+
-
R
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা। এর সময়কাল সম্ভবতঃ সূরা কিয়ামত [ ৭৫ নং ] এর সমসাময়িক। দুটি সূরার বিষয়বস্তুর মাঝেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই সূরাতে সত্য প্রত্যাখানকারীদের প্রতি পরলোকের ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। " সত্য প্রত্যাখানকারীদের জন্য সেদিন হবে দূর্ভাগ্য" এই লাইনটি পঞ্চাশ আয়াতের এই সূরাতে দশবার পুণরাবৃত্তি করা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি পাঁচটি আয়াতে একবার বলা হয়েছে সঙ্গীতের ধূয়ার মত।
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
৫৮৬৩। সূরাটির শুরু হয়েছে পাঁচটি বস্তুর প্রতি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। শপথের এই বস্তুগুলি রূপক ধর্মী যা ৭নং আয়াতে বর্নিত স্বতন্ত্র বিশেষ ঘটনার প্রতি মনোযোগ আকষর্ণ করে। এই বিশেষ ঘটনাটি হচ্ছে শেষ বিচারের দিন, যা অবশ্যাম্ভবী। আমাদের সে দিনের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
শপথের বস্তুগুলি পার্থিব। পার্থিব এই পাঁচটি রূপকের মাধ্যমে তিনটি অতীন্দ্রিয় ভাবধারাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বয়নশিল্পে তাঁতের বিভিন্ন রংয়ের সূতাগুলি যেরূপ পাশাপাশি অবস্থান করে, এই তিনটি অতীন্দ্রিয় ভাবধারাও সেরূপ পাশাপাশি বিরাজ করে, পাঁচটি শপথের বস্তুগুলির মাধ্যমে রূপকের সাহায্যে পাঁচটি ধাপে [ ৭৭ : ১ -৫ ] আয়াতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে তিনটি ভাবধারাকে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিম্নরূপ : ক) পৃথিবীতে বায়ুর বৈশিষ্ট্য, খ) আধ্যাত্মিক জগতে ফেরেশতাদের কর্তব্য দায়িত্ব এবং গ) পার্থিব জগতে রসুলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যা আধ্যাত্মিক জগতের সাথে সমন্বিত। এই তিনটি ভাবধারাকে সংযুক্ত করা হয়েছে আল্লাহ্র কর্তৃত্বের সাথে।
রূপকের প্রকৃত অর্থ লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য, যা একমাত্র অনুভূতির মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
৫৮৬৪। প্রথম ভাবধারাটি যদি বায়ুর বৈশিষ্ট্য হয় তবে তার ব্যাখ্যা হবে পৃথিবীর জীবনে বায়ু এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই ভূমিকাকে ধারাবাহিকভাবে এ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে :
১) [ ৭৭ : ১ ] ভূমির উর্বরতা ও সজীবতা নির্ভর করে বৃষ্টির উপরে। সেই বৃষ্টির শুভ আগমন বার্তা বহন করে আনে বাতাস। দেখুন [ ১৫ : ২২ ] ; [ ৩০ : ৪৮ ]।
২) [ ৭৭ : ২ ] যদিও বৃষ্টি বাহিত বাতাস আর্শীবাদ স্বরূপ, তবুও সর্বক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কালবৈশাখীর ঝড় এবং প্রচন্ড টর্নেডো মানুষের জন্য আর্শীবাদ নয় বরং দুঃখ দুর্দ্দশার কারণ [ ৫১ : ৪১ - ৪২ ]।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] সঞ্চালনকারী বাতাস উদ্ভিদ জগতে বীজের বংশবিস্তারে বা সঞ্চালনে সাহায্য করে।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] বিচ্ছিন্ন কারী বায়ু,অর্থাৎ যে বায়ু মেঘসমূহ বিচ্ছিন্ন করে সঞ্চালন করে বা পরিবেশকে আবর্জনামুক্ত করে পরিশুদ্ধ করে। অর্থাৎ পরিশুদ্ধকারী।
৫) [ ৭৭ :৫ ] বাতাস শব্দের স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করে ঠিক সেরূপ আল্লাহ্র রসুলগণ আল্লাহ্র বাণীকে মানুষের অন্তরে পৌঁছে দেন।
এ সমস্ত জিনিষই আল্লাহ্র ক্ষমতা ও সেই সাথে তাঁর করুণাধারাকে প্রকাশ করে থাকে। আমাদের আল্লাহ্র করুণার উপরে নির্ভর করতে বলা হয়েছে ; আরও বলা হয়েছে যে, পরকালের বিচার অবশ্যই সংঘটিত হবে। এই আয়াতগুলির সাথে [ ৫১ : ১ - ৬ সূরা যারিয়াত ] আয়াতগুলির সদৃশ্য লক্ষ্য করুন।
৫৮৬৫। যদি দ্বিতীয় ভাবধারা, অর্থাৎ যদি বায়ু না হয়ে ফেরেশতা হয় তবে তার ব্যাখ্যা হবে নিম্নরূপ। ফেরেশতারা হচ্ছেন আল্লাহ্র হুকুম পালনকারী দাস - তাদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন। তাঁদের কার্যকে নিম্নলিখিত ভাবে প্রকাশ করা যায় :
১) [ ৭৭ : ১ ] তাদের আগমন পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরূপ,
২) [ ৭৭ : ২ ] তাঁরা অনেক সময়ে শাস্তি ও ধ্বংসের বারতা নিয়ে আসেন যেমন ঘটেছিলো লূতের সম্প্রদায়ের বেলাতে [ ১৫ : ৫৭ - ৬৬]।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] তাঁরা আল্লাহ্র করুণাকে মানুষের মাঝে বিতরণ করেন ঠিক যেরূপ বাতাস বীজের বিস্তার ঘটায়।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] তাঁরা মানুষের মাঝে ভালোকে মন্দ থেকে পার্থক্য বা বিচ্ছিন্ন করেন।
৫) [ ৭৭ : ৫ ] তারা হলেন আল্লাহ্র হুকুম সমূহ নবী রাসুলদের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমে বিশেষ। দেখুন উপরের টিকার ৫ নং বাক্য।
৫৮৬৬। তৃতীয় ভাবধারা : যদি বিষয়টি দ্বারা রসুলদের বুঝানো হয়, অথবা সেই সব প্রত্যাদেশ যা [ ৫ -৬] নং আয়াতের জন্য সার্থকভাবে রূপক হিসেবে প্রযোজ্য হবে তবে তা নিম্নরূপ :
১) [ ৭৭ : ১ ] নবী ও রসুলেরা একের পরে একজন ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীতে আগমন করেন। পৃথিবীর জন্য তাঁরা কল্যাণ স্বরূপ। কোরাণের আয়াত সমূহও ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ করা হয়েছে। উভয়ক্ষেত্রে তা করা হয় মানুষের আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির জন্য।
২) [ ৭৭ : ২ ] তাদের আগমন ছিলো পৃথিবীর অধঃপতিত মানবের মুক্তির জন্য। তারা পাপের সকল শাখা-প্রশাখা সমূলে উৎপাটিত করেন এবং সেখানে নূতন সমাজের পত্তন করেন ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] তাঁরা কাছে এবং দূরে সর্বত্র সত্যের বাণী নির্ভিক ভাবে প্রচার করেন।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] তাঁদের শিক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বাসীদের [ যারা আল্লাহ্র বিধান মানে ] পার্থক্য করা যায় অবিশ্বাসীদের [ যারা আল্লাহ্র বিধান মানেন না ] থেকে।
৫) [ ৭৭ : ৫ ] তারা আল্লাহ্র বাণী প্রচার করেন যার সাহায্যে বিশ্বাসীদের অনুতাপের মাধ্যমে আত্মসংশোধনের পথ প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মন্দ ও অন্যায়কারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
৫৮৬৭। নক্ষত্রের আলো নির্বাপিত হবে। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে তারারা অদৃশ্য হয়ে যাবে যেমন বলা হয়েছে সূরা [ ৮১ : ২ ] এবং [ ৮২ : ২ ] আয়াতে। আকাশ বিদির্ণ হয়ে যাবে যেমন বলা হয়েছে [ ৮২ : ১ ] এবং [ ৭৩ : ১৮ ] আয়াতে। পর্বত স্থানচ্যুত হয়ে ধূলায় পরিণত হবে যেমন বলা হয়েছে [ ৫৯ : ১৪ ] ; [ ৮১ : ৩ ] ইত্যাদি আয়াতে। অর্থাৎ পৃথিবীর অস্থিত্বের সাথে জড়িত আকাশ ও ভূমন্ডলের যে সব চিহ্ন বর্তমান সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
৫৮৬৮। এই বর্ণনা হচ্ছে পুণরুত্থান দিবসের বর্ণনা। সেদিন এই চেনা জানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। পৃথিবীতে যুগে যুগে নবী ও রসুলদের প্রেরণ করা হয়েছিলো মানুষের হেদায়েতের জন্য। পুণরুত্থান দিবসে তাঁদের সকলকে একত্রিত করা হবে এবং বিচার সভায় আনায়ন করা হবে সাক্ষী হিসেবে যেনো তাদের প্রচারিত বাণীর প্রেক্ষাপটে পূণ্যাত্মাদের সনাক্ত ও পাপীদের অভিযুক্ত করা যায়।
সূরা মুর্সালাত
Page 1 of 3
সূরা মুর্সালাত বা যাদের অগ্রে প্রেরণ করা হয় - ৭৭
৫০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি একটি প্রাথমিক মক্কী সূরা। এর সময়কাল সম্ভবতঃ সূরা কিয়ামত [ ৭৫ নং ] এর সমসাময়িক। দুটি সূরার বিষয়বস্তুর মাঝেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই সূরাতে সত্য প্রত্যাখানকারীদের প্রতি পরলোকের ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। " সত্য প্রত্যাখানকারীদের জন্য সেদিন হবে দূর্ভাগ্য" এই লাইনটি পঞ্চাশ আয়াতের এই সূরাতে দশবার পুণরাবৃত্তি করা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি পাঁচটি আয়াতে একবার বলা হয়েছে সঙ্গীতের ধূয়ার মত।
সূরা মুর্সালাত বা যাদের অগ্রে প্রেরণ করা হয় - ৭৭
৫০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
১। শপথ, অগ্রে প্রেরণকারী [ বাতাসের ] ৫৮৬৩, যাদের [ মানুষের কল্যাণের জন্য ] একে একে পাঠানো হয়। ৫৮৬৪
৫৮৬৩। সূরাটির শুরু হয়েছে পাঁচটি বস্তুর প্রতি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। শপথের এই বস্তুগুলি রূপক ধর্মী যা ৭নং আয়াতে বর্নিত স্বতন্ত্র বিশেষ ঘটনার প্রতি মনোযোগ আকষর্ণ করে। এই বিশেষ ঘটনাটি হচ্ছে শেষ বিচারের দিন, যা অবশ্যাম্ভবী। আমাদের সে দিনের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
শপথের বস্তুগুলি পার্থিব। পার্থিব এই পাঁচটি রূপকের মাধ্যমে তিনটি অতীন্দ্রিয় ভাবধারাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বয়নশিল্পে তাঁতের বিভিন্ন রংয়ের সূতাগুলি যেরূপ পাশাপাশি অবস্থান করে, এই তিনটি অতীন্দ্রিয় ভাবধারাও সেরূপ পাশাপাশি বিরাজ করে, পাঁচটি শপথের বস্তুগুলির মাধ্যমে রূপকের সাহায্যে পাঁচটি ধাপে [ ৭৭ : ১ -৫ ] আয়াতে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে তিনটি ভাবধারাকে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিম্নরূপ : ক) পৃথিবীতে বায়ুর বৈশিষ্ট্য, খ) আধ্যাত্মিক জগতে ফেরেশতাদের কর্তব্য দায়িত্ব এবং গ) পার্থিব জগতে রসুলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যা আধ্যাত্মিক জগতের সাথে সমন্বিত। এই তিনটি ভাবধারাকে সংযুক্ত করা হয়েছে আল্লাহ্র কর্তৃত্বের সাথে।
রূপকের প্রকৃত অর্থ লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য, যা একমাত্র অনুভূতির মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
৫৮৬৪। প্রথম ভাবধারাটি যদি বায়ুর বৈশিষ্ট্য হয় তবে তার ব্যাখ্যা হবে পৃথিবীর জীবনে বায়ু এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই ভূমিকাকে ধারাবাহিকভাবে এ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে :
১) [ ৭৭ : ১ ] ভূমির উর্বরতা ও সজীবতা নির্ভর করে বৃষ্টির উপরে। সেই বৃষ্টির শুভ আগমন বার্তা বহন করে আনে বাতাস। দেখুন [ ১৫ : ২২ ] ; [ ৩০ : ৪৮ ]।
২) [ ৭৭ : ২ ] যদিও বৃষ্টি বাহিত বাতাস আর্শীবাদ স্বরূপ, তবুও সর্বক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কালবৈশাখীর ঝড় এবং প্রচন্ড টর্নেডো মানুষের জন্য আর্শীবাদ নয় বরং দুঃখ দুর্দ্দশার কারণ [ ৫১ : ৪১ - ৪২ ]।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] সঞ্চালনকারী বাতাস উদ্ভিদ জগতে বীজের বংশবিস্তারে বা সঞ্চালনে সাহায্য করে।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] বিচ্ছিন্ন কারী বায়ু,অর্থাৎ যে বায়ু মেঘসমূহ বিচ্ছিন্ন করে সঞ্চালন করে বা পরিবেশকে আবর্জনামুক্ত করে পরিশুদ্ধ করে। অর্থাৎ পরিশুদ্ধকারী।
৫) [ ৭৭ :৫ ] বাতাস শব্দের স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করে ঠিক সেরূপ আল্লাহ্র রসুলগণ আল্লাহ্র বাণীকে মানুষের অন্তরে পৌঁছে দেন।
এ সমস্ত জিনিষই আল্লাহ্র ক্ষমতা ও সেই সাথে তাঁর করুণাধারাকে প্রকাশ করে থাকে। আমাদের আল্লাহ্র করুণার উপরে নির্ভর করতে বলা হয়েছে ; আরও বলা হয়েছে যে, পরকালের বিচার অবশ্যই সংঘটিত হবে। এই আয়াতগুলির সাথে [ ৫১ : ১ - ৬ সূরা যারিয়াত ] আয়াতগুলির সদৃশ্য লক্ষ্য করুন।
২। যা অতঃপর প্রলয়ংকারী ঝটিকা রূপে প্রবাহিত হয়; ৫৮৬৫
৫৮৬৫। যদি দ্বিতীয় ভাবধারা, অর্থাৎ যদি বায়ু না হয়ে ফেরেশতা হয় তবে তার ব্যাখ্যা হবে নিম্নরূপ। ফেরেশতারা হচ্ছেন আল্লাহ্র হুকুম পালনকারী দাস - তাদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন। তাঁদের কার্যকে নিম্নলিখিত ভাবে প্রকাশ করা যায় :
১) [ ৭৭ : ১ ] তাদের আগমন পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরূপ,
২) [ ৭৭ : ২ ] তাঁরা অনেক সময়ে শাস্তি ও ধ্বংসের বারতা নিয়ে আসেন যেমন ঘটেছিলো লূতের সম্প্রদায়ের বেলাতে [ ১৫ : ৫৭ - ৬৬]।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] তাঁরা আল্লাহ্র করুণাকে মানুষের মাঝে বিতরণ করেন ঠিক যেরূপ বাতাস বীজের বিস্তার ঘটায়।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] তাঁরা মানুষের মাঝে ভালোকে মন্দ থেকে পার্থক্য বা বিচ্ছিন্ন করেন।
৫) [ ৭৭ : ৫ ] তারা হলেন আল্লাহ্র হুকুম সমূহ নবী রাসুলদের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমে বিশেষ। দেখুন উপরের টিকার ৫ নং বাক্য।
৩। এবং [ বীজকে ] ছড়িয়ে দেয় দূর দূরান্তরে ;
৪। অতঃপর যা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে,
৫। অতঃপর দেশ-দেশান্তরে উপদেশ বিস্তার করে ৫৮৬৬
৬। সমর্থনের জন্য অথবা সতর্ক করার জন্য; -
৪। অতঃপর যা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে,
৫। অতঃপর দেশ-দেশান্তরে উপদেশ বিস্তার করে ৫৮৬৬
৬। সমর্থনের জন্য অথবা সতর্ক করার জন্য; -
৫৮৬৬। তৃতীয় ভাবধারা : যদি বিষয়টি দ্বারা রসুলদের বুঝানো হয়, অথবা সেই সব প্রত্যাদেশ যা [ ৫ -৬] নং আয়াতের জন্য সার্থকভাবে রূপক হিসেবে প্রযোজ্য হবে তবে তা নিম্নরূপ :
১) [ ৭৭ : ১ ] নবী ও রসুলেরা একের পরে একজন ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীতে আগমন করেন। পৃথিবীর জন্য তাঁরা কল্যাণ স্বরূপ। কোরাণের আয়াত সমূহও ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী অবতীর্ণ করা হয়েছে। উভয়ক্ষেত্রে তা করা হয় মানুষের আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির জন্য।
২) [ ৭৭ : ২ ] তাদের আগমন ছিলো পৃথিবীর অধঃপতিত মানবের মুক্তির জন্য। তারা পাপের সকল শাখা-প্রশাখা সমূলে উৎপাটিত করেন এবং সেখানে নূতন সমাজের পত্তন করেন ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে।
৩) [ ৭৭ : ৩ ] তাঁরা কাছে এবং দূরে সর্বত্র সত্যের বাণী নির্ভিক ভাবে প্রচার করেন।
৪) [ ৭৭ : ৪ ] তাঁদের শিক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বাসীদের [ যারা আল্লাহ্র বিধান মানে ] পার্থক্য করা যায় অবিশ্বাসীদের [ যারা আল্লাহ্র বিধান মানেন না ] থেকে।
৫) [ ৭৭ : ৫ ] তারা আল্লাহ্র বাণী প্রচার করেন যার সাহায্যে বিশ্বাসীদের অনুতাপের মাধ্যমে আত্মসংশোধনের পথ প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মন্দ ও অন্যায়কারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
৭। নিশ্চয়, তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা ঘটবেই।
৮। অতঃপর যখন নক্ষত্ররাজির আলো ক্ষীণ হয়ে আসবে ৫৮৬৭;
৮। অতঃপর যখন নক্ষত্ররাজির আলো ক্ষীণ হয়ে আসবে ৫৮৬৭;
৫৮৬৭। নক্ষত্রের আলো নির্বাপিত হবে। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে তারারা অদৃশ্য হয়ে যাবে যেমন বলা হয়েছে সূরা [ ৮১ : ২ ] এবং [ ৮২ : ২ ] আয়াতে। আকাশ বিদির্ণ হয়ে যাবে যেমন বলা হয়েছে [ ৮২ : ১ ] এবং [ ৭৩ : ১৮ ] আয়াতে। পর্বত স্থানচ্যুত হয়ে ধূলায় পরিণত হবে যেমন বলা হয়েছে [ ৫৯ : ১৪ ] ; [ ৮১ : ৩ ] ইত্যাদি আয়াতে। অর্থাৎ পৃথিবীর অস্থিত্বের সাথে জড়িত আকাশ ও ভূমন্ডলের যে সব চিহ্ন বর্তমান সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
৯। যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে ;
১০। যখন পর্বতমালা [ বাতাসে ] ধূলির ন্যায় বিক্ষিপ্ত হবে ;
১১। যখন রসুলদের [ সকলের হাজির হওয়ার জন্য ] সময়কে নির্ধারিত করা হবে ৫৮৬৮; -
১০। যখন পর্বতমালা [ বাতাসে ] ধূলির ন্যায় বিক্ষিপ্ত হবে ;
১১। যখন রসুলদের [ সকলের হাজির হওয়ার জন্য ] সময়কে নির্ধারিত করা হবে ৫৮৬৮; -
৫৮৬৮। এই বর্ণনা হচ্ছে পুণরুত্থান দিবসের বর্ণনা। সেদিন এই চেনা জানা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। পৃথিবীতে যুগে যুগে নবী ও রসুলদের প্রেরণ করা হয়েছিলো মানুষের হেদায়েতের জন্য। পুণরুত্থান দিবসে তাঁদের সকলকে একত্রিত করা হবে এবং বিচার সভায় আনায়ন করা হবে সাক্ষী হিসেবে যেনো তাদের প্রচারিত বাণীর প্রেক্ষাপটে পূণ্যাত্মাদের সনাক্ত ও পাপীদের অভিযুক্ত করা যায়।
