছে, তার একদল হচ্ছে আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা, অন্যদল আবু জাহেলের নেতৃত্বে কাফেরদের সশস্ত্র বাহিনী। অপরপক্ষে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০০ জন এবং তাঁদের সমরাস্ত্রও ছিল অপ্রতুল। স্বাভাবিকভাবে মুসলমানেরা "চাচ্ছিলো যে, নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তাধীন হোক।" অথচ "আল্লাহ্‌ চাচ্ছিলেন যে, তিনি সত্যকে তাঁর বাণী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কাফিরদেরকে নির্মূল করতে।" মুসলমানেরা যদি সম্পদের লোভ না করে মক্কার কাফেরদের স্বার্থপর স্বৈরাচারী কর্তৃত্বকে পরাজিত করতে পারে, তবে আল্লাহ্‌র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই মুস্তফার (সাঃ) নেতৃত্বে মুসলমানেরা পার্থিব সম্পদের লোভ ত্যাগ করে মক্কার কোরেশদের মোকাবিলা করে। ফলে তাদের জনবল ও অস্ত্রবল কম থাকা সত্বেও আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রাপ্ত হয় এবং যুদ্ধে জয়লাভ করে। এই জয় লাভ যেমন ছিল গৌরবময়, তেমন তা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ছিল সহায়ক। এটাই ছিল সত্যের প্রতিষ্ঠার প্রথম বিজয়।