+
-
R
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা যার অবতীর্ণকাল শেষ সূরাটির সমসাময়িক। এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে অহংকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার দিবসের ধারণা এবং অহংকারীদের পতন। এ বিষয়ে ফেরাউনের উপমা উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তির মূল মাধ্যম হিসেবে। তার উক্তি ছিলো, " আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।" [ ৭৯ : ২৫ ]
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
৫৯১৬। এই সূরার আরম্ভ পূর্ববর্তী সূরার [ ৭৭নং ] আরম্ভের সাথে তুলনা করা যায়। এই সূরাদ্বয়ের প্রারম্ভ অনুবাদ করা যে কোন অনুবাদকের জন্য এক দূরূহ কার্য। শপথের মাধ্যমে যে ভাবকে প্রকাশ করা হয়েছে তা মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরে। সুতারাং তা অনুবাদের বা তফসীরের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা এক অসাধ্য ব্যাপার।
আয়াত [ ১ -৫ ] পর্যন্ত ফেরেশতাগণের পাঁচটি বিশেষণ বর্ণিত হয়েছে। সূরার শুরুতে ফেরেশতাগণের কতিপয় গুণ ও অবস্থা বর্ণনা করে তাদের শপথ করা হয়েছে। শপথের জওয়াব বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে ৬ নং ও পরবর্তী আয়াত সমূহে।
৫৯১৭। এই পাঁচটি আয়াতগুলিতে যে পাঁচটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্বন্ধে যথেষ্ট মতদ্বৈত আছে। মওলানা ইউসুফ আলীর মতে এর দ্বারা সেই সব ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে যারা মানুষের জন্য আল্লাহ্র দয়া, ক্ষমতা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং কেয়ামতের বার্তা বহন করে আনেন। কেয়ামত হচ্ছে ধ্রুব সত্য যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। ফেরেশতাগণ এখনও সারা বিশ্বের কাজকর্ম ও শৃঙ্খলা বিধানে নিয়োজিত, কেয়ামত দিবসেও যখন এই বস্তুনিষ্ঠ পৃথিবী অপসৃত হয়ে যাবে এবং অসাধারণ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখনও ফেরেশতারাই যাবতীয় কার্যনির্বাহ করবে। এ সর্ম্পকের কারণে সূরায় তাদের শপথ করা হয়েছে। ফেরেশতাদের যে পাঁচটি বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে মৃত্যু ও দেহ থেকে আত্মা বের করার বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সূরার প্রথম আয়াতে প্রথমতঃ বলা হয়েছে পাপী ও কাফেরদের আত্মা সম্পর্কে। পাপী ও কাফেরদের আত্মা পার্থিব জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত থাকবে যে তারা কিছুতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে চাইবে না। আত্মা মৃত্যুর মাধ্যমে এই মরদেহ ত্যাগে থাকবে প্রচন্ড অনিচ্ছুক। কিন্তু তাদের সেই অনিচ্ছার কোনও মূল্যই দেয়া হবে না। তাদের আত্মাকে দেহের বাঁধন থেকে সমূলে উৎপাটন করা হবে পরলোকে নেয়ার জন্য। তবে কেন তারা পুণরুত্থান ও বিচার দিবসকে অস্বীকার করে ?
৫৯১৮। দ্বিতীয়তঃ দুষ্ট ও পাপীদের আত্মার পরিণতির পটভূমিতে মুত্তাকীদের আত্মার অবস্থানকে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যুর সময়ে মুত্তাকীদের আত্মাকে খুব সহজে, শান্ত ও মৃদুভাবে পরলোকের জন্য দেহ থেকে বের করে নেয়া হবে। অবশ্য যারা মুত্তাকী তারা মৃত্যুর বহু পূর্বেই মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন। ফলে তারা পার্থিব জগতের মোহ থেকে আত্মাকে মুক্ত করে আল্লাহ্র করুণার কাছে আত্মসমর্পন করেন। প্রকৃত পক্ষে মৃত্যু তাদের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। কারণ মৃত্যু তাদের আত্মাকে পৃথিবীর স্থুলতা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। যে মুক্তি ছিলো পার্থিব জীবনে তাদের জন্য একান্ত কাম্য। কারণ তাঁরা সর্বদা বিচার দিবসকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে এসেছেন পার্থিব জীবনে।
৫৯১৯। আল্লাহ্র হুকুমে ফেরেশতাদের সর্বদা আল্লাহ্র করুণা, দয়া, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের সংবাদ পৃথিবীতে দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করে থাকেন। তাদের গতির এই দ্রুততাকেই এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে - "যারা হাওয়ায় সাতার কাটে।"
আয়াত [ ৩- ৫ ] এই তিনটি আয়াতে ফেরেশতাদের আরও তিনটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।
৩) তৃতীয়ত : Sabhan আভিধানিক অর্থ সন্তরণ করা। এখানে উদ্দেশ্য দ্রুতবেগে চলা। দেখুন সূরা [ ২১ : ৩৩ ] আয়াত যেখানে এই ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করা হয়েছে নভোমন্ডলের গ্রহ-নক্ষত্রের সম্পর্কে যেখানে বলা হয়েছে, " সবাই আপন আপন কক্ষ পথে সন্তরণ করে। "
৪) ফেরেশতারা তাদের কাজের দ্রুততায় একে অপরকে অতিক্রম করে।
৫) এ ভাবেই তারা তাদের প্রতিপালকের আজ্ঞা নির্বাহ করে থাকে।
৫৯২০। ফেরেশতাদের অপূর্ব কার্যপ্রণালীর বৈশিষ্ট্য [ ১ - ৫ ] আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এবারে তাঁদের কাজের শেষ পরিণতি বা সিদ্ধান্তকে তুলে ধরা হয়েছে। এ কথা ধ্রুব সত্য যে, একদিন প্রচন্ড প্রকম্পনের মধ্য দিয়ে এই চেনা-জানা পৃথিবীর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সে অনুভূতি হবে প্রচন্ড ভূমিকম্পের অনুভূতি যা পৃথিবীর রূপরেখাকে মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। এই মুছে ফেলার প্রাথমিক পর্যায়ে পৃথিবী প্রচন্তভাবে কেঁপে উঠবে, সমস্ত কিছু ধ্বংস হওয়ার পরেও শুধুমাত্র সেই সর্বশক্তিমানের, স্বর্গীয় সত্ত্বা বিরাজ করবে। যার উল্লেখ সূরা [ ৫৫ : ২৭] আয়াতে এভাবে করা হয়েছে, " কিন্তু চিরস্থায়ী হবে তোমার প্রভুর সত্ত্বা।"
৫৯২১। দ্বিতীয় শিঙ্গাধ্বনি হবে নূতন পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বাভাষ। নূতন পৃথিবীর সৃষ্টির প্রাক্কালে পৃথিবী বারে বারে প্রচন্ড প্রকম্পনের সম্মুখীন হবে।
৫৯২২। সন্ত্রস্ত বা আন্দোলিত হওয়া। মুত্তাকী ও পাপী সকলের হৃদয় সেদিন আন্দোলিত হতে থাকবে। যারা মুত্তাকী, তারা আশায় আন্দোলিত হবে তাদের প্রতিপালকের প্রতিজ্ঞা পূরণের সম্ভবনার সূত্রপাতে। আবার যারা পাপী ও যারা আল্লাহ্কে অস্বীকার করতো তাদের হৃদয় ভয়ে আন্দোলিত হতে থাকবে কারণ ন্যায় বিচারে তাদের কর্মের পরিণাম অনুধাবন করার মাধ্যমে।
৫৯২৩। সকল দৃষ্টিই সেদিন, " ভীতি বিহ্বলতায় নত হবে।" যারা মুত্তাকী তাদের দৃষ্টি নত হবে বিনয়ে, আবেগে। আর যারা প্রত্যাখানকারী তাদের দৃষ্টি নত হবে লজ্জ্বা, দুঃখ ও অপমানের ভয়ে। কারণ পার্থিব জীবনের অবাধ্যতা, উদ্ধতপনার পরিণাম তারা বিশেষ ভাবে সেদিন অনুধাবন করবে।
৫৯২৪। পৃথিবীর জীবনে সত্য প্রত্যাখানকারীরা থাকে অবাধ্য, উদ্ধত এবং বিদ্রূপকারী। তাদেরই বিদ্রূপের ভাষা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মনোভাব এরূপ, " হ্যাঁ, নিশ্চয়ই মৃত্যুই সকল কিছুর শেষ। যখন আমরা মুত্যুমুখে পতিত হব এবং কবরে নীত হব, সেখান থেকে কিভাবে আবার জীবিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব ? " তারা আরও বলে যে, " যদি সত্যিই তাই ঘটে, তবে তো আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। কারণ আমাদের অস্থি,চর্ম-মজ্জা সব কিছুই পচনশীল অবস্থায় থাকবে।" তারা এইরূপ উক্তি করে অবিশ্বাসের কারণে বিদ্রূপাত্মক ভাবে। তাদের বিদ্রূপে কোন কিছুরই পরিবর্তন ঘটবে না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শেষ বিচারে অবশ্যই সকলকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেদিন তারা প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং দোযখই হবে তাদের শেষ পরিণতি।
৫৯২৫। বিচার দিবস শুধুমাত্র একটি বিকট শব্দের অপেক্ষা মাত্র যার উল্লেখ আছে, সূরা [ ৩৭ : ১ ৯ ] এবং সূরা [ ৩৬ : ২৯, ৪৯ ] আয়াতে। এই বিকট শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, হঠাৎ করেই পাপীদের ইহজীবনের লীলা খেলা শেষ করে দেয়া হবে এবং পরলোকের জীবনে নীত করা হবে যেখানে তাদের বিচার করা হবে। দেখুন সূরা [ ৩৬ : ৫৩ ] আয়াত যেখানে শেষ বিচারের নীত হওয়ার উল্লেখ আছে।
৫৯২৬। মৃত্যুর সময় থেকে পরবর্তী অবস্থাকে ব্যক্তির জন্য ছোট কেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা যায়। দেখুন সূরা [ ৭৮ : ৪০ ] আয়াতের টিকা ৫৯১৪ ও সূরা [ ৭৫ : ২২ ] আয়াতের টিকা ৫৮২২ এবং সূরা [ ৭ : ৩৭] আয়াত। যখন প্রকৃত কেয়ামত সংঘটিত হবে তখন পুরানো চেনাজানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি হবে এবং সকলের পুনরুত্থান ঘটবে। মৃত্যু পরবর্তী ছোট কেয়ামত বা বিচারকে কবর আযাব বলা হয়।
সূরা নাযি'য়াত
Page 1 of 3
সূরা নাযি'য়াত অথবা যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে -৭৯
৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা যার অবতীর্ণকাল শেষ সূরাটির সমসাময়িক। এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে অহংকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার দিবসের ধারণা এবং অহংকারীদের পতন। এ বিষয়ে ফেরাউনের উপমা উপস্থাপন করা হয়েছে যুক্তির মূল মাধ্যম হিসেবে। তার উক্তি ছিলো, " আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।" [ ৭৯ : ২৫ ]
সূরা নাযি'য়াত অথবা যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে -৭৯
৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
১। [ ফেরেশতাদের ] শপথ ৫৯১৬, যারা [ পাপীদের আত্মাকে ] নিমর্মভাবে উৎপাটন করে। ৫৯১৭
৫৯১৬। এই সূরার আরম্ভ পূর্ববর্তী সূরার [ ৭৭নং ] আরম্ভের সাথে তুলনা করা যায়। এই সূরাদ্বয়ের প্রারম্ভ অনুবাদ করা যে কোন অনুবাদকের জন্য এক দূরূহ কার্য। শপথের মাধ্যমে যে ভাবকে প্রকাশ করা হয়েছে তা মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরে। সুতারাং তা অনুবাদের বা তফসীরের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা এক অসাধ্য ব্যাপার।
আয়াত [ ১ -৫ ] পর্যন্ত ফেরেশতাগণের পাঁচটি বিশেষণ বর্ণিত হয়েছে। সূরার শুরুতে ফেরেশতাগণের কতিপয় গুণ ও অবস্থা বর্ণনা করে তাদের শপথ করা হয়েছে। শপথের জওয়াব বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে ৬ নং ও পরবর্তী আয়াত সমূহে।
৫৯১৭। এই পাঁচটি আয়াতগুলিতে যে পাঁচটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্বন্ধে যথেষ্ট মতদ্বৈত আছে। মওলানা ইউসুফ আলীর মতে এর দ্বারা সেই সব ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে যারা মানুষের জন্য আল্লাহ্র দয়া, ক্ষমতা, ন্যায়পরায়ণতা, এবং কেয়ামতের বার্তা বহন করে আনেন। কেয়ামত হচ্ছে ধ্রুব সত্য যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। ফেরেশতাগণ এখনও সারা বিশ্বের কাজকর্ম ও শৃঙ্খলা বিধানে নিয়োজিত, কেয়ামত দিবসেও যখন এই বস্তুনিষ্ঠ পৃথিবী অপসৃত হয়ে যাবে এবং অসাধারণ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখনও ফেরেশতারাই যাবতীয় কার্যনির্বাহ করবে। এ সর্ম্পকের কারণে সূরায় তাদের শপথ করা হয়েছে। ফেরেশতাদের যে পাঁচটি বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে মৃত্যু ও দেহ থেকে আত্মা বের করার বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সূরার প্রথম আয়াতে প্রথমতঃ বলা হয়েছে পাপী ও কাফেরদের আত্মা সম্পর্কে। পাপী ও কাফেরদের আত্মা পার্থিব জীবন নিয়ে এত ব্যস্ত থাকবে যে তারা কিছুতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে চাইবে না। আত্মা মৃত্যুর মাধ্যমে এই মরদেহ ত্যাগে থাকবে প্রচন্ড অনিচ্ছুক। কিন্তু তাদের সেই অনিচ্ছার কোনও মূল্যই দেয়া হবে না। তাদের আত্মাকে দেহের বাঁধন থেকে সমূলে উৎপাটন করা হবে পরলোকে নেয়ার জন্য। তবে কেন তারা পুণরুত্থান ও বিচার দিবসকে অস্বীকার করে ?
২। যারা [ পূণ্যাত্মাদের আত্মাকে ] মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করে দেয় ৫৯১৮
৫৯১৮। দ্বিতীয়তঃ দুষ্ট ও পাপীদের আত্মার পরিণতির পটভূমিতে মুত্তাকীদের আত্মার অবস্থানকে বর্ণনা করা হয়েছে। মৃত্যুর সময়ে মুত্তাকীদের আত্মাকে খুব সহজে, শান্ত ও মৃদুভাবে পরলোকের জন্য দেহ থেকে বের করে নেয়া হবে। অবশ্য যারা মুত্তাকী তারা মৃত্যুর বহু পূর্বেই মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন। ফলে তারা পার্থিব জগতের মোহ থেকে আত্মাকে মুক্ত করে আল্লাহ্র করুণার কাছে আত্মসমর্পন করেন। প্রকৃত পক্ষে মৃত্যু তাদের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। কারণ মৃত্যু তাদের আত্মাকে পৃথিবীর স্থুলতা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। যে মুক্তি ছিলো পার্থিব জীবনে তাদের জন্য একান্ত কাম্য। কারণ তাঁরা সর্বদা বিচার দিবসকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে এসেছেন পার্থিব জীবনে।
৩। শপথ তাদের যারা [ হাওয়ায় ] সাঁতার কাটে ৫৯১৯
৪। এবং যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়,
৫। অতঃপর যারা [ তাদের প্রভুর আদেশে ] সকল কাজের তত্বাবধান করে,
৪। এবং যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়,
৫। অতঃপর যারা [ তাদের প্রভুর আদেশে ] সকল কাজের তত্বাবধান করে,
৫৯১৯। আল্লাহ্র হুকুমে ফেরেশতাদের সর্বদা আল্লাহ্র করুণা, দয়া, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের সংবাদ পৃথিবীতে দ্রুততম সময়ে সম্পাদন করে থাকেন। তাদের গতির এই দ্রুততাকেই এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে - "যারা হাওয়ায় সাতার কাটে।"
আয়াত [ ৩- ৫ ] এই তিনটি আয়াতে ফেরেশতাদের আরও তিনটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।
৩) তৃতীয়ত : Sabhan আভিধানিক অর্থ সন্তরণ করা। এখানে উদ্দেশ্য দ্রুতবেগে চলা। দেখুন সূরা [ ২১ : ৩৩ ] আয়াত যেখানে এই ক্রিয়াপদটি ব্যবহার করা হয়েছে নভোমন্ডলের গ্রহ-নক্ষত্রের সম্পর্কে যেখানে বলা হয়েছে, " সবাই আপন আপন কক্ষ পথে সন্তরণ করে। "
৪) ফেরেশতারা তাদের কাজের দ্রুততায় একে অপরকে অতিক্রম করে।
৫) এ ভাবেই তারা তাদের প্রতিপালকের আজ্ঞা নির্বাহ করে থাকে।
৬। একদিন, যা কিছু প্রকম্পিত হতে পারে,তা প্রবল ভাবে প্রকম্পিত হবে ৫৯২০,
৫৯২০। ফেরেশতাদের অপূর্ব কার্যপ্রণালীর বৈশিষ্ট্য [ ১ - ৫ ] আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এবারে তাঁদের কাজের শেষ পরিণতি বা সিদ্ধান্তকে তুলে ধরা হয়েছে। এ কথা ধ্রুব সত্য যে, একদিন প্রচন্ড প্রকম্পনের মধ্য দিয়ে এই চেনা-জানা পৃথিবীর পরিসমাপ্তি ঘটবে। সে অনুভূতি হবে প্রচন্ড ভূমিকম্পের অনুভূতি যা পৃথিবীর রূপরেখাকে মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। এই মুছে ফেলার প্রাথমিক পর্যায়ে পৃথিবী প্রচন্তভাবে কেঁপে উঠবে, সমস্ত কিছু ধ্বংস হওয়ার পরেও শুধুমাত্র সেই সর্বশক্তিমানের, স্বর্গীয় সত্ত্বা বিরাজ করবে। যার উল্লেখ সূরা [ ৫৫ : ২৭] আয়াতে এভাবে করা হয়েছে, " কিন্তু চিরস্থায়ী হবে তোমার প্রভুর সত্ত্বা।"
৭। উহাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী সিংগাধ্বনি [বারে বারে কম্পন দ্বারা ] ৫৯২১
৫৯২১। দ্বিতীয় শিঙ্গাধ্বনি হবে নূতন পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বাভাষ। নূতন পৃথিবীর সৃষ্টির প্রাক্কালে পৃথিবী বারে বারে প্রচন্ড প্রকম্পনের সম্মুখীন হবে।
৮। সেদিন কত হৃদয় উদ্বিগ্ন হবে, ৫৯২২
৫৯২২। সন্ত্রস্ত বা আন্দোলিত হওয়া। মুত্তাকী ও পাপী সকলের হৃদয় সেদিন আন্দোলিত হতে থাকবে। যারা মুত্তাকী, তারা আশায় আন্দোলিত হবে তাদের প্রতিপালকের প্রতিজ্ঞা পূরণের সম্ভবনার সূত্রপাতে। আবার যারা পাপী ও যারা আল্লাহ্কে অস্বীকার করতো তাদের হৃদয় ভয়ে আন্দোলিত হতে থাকবে কারণ ন্যায় বিচারে তাদের কর্মের পরিণাম অনুধাবন করার মাধ্যমে।
৯। [তাদের ] চক্ষু নত হবে ৫৯২৩
৫৯২৩। সকল দৃষ্টিই সেদিন, " ভীতি বিহ্বলতায় নত হবে।" যারা মুত্তাকী তাদের দৃষ্টি নত হবে বিনয়ে, আবেগে। আর যারা প্রত্যাখানকারী তাদের দৃষ্টি নত হবে লজ্জ্বা, দুঃখ ও অপমানের ভয়ে। কারণ পার্থিব জীবনের অবাধ্যতা, উদ্ধতপনার পরিণাম তারা বিশেষ ভাবে সেদিন অনুধাবন করবে।
১০। [ বর্তমানে ] তারা বলে, " সে কি ! আমরা কি সত্যিই [ আমাদের ] পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব ? " ৫৯২৪
১১। " সে কি ! যখন আমরা গলিত পচা হাড় হয়ে যাব [ তখনও ] ? "
১২। তারা বলে, " তাই-ই যদি হয়, তবে তো ইহা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। "
১১। " সে কি ! যখন আমরা গলিত পচা হাড় হয়ে যাব [ তখনও ] ? "
১২। তারা বলে, " তাই-ই যদি হয়, তবে তো ইহা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। "
৫৯২৪। পৃথিবীর জীবনে সত্য প্রত্যাখানকারীরা থাকে অবাধ্য, উদ্ধত এবং বিদ্রূপকারী। তাদেরই বিদ্রূপের ভাষা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মনোভাব এরূপ, " হ্যাঁ, নিশ্চয়ই মৃত্যুই সকল কিছুর শেষ। যখন আমরা মুত্যুমুখে পতিত হব এবং কবরে নীত হব, সেখান থেকে কিভাবে আবার জীবিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব ? " তারা আরও বলে যে, " যদি সত্যিই তাই ঘটে, তবে তো আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন। কারণ আমাদের অস্থি,চর্ম-মজ্জা সব কিছুই পচনশীল অবস্থায় থাকবে।" তারা এইরূপ উক্তি করে অবিশ্বাসের কারণে বিদ্রূপাত্মক ভাবে। তাদের বিদ্রূপে কোন কিছুরই পরিবর্তন ঘটবে না। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, শেষ বিচারে অবশ্যই সকলকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেদিন তারা প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং দোযখই হবে তাদের শেষ পরিণতি।
১৩। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে,তা হবে একটি মাত্র আওয়াজ ৫৯২৫,
৫৯২৫। বিচার দিবস শুধুমাত্র একটি বিকট শব্দের অপেক্ষা মাত্র যার উল্লেখ আছে, সূরা [ ৩৭ : ১ ৯ ] এবং সূরা [ ৩৬ : ২৯, ৪৯ ] আয়াতে। এই বিকট শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, হঠাৎ করেই পাপীদের ইহজীবনের লীলা খেলা শেষ করে দেয়া হবে এবং পরলোকের জীবনে নীত করা হবে যেখানে তাদের বিচার করা হবে। দেখুন সূরা [ ৩৬ : ৫৩ ] আয়াত যেখানে শেষ বিচারের নীত হওয়ার উল্লেখ আছে।
১৪। যখন তারা [ বিচারের ] জন্য থাকবে [ পূর্ণ ] সচেতনতায় ৫৯২৬
৫৯২৬। মৃত্যুর সময় থেকে পরবর্তী অবস্থাকে ব্যক্তির জন্য ছোট কেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা যায়। দেখুন সূরা [ ৭৮ : ৪০ ] আয়াতের টিকা ৫৯১৪ ও সূরা [ ৭৫ : ২২ ] আয়াতের টিকা ৫৮২২ এবং সূরা [ ৭ : ৩৭] আয়াত। যখন প্রকৃত কেয়ামত সংঘটিত হবে তখন পুরানো চেনাজানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি হবে এবং সকলের পুনরুত্থান ঘটবে। মৃত্যু পরবর্তী ছোট কেয়ামত বা বিচারকে কবর আযাব বলা হয়।
