Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৫ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪৩২ বার
+ - R Print

সূরা জিন্‌

সূরা জিন্‌ -৭২

২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা ও সার সংক্ষেপ : এই সূরাটি মক্কী সূরাগুলির শেষার্ধে অবতীর্ণ হয়। হিজরতের দুবছর পূর্বে এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় সেই সময়ে রাসুলের (সা) উপরে মক্কাবাসীদের অত্যাচার নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছিলো। তাদের ঘৃণিত আচরণ ও প্রত্যাখানের ফলে আল্লাহ্‌র রাসুল (সা) দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে তায়েফ গমন করেন। কিন্তু তায়েফবাসীরা তাঁকে গ্রহণ করার পরিবর্তে তাঁর উপরে নির্যাতনের খড়্‌গ চালনা করে। রাসুলের (সা) সর্বোচ্চ মনঃকষ্টের কারণ ছিলো যা তা হচ্ছে তাঁর সাথে যে সব মোমেন বান্দারা গমন করেছিলেন তাদের প্রতি তায়েফবাসীদের নিষ্ঠুর নির্যাতন। তিনি ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মক্কাতে ফিরে আসেন। মক্কাতে ফেরার পথে তাঁর সম্মুখে অলৌকিক দৃশ্যের দ্বার উম্মুক্ত হয়। তিনি দেখেন যে অদৃশ্য আত্মারা তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ; যদিও তাঁর নিজ সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে প্রত্যাখান করে এবং নির্যাতন করে থাকে। এই ঘটনার দুমাসের মধ্যেই মদিনা থেকে আগত দুজন আগন্তুক গোপনে হযরতের (সা) কাছে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর এটাই ছিলো হিযরতের ভিত্তিপ্রস্তর যা পরবর্তীতে আরব তথা সমগ্র বিশ্বের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়।


সূরা জিন্‌ -৭২

২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

১। বল, " আমার প্রতি প্রত্যাদেশ ৫৭২৭ প্রেরণ করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল ৫৭২৮ [ কুরআন পাঠ ] শুনেছে।" তারা বলেছিলো, " আমরা তো এক বিস্ময়কর আবৃত্তি শুনেছি। ৫৭২৯

৫৭২৭। ওহী বা প্রত্যাদেশ বিভিন্নভাবে আল্লাহ্‌ পৃথিবীতে প্রেরণ করে থাকেন। আমাদের নবী হযরত মুহম্মদ মুস্তফা (সা) দিব্য দৃষ্টির সাহায্যে এবং অতিন্দ্রীয় শ্রবণ শক্তির সাহায্যে অদৃশ্য লোকের সকল কিছুই অনুধাবন করতে পারতেন। অদৃশ্যলোকের এরূপ একটি দৃশ্যের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে [ ৪৬ : ২৯- ৩২ ] আয়াতে এবং টিকা নং ৪৮০৯। জ্বিনেরা অবশ্যই অবগত ছিলো পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ যা হযরত মুসার নিকট প্রেরিত হয়েছিলো [ ৪৬ : ৩০ ] এবং এবং ক্রীশ্চানদের ত্রিতত্বের [ ৭২ : ৩ ] ভ্রান্তি সম্পর্কে। জ্বিনদের মাঝেও ভালো এবং মন্দের সংমিশ্রণ আছে। কিন্তু এই আয়াত সমূহে বলা হয়েছে যে তারা আল্লাহ্‌র একত্বের ধারণাকে শুনতে, বিশ্বাস করতে এবং প্রচার করতে দৃঢ় ভাবে আগ্রহী ছিলো।

৫৭২৮। জ্বিনদের জন্য দেখুন সূরা [ ৬: ১০০] আয়াতের টিকা ৯২৯। সাধারণভাবে জ্বিনদের সম্বন্ধে আমাদের বিশ্বাস যে, তারা আগুনের তৈরী অদৃশ্য প্রাণী। কিন্তু এই আয়াতের অর্থ যদি ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে জ্বিন শব্দটি প্রযোজ্য হতে পারে আরবের নব আগন্তুকদের সম্বন্ধে যারা নূতন ধর্ম ইসলামের বাণী শুনেছিলো এবং বিশ্বাস করেছিলো তাদের ধারণামতে।

৫৭২৯। পবিত্র কোরআনের বাণী তাদের নিকট বিস্ময়কর বলে প্রতীয়মান হয়। কোরানের বাণীর বিষয়বস্তু, সমসাময়িক মোশরেক আরবদের জীবনযাত্রার পটভূমিতে এই বাণীর গভীরতা সত্যিই বিষ্ময়কর।

২। " যা সঠিক পথ-নির্দ্দেশ দেয় এবং আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা আমাদের প্রভুর সাথে কখনও কাহাকেও শরীক করবো না।

৩। " এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদের প্রভুর মর্যদা ; তিনি গ্রহণ করেন নাই কোন পত্নী, না কোন সন্তান। ৫৭৩০

৫৭৩০। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে বিভিন্ন অপবাদকে শপথ দ্বারা পরিত্যাগ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র কোনও পত্নী নাই বা তিনি কোন সন্তানও গ্রহণ করেন নাই।

৪। " আমাদের মধ্যে কিছু নির্বোধ রয়েছে, যারা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে অবিবেচনাপ্রসূত মিথ্যা উচ্চারণ করে;

৫। " অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ এবং জিন্‌ আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে কখনও মিথ্যা আরোপ করবে না। ৫৭৩১

৫৭৩১। আল্লাহ্‌র একত্বের ধারণাকে বিকৃত করা মহাপাপ। যদি কেউ আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদার কল্পনা করে মিথ্যা দেব-দেবী পূঁজা করে, তবে সে স্রষ্টার প্রতি তার কর্তব্যে অবহেলা করে থাকে। আল্লাহ্‌ আমাদের স্রষ্টা, প্রতিপালক, যার কাছে আমাদের পৃথিবীর সকল কাজের হিসাব দাখিল করতে হবে। যদি আমরা দেব-দেবী, বা গ্রহ-নক্ষত্র [ জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে ], বা দেবতারূপে মানুষ পূঁজা [ পীর পূঁজা], অথবা যে কোনও বস্তু বা প্রাণীকে আমরা যদি আল্লাহ্‌র ক্ষমতার অংশীদার কল্পনা করি, অথবা আমরা যদি আত্মগর্বে নিজ ক্ষমতার মোহে আবিষ্ট হয়ে আত্মপূঁজাতে নিমগ্ন হই, সেক্ষেত্রে আমাদের আত্মিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। কারণ স্রষ্টার নিকট আত্মসমর্পনের মাধ্যমে আত্মার মিলন ঘটে পরমাত্মার সাথে যার ফলে আধ্যাত্মিক জগত হয় আলোকিত। আল্লাহ্‌র হেদায়েতের নূর তার সর্বসত্ত্বাকে উদ্ভাসিত করে তোলে। অপরপক্ষে আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদারিত্ব হচ্ছে সত্যের প্রতি বিদ্রোহের সামিল। যার প্রচন্ড হিংস্রতা আধ্যাত্মিক জগতকে ছিন্ন বিছিন্ন করে দেয়। ফলে আত্মিক শান্তি নষ্ট হয়ে আধ্যাত্মিক জগত অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।

৬। " এটা সত্যি যে, কিছু মানুষ কতক জিনের শরণ নিত, ফলে উহারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। ৫৭৩২

৫৭৩২। এই আয়াতের মাধ্যমে বিপথগামী মানুষ ও জ্বিনদের মনঃস্ততঃকে তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা কর্তব্যবিমুখ, অলস ও আরামপ্রিয়। তারা নিজস্ব কর্তব্যকে পরিহার করে সহজেই সব কিছু পেতে আগ্রহী হয়। ফলে তারা আল্লাহ্‌র প্রতি নির্ভরশীলতার কঠিন পথকে পরিহার করে রহস্যজনক শক্তির আশ্রয় নিতে আগ্রহী হয়ে থাকে। এই আয়াতে বলা হয়েছে তারা জ্বিনদের আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। আমাদের দেশে মাজারে ধর্না দেয়া বা রত্নপাথর ধারণ করা বা ভন্ডপীরের স্মরণাপন্ন হওয়া এই বিকৃত মানসিকতারই অংশ। নিজ কর্তব্যকে এড়িয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা সত্যিই নির্বোধের লক্ষণ। কারণ এই পৃথিবীতে এবং পরলোকের জীবনেও সবাইকে স্ব স্ব কর্তব্য কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সেই নির্বোধেরাই আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য শক্তির সাহায্য কামনা করে যারা পরলোকের জীবনে আল্লাহ্‌র বিচার এবং আল্লাহ্‌র নিকট জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী নয়। এই অবিশ্বাসের ফলে তাদের বিবেকের মাঝে সত্যের প্রদীপ নির্বাপিত হয়ে যায় ফলে তাদের আধ্যাত্মিক জগত তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অপরপক্ষে জ্বিন বা অন্য শক্তি আত্মম্ভরিতা ও আত্মগর্বে স্ফীত হয়ে সৃষ্টির মাঝে তাদের অবস্থানকে ভুলে যায়। যার ফলে তাদেরও অবস্থাও হয় আশ্রয়প্রার্থী মানুষের মত।

৭। " ফলে তারা চিন্তা করতে লাগলো, যেরূপ তোমরা করেছিলে, যে আল্লাহ্‌ কাউকেই [ মৃত্যুর পর] পুনরুত্থিত করবেন না [ বিচারের জন্য ]।

৮। " এবং আমরা আকাশের রহস্যের জন্য উঁকি মেরেছিলাম কিন্তু আমরা দেখেছিলাম যে, উহা কঠোর প্রহরী ও জ্বলন্ত আগুন দ্বারা পরিপূর্ণ। ৫৭৩৩

৫৭৩৩। দেখুন সূরা [ ১৫ : ১৭- ১৮] আয়াতের টিকা সমূহ ১৯৫১, ১৯৫৩, এবং ১৯৫৪। আরও দেখুন সূরা [ ৬৭ : ৫ ] আয়াতের টিকা ৫৫৬২। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে জ্বিনেরা তাদের পাপকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো এবং অনুতপ্ত হয়েছিলো। তাদের মাঝে যারা মন্দ তারা আল্লাহ্‌র তথ্য সমূহ আকাশ থেকে চুরি করে জানতে চেয়েছিলো কিন্তু তাদের সেই দুরভিসন্ধি সত্যের সদা জাগ্রত প্রহরীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ফিরে আসে। আকাশের সংবাদ সংগ্রহে তারা বাধা প্রাপ্ত হয় উল্কাপিন্ড দ্বারা।

৯। " আর পূর্বে আমরা [ চুরি করে ] সংবাদ শুনবার জন্য, [ গোপন ] ঘাটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেহ শুনতে চেষ্টা করলে ৫৭৩৪, সে তার উপরে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত আগুনের সম্মুখীন হয়,

৫৭৩৪। এই আয়াতে "এখন কেহ .................... " এই লাইনটিতে "এখন " শব্দটি দ্বারা কি বুঝাতে চাওয়া হয়েছে ? এই সূরাটি মক্কাতে ইসলামের প্রথম দিকে অবতীর্ণ হয়। ইসলাম পূর্বে মানুষ অদৃশ্য শক্তির কাছে নতি স্বীকারের জন্য অদৃশ্য শক্তিকে সন্তুষ্টি করার জন্য, অদৃশ্য জগতের সংবাদ আহরণের জন্য জ্বিন ও অন্যান্য শক্তির সাহায্য গ্রহণ করতো ও চেষ্টা করতো। এই আয়াতে পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, পবিত্র কোরাণে সকল সত্যকে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতারাং কোরাণ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে জ্বিন বা যাজকশ্রেণী বা ভন্ড পীর শ্রেণীর লোকেরা অদৃশ্য জগতের যে সংবাদের দাবীদার ছিলো তার আর কোনও যৌক্তিকতা রইল না। পবিত্র কোরাণ আল্লাহ্‌র একত্বের বাণীকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং মৃত্যু পরবর্তী জগতের সংবাদ দান করেছে। ; ইসলামের অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ধর্মের নামে যে সব বিভ্রান্তি,ধূম্রজাল, রহস্য, অলৌকিক কল্প কাহিনী, মিথ্যা প্রচারে তথাকথিত পূণ্যাত্মা নামধারী ভন্ডেরা লিপ্ত ছিলো, ইসলামের আগমনে, কোরাণের আবির্ভাবে মিথ্যার সেই ধূম্রজাল, বা উর্ণনাভ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কোরাণের এই ঐশ্বরিক ক্ষমতাকেই উল্কাপিন্ডের উপমার সাহায্যে তুলে ধরা হয়েছে। যারা এতদিন যাদুটোনা, বা অন্যান্য উপায়ে অদৃশ্য জগতের সংবাদের জন্য চেষ্টা করতো, তাদের সেই কলুষিত, অন্ধকার জ্ঞানের সময়সীমা শেষ ; কারণ কোরাণের ঐশী আলোকের উজ্জ্বল আভায় যাদু বা অন্যান্য অশুভ শক্তির অন্ধকার ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কোরাণের উপমা হচ্ছে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের ন্যায়। যেখানেই ধর্মের নামে যাজকবৃত্তি বা পীরের মাজার বা অলৌকিক কর্মকান্ড বা যাদুটোনার অবতারণা করা হয়, সেখানেই কোরাণের আলো বা জ্ঞান, তা ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়। সুতারাং কোরাণ ব্যতীত অন্য কোন জ্ঞান বা শক্তি ইসলাম অনুমোদন করে না।

১০। " এবং আমরা বুঝতে পারি না, যারা পৃথিবীতে আছে তাদের জন্য কোন অমঙ্গলের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে ৫৭৩৫, না তাদের প্রভু [ প্রকৃতই ] তাদের মঙ্গল আকাঙ্খা করেন।

৫৭৩৫। এই আয়াতগুলি জ্বিনদের বক্তব্য। কোরাণের যুগান্তকারী সত্য জ্বিন বা অশুভ শক্তির উপাসনাকারীদের জন্য ছিলো সম্পূর্ণ নূতন। এর উপমা হচ্ছে জ্বলন্ত তরবারীর ন্যায় যা অন্ধকার বা মিথ্যাকে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয় এবং সত্যের বাণীকে পৃথিবীর সম্মুখে উদ্ভাসিত করে তোলে। জ্বিনেরা মুক্তকন্ঠে স্বীকার করে যে, তারা জানে না যে, কোরাণের বাণী মানুষের মঙ্গল সাধন করবে, না মানুষ তা প্রত্যাখানের মাধ্যমে নিজের অমঙ্গল ডেকে আনবে। কিন্তু তারা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে সক্ষম হয়েছিলো যে, যদি কেউ প্রকৃত হেদায়েত কামনা করে তবে কোরাণ হচ্ছে আল্লাহ্‌র আর্শীবাদ।

১১। " আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা পূণ্যাত্মা, এবং অনেকে ইহার ব্যতিক্রম। [ কেননা ] আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী।

১২। " কিন্তু আমরা মনে করি যে, আমরা পৃথিবীতে কোন প্রকারেই আল্লাহকে ব্যর্থ করতে পারবো না, এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারবো না। ৫৭৩৬

৫৭৩৬। দেখুন উপরের টিকা। জ্বিনেরা শেষ পর্যন্ত বুঝতে সক্ষম হয়েছিলো যে, আল্লাহ্‌র বাণী এবং সত্য চির অক্ষয় ও অম্লান এবং তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবেই। আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যকে পরাভূত করার ক্ষমতা পৃথিবীর কোনও শক্তির নাই। আল্লাহ্‌র ক্ষমতার আওতার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারও নাই। যে আল্লাহ্‌র বিরোধিতা করে সে নিজেরই আত্মার ক্ষতি করে। সুতারাং কেন মানুষ আল্লাহ্‌র ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পন করে শান্তিময় জীবনের সন্ধান লাভ করে না ? কেন তারা বিশ্বাস বা ঈমানের রংএ নিজস্ব জীবনকে রাঙ্গিয়ে তোলে না ?