Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৫ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪২১ বার
+ - R Print

সূরা মুম্‌তাহিনা

সূরা মুম্‌তাহিনা বা যে মহিলাকে পরীক্ষা করা হবে - ৬০

১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা : মদিনায় অবতীর্ণ সূরা সমূহের যে দশটি সূরার শ্রেণীর উল্লেখ করা হয়েছে এটি হচ্ছে সেই শ্রেণীর চতুর্থ সূরা। এই শ্রেণীর প্রতিটি সূরা মুসলিম সম্প্রদায়ের জীবন ব্যবস্থার বিশেষ বিশেষ দিকগুলি আলোচনা করেছে।

এই সূরাতে যে বিষয়বস্তুর অবতারণা করা হয়েছে তা হচ্ছে, অবিশ্বাসী বা কাফেরদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক সম্ভব কি ? এ ব্যাপারে অবিশ্বাসীদের দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। একদল যারা তোমার ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য তোমাকে নির্যাতন করতে চায় এবং ধ্বংস করতে চায় ; অপরদল যাদের এরূপ কোনও অন্ধ বিদ্বেষ নাই। শেষোক্ত দলের জন্য আল্লাহ্‌র ক্ষমা ও করুণা লাভের সম্ভাবনা আছে। নারী ও অপর ধর্মে বিশ্বাসীদের বৈবাহিক সম্পর্কের উপরে আলোকপাত করা হয়েছে।

এই সূরার সময়কাল সম্বন্ধে বলা হয় যে, তা ছিলো হুদায়বিয়ার সন্ধিচুক্তি ভঙ্গের পর। দেখুন ৪৮ নং সূরার ভূমিকা। সম্ভবতঃ তা ছিলো ৮ম হিজরীতে - মক্কা বিজয়ের কিছু পুর্বে।

সার সংক্ষেপ : ধর্মের শত্রুরা তোমাকে ও তোমার বিশ্বাসকে ধ্বংস করতে উদগ্রীব। এরা তোমার ভালোবাসার পাওয়ার যোগ্য নয়। ইব্রাহীমের উদাহরণ অনুসরণ কর। যে সব অবিশ্বাসীরা তোমার প্রতি বিদ্বেষ ও আক্রোশ পোষণ না করে, তাদের সহানুভূতি ও ন্যায়ের সাথে ব্যবহার করবে। বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক। [ ৬০ : ১ - ১৩ ]।

সূরা মুম্‌তাহিনা বা যে মহিলাকে পরীক্ষা করা হবে - ৬০

১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


১। হে বিশ্বাসীগণ ! তোমাদের এবং আমার শত্রুদের, বন্ধু [ অথবা রক্ষাকর্তা ] হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের প্রতি [ তোমাদের ] ভালোবাসা নিবেদন কর ৫৪০৯ অথচ, তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে, তারা তা প্রত্যাখান করে, রসুলকে এবং তোমাদের [ মাতৃভূমি থেকে ] বহিষ্কার করেছে তার কারণ [ শুধুমাত্র ] এই যে, তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস স্থাপন কর ৫৪১০। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বের হও, [ তবে তাদের বন্ধু হিসেবে নিও না ]। তোমরা তাদের সাথে গোপনে ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব কর। তোমরা যা গোপন কর আর যা প্রকাশ কর, আমি তা খুব ভালোভাবেই জানি। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেউ তা করে, সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়।

৫৪০৯। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট ছিলো, নিম্নরূপ : মক্কা অভিযানের প্রস্তুতি চলাকালে হাবিব ইব্‌ন বালতা'আ নামে এক মোহাজের এই অভিযানের সংবাদ এক চিঠিতে গোপনে মক্কাবাসীদের জানিয়েছিলেন। তাঁর পরিবার পরিজন ছিলো মক্কায়। তিনি তার পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার সম্পর্কে শংকিত হয়ে, তাদের নিরাপত্তা প্রার্থনা করে এ কাজ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ্‌ (সা) ওহী মারফত এ কথা জানতে পারেন এবং চিঠিটা উদ্ধার করেন। হাবিব (রা) তার অন্যায় স্বীকার করেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যেহেতু তার কর্মের উদ্দেশ্য অসৎ প্রণোদিত ছিলো না সে কারণে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। এই ঘটনাটি ছিলো মক্কা বিজয়ের অল্প কিছু পূর্বের। এর আবেদন বিশ্বজনীন - যুগ কাল অতিক্রান্ত। যারা তোমার ও তোমার ধর্মের শত্রু, যারা তোমাকে ও তোমার ধর্মীয় বিশ্বাসকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের সাথে গোপনে অন্তরঙ্গতা প্রার্থনা করা উচিত নয়। এমন কাজ পরিবার পরিজনদের জন্যও করা উচিত নয় - কারণ এরূপ কর্ম দ্বারা সমগ্র সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা হয় হুমকির মুখে।

৫৪১০। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে হিজরতের পরে মদিনার মুসলিম সম্প্রদায়ের তৎকালীন অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে। সময় কালটি ছিলো মক্কা বিজয়ের পূর্বে।

২। যদি তারা তোমাদের হাতে পায় ৫৪১১, তবে তারা তোমাদের সাথে শত্রুর মত ব্যবহার করবে, এবং তোমাদের ক্ষতি সাধনের জন্য তাদের হস্ত ও রসনাকে প্রসার করবে। তারা কামনা করে যে, তোমরাও সত্যকে প্রত্যাখান কর।

৫৪১১। যেখানে ধর্ম ও নিজ সম্প্রদায় বিপন্ন, সেখানে শত্রুদের সাথে যে কোনও সখ্যতা হচ্ছে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। নিজ জনগণের সাথে বিশ্বস্ততার প্রশ্নটি এখানে জড়িত। এরূপ ক্ষেত্রে শত্রু পক্ষের যে আচরণ তাই-ই এই আয়াতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে শত্রুরা তোমাকে স্বাগত জানাবে - বিড়াল যেভাবে ইদুরকে স্বাগত জানায়। এরূপ ক্ষেত্রে শত্রুরা যখন তোমাকে ও তোমার সম্প্রদায়কে নিজেদের আয়ত্বে আনতে সক্ষম হবে তখন কি ঘটে ? তখন তারা তাদের নিজ মূর্তি ধারণ করে। তাদের আচরণ তখন হয় ভয়াবহ। তারা শুধু যে তাদের জিহ্বা ও হাত দ্বারাই তোমাকে কষ্ট দেয় তাই-ই নয়।তাদের ঘৃণার প্রকাশ ঘটে এই বাক্য দ্বারা " নিজ সম্প্রদায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতক।" যদি তারা মিষ্ট কথা বা আচরণ দ্বারা এখন তোমার সাথে ষড়যন্ত্র করতে চায়, তবে তা হচ্ছে তোমাকে সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য এবং তোমাকে তাদের পাপের পথে পরিচালিত করার জন্য। তারা কখনও তোমার মিত্র নয়।

৩। শেষ বিচারের দিনে তোমাদের আত্মীয় -স্বজন এবং তোমাদের সন্তান সন্তুতি কোন উপকারে আসবে না ৫৪১২। আল্লাহ্‌ তোমাদের মধ্যে বিচার করে দেবেন। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তা সুস্পষ্টভাবে দেখেন।

৫৪১২। এক অমোঘ সত্যকে এই আয়াতের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানানো হয়েছে। নিজ সম্প্রদায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকে কোন যুক্তির সাহায্যেই সমর্থন করা যাবে না। আত্মীয় -স্বজন, ও সন্তান -সন্ততি পরলোকে কোনও উপকারেই আসবে না। পরিবার -পরিজন বা সন্তান-সন্ততি সেদিন শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। সেদিন বিচারের ভার থাকবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র হাতে, যিনি বান্দার সর্ব গোপন ইচ্ছা ও কর্মের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জ্ঞাত।

৪। তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তার অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে [ অনুসরণের জন্য ] উত্তম আদর্শ ৫৪১৩। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলো, "তোমাদের সাথে, এবং তোমরা আল্লাহ্‌ ব্যতীত যাদের এবাদত কর তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। আমরা তোমাদের [ ধর্মকে ] প্রত্যাখান করি; আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরদিন শত্রুতা ও বিদ্বেষ বর্তমান থাকবে ; যতদিন না তোমরা একমাত্র আল্লাহ্‌র উপরে ঈমান আন ৫৪১৪। " তবে ব্যতিক্রম পিতার প্রতি ইব্রাহীমের উক্তি ; "আমি নিশ্চয়ই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো ৫৪১৫, যদিও আমি আল্লাহ্‌র তরফ থেকে তোমার জন্য [ শাস্তি এড়াবার ] কোন ক্ষমতা রাখি না।" [ তারা প্রার্থনা করেছিলো ] : " হে আমাদের প্রভু ! ৫৪১৬ আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি, এবং তোমার প্রতি আমরা অনুতাপের মাধ্যমে ফিরে যাই ; তোমার কাছেই [ আমাদের ] শেষ গন্তব্যস্থল।

৫৪১৩। দেখুন [ ৯ : ১১৪ ]। হযরত ইব্রাহীম ছিলেন দয়ালু ও তাঁর পিতা এবং সম্প্রদায়ের প্রতি অনুগত। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে এবং তাদের পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করেন। কিন্তু তার বার বার সাবধান বাণী সত্বেও তারা যখন তাদের পাপ থেকে বিমুক্ত হলেন না, বরং তারা হলেন আল্লাহ্‌র প্রকাশ্য শত্রু। এরূপ ক্ষেত্রে হযরত ইব্রাহীম তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়ের সাথে সকল সম্পর্ক -চ্ছেদ করেন এবং নিজ মাতৃভূমি ও স্বজন-পরিজন, ত্যাগ করে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। "তাহার অনুসারী " ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র লূত এবং অন্যান্য ধর্মাপরায়ণ বান্দা। যারা তাঁর সাথে নির্বাসনে গমন করেন।

৫৪১৪। যারা আল্লাহ্‌র শত্রু,তারা বিশ্বাসীদেরও শত্রু। এখানে আত্মীয়তার বন্ধন কোনও বড় কথা নয়। সুতারাং পূণ্যাত্মারা আল্লাহ্‌র শত্রুদের সাথে চিরজীবনের জন্য বন্ধন চ্ছেদ করবে, যতক্ষণ না তারা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ্‌র রাস্তায় ফিরে আসে। সে ক্ষেত্রে তারা আল্লাহ্‌র ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভে সক্ষম হবে এবং মোমেন বান্দাদের ভালোবাসা ও ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে এভাবেই পাপীদের জন্যও সুযোগ আছে। দেখুন নীচের আয়াত ৭। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই আমরা পাপী ও অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ দান করবো না।

৫৪১৫। সূরা [ ৯: ১১৪ ] ও টিকা ১৩৬৫ এবং পূর্বের টিকা নং ৫৪১৩ দেখুন অনুরূপ তথ্যাদির জন্য। হযরত ইব্রাহীম তার পাপিষ্ঠ পিতার জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তাঁর এই আচরণ অবশ্যই নিন্দনীয় ছিলো না। কারণ এটা একটা বিশেষ ঘটনা। এই ঘটনাকে কেউ যেনো অনুসরণীয় ঘটনা বলে না ভাবে।যারা দুর্বল চরিত্রের অধিকারী তারা যেনো পাপীদের সাথে অন্তরঙ্গতার ফলে নিজেই পাপের ফাঁদে আটকা না পড়ে।

৫৪১৬। হযরত ইব্রাহীমের এই মুনাজাত আমাদের পথ নির্দ্দেশ দান করে থাকে যে, পৃথিবীতে এই জীবনে আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হওয়া উচিত। আমাদের সকল বিশ্বাস, সমর্পিত হবে শুধুমাত্র সর্ব শক্তিমান আল্লাহ্‌র প্রতি। আমাদের ও আমাদের পরিজনের রক্ষার জন্য আমরা কোনও অবস্থাতেই আল্লাহ্‌ ব্যতীত আল্লাহ্‌র শত্রুদের সাহায্য কামনা করবো না।

৫। "হে আমাদের প্রভু ! তুমি আমাদের অবিশ্বাসীদের পীড়নের পাত্র করো না ৫৪১৭; আমাদের ক্ষমা কর। হে আমাদের প্রভু ! তুমি তো মহাপরাক্রমশালী, প্র্‌জ্ঞাময়। ''

৫৪১৭। সূরা [ ৮ : ২৫ ] আয়াতের টিকা ১১৯৮ তে 'Fitnat' শব্দটির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সূরা [ ২ : ১০২ ] আয়াতে হারুত ও মারুতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে হারুত ও মারুত ছিলেন পূণ্যাত্মা ও পাপীদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। যিনি পূণ্যাত্মা তিনি তাঁর সকল বিশ্বাস আল্লাহ্‌র উপরে ন্যস্ত করবেন। অপরপক্ষে যারা অবিশ্বাসী, তারা সর্বান্তকরণে আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীল হবে না - তারা পাপের পথে ও কুসংস্কারের বেড়াজালে মুক্তির পথ হাতড়ে বেড়াবে। এই আয়াতে আল্লাহ্‌র নিকট প্রার্থনা করা হয়েছে যে : আমাদের ঈমান যেনো এতটা দুর্বল না হয় যাতে কাফেররা আমাদের আক্রমণ করে ধ্বংস করার জন্য প্রলুব্ধ হয়। আল্লাহ্‌ যেনো আমাদের এই দুর্বলতা থেকে রক্ষা করেন।

৬। তোমরা যারা আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের [কল্যাণের ] প্রত্যাশা কর, নিশ্চয়ই তোমাদের অনুসরণের জন্য তাদের মধ্যে ৫৪১৮, রয়েছে উত্তম আদর্শ। কিন্তু কেউ যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, অবশ্যই আল্লাহ্‌ সকল অভাবমুক্ত, সকল প্রশংসার যোগ্য ৫৪১৯।

৫৪১৮। "তাহাদের মধ্যে " - অর্থাৎ তাদের প্রার্থনা, আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীলতা এবং পাপ বা মন্দ থেকে দূরে অবস্থানের মধ্যে। এরা হলেন হযরত ইব্রাহীম ও তাঁর অনুসারীরা।

৫৪১৯। যদি কেউ আল্লাহ্‌র বাণী বা আইন বা জীবন বিধানকে প্রত্যাখান করে, তবে ক্ষতি আল্লাহ্‌র নয়, তারই। আল্লাহ্‌ অভাবমুক্ত। তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। কারও এবাদত বা ত্যাগ বা প্রশংসায় তার প্রয়োজন নাই। আল্লাহ্‌ এ সবের বহু উর্দ্ধে। সমস্ত সৃষ্টিতে, বিশ্ব -ভূবনের অণু-পরমাণুতে তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছড়িয়ে আছে। যে তা উপলব্ধিতে সক্ষম, লাভ তারই। যে উপলব্ধি করে না ক্ষতি তারই। আল্লাহকে প্রশংসা করার মাধ্যমেই আত্মার মুক্তি ঘটে। আল্লাহ্‌ অভাবমুক্ত। আমাদের প্রশংসার তার প্রয়োজন নাই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় : সুন্দর দৃশ্য বা প্রকৃতির অপরূপ রূপরাজি দর্শনে হৃদয়ে বিমল আনন্দের সৃষ্টি হয়, আত্মা হয় বিমোহিত, পরিতৃপ্ত, শান্ত। ব্যক্তির এই অনুভূতি দ্বারা প্রকৃতির কোনও উপকার হয় না - প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়ম ও সৌন্দর্যে ভাস্বর থাকে। উপকার যা তা ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি। যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে অক্ষম সে হতভাগ্য প্রকৃতি তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনুভূতিহীন ব্যক্তি। ঠিক সেরূপ হচ্ছে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ্‌ প্রেম, পাপীদের বিরুদ্ধাচাণে আল্লাহ্‌র কোনও ক্ষতি নাই - অপরপক্ষে আল্লাহ্‌ প্রেমে পূণ্যাত্মাদের হৃদয় হয় আলোকিত, শান্ত, নিবিড় অনুভূতিতে আপ্লুত।