Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৩ জন
আজকের পাঠক ২০ জন
সর্বমোট পাঠক ১২৪০৯০ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ৮৩৪০২ বার
+ - R Print

সূরা আল্‌-আন্‌-আম

সূরা আল্‌-আন্‌-আম বা পশু - ৬

আয়াত ১৬৫, রুকু ২০, মাক্কী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]



ভূমিকা : ক্রম অনুযায়ী মক্কার অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে এই সূরাটির অবস্থান শেষাংশে। এই সূরার অধিকাংশ মক্কাতেই নাযেল হয়। কোরআন শরীফে এই সূরাটি অবস্থান যক্তিযুক্তভাবে প্রথাগত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা মানব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাস অবলোকন করেছি, পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশের আলোচনা এবং কিভাবে দূর্নীতি রাহুগ্রস্থ হয়ে হায়িয়ে যায় তা বলা হয়েছে। নূতন সম্প্রদায়ের সংঘবদ্ধ জীবন প্রণালী, আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাস যা ইসলামের (হযরত ইব্রাহীমের ধর্ম) মূল মন্ত্র তা থেকে ইহুদী ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের বিচ্যুতি এসব বিষযে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরব মোশরেক-দের পৌত্তলিকতাকে এ একত্ববাদের পটভূমিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সার-সংক্ষেপ : আল্লাহ্‌র প্রকৃতি এবং যে ভাবে বিশ্ব প্রকতির মালিক নিজেকে প্রকাশ করেন তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং সেই সাথে মোশরেকদের বহু-ঈশ্বরাবাদের গুরুত্বহীনতাকে তুলে ধরা হয়েছে। [৬:১-৩০]

এই অপূর্ব সুন্দর পৃথিবী আল্লাহ্‌র বিষ্ময়কর সৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শন। কিন্তু এই সুন্দর পৃথিবীর জীবন পরকালের জীবনের তুলনায় মূল্যহীন। যা কিছু অদৃশ্য,অশ্রুত গোপনীয় সবই আল্লাহ্‌ জ্ঞাত। [৬:৩১-৬০]

এই পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এর রক্ষণাবেক্ষণ, ধারাবাহিকতা সবই সেই স্রষ্টার একাত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। একথা হযরত ইব্রাহীমের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি মুশরিকদের সাথে যুক্তিকে লিপ্ত হয়েছিলেন। [৬:৬১-৮২]

হযরত ইব্রাহীমের বংশধরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁর সত্যকে চিরদিন ভাস্বর রেখেছেন এবং শেষ প্রর্যন্ত তা কোরআন শরীফে এসে শেষ হয়। যদি কেউ আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে অনুধাবন করেতে চেষ্টা করে এবং সৃষ্টির সমন্বয়, ধারাবাহিকতার শৃঙ্খলা ইত্যাদি সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে, তবে এমন কি কেউ আছে যে আল্লাহর মহিমা, দয়া তার প্রত্যাদেশ অনুধাবনে ব্যার্থ হবে।' [৬:৮৩-১১০]

অবাধ্য ও বিদ্রোহীরাই প্রতারিত হয়। তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। যদিও তারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী তবুও তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না। [৬:১১১-১২৯]

বিদ্রোহীদের অপরাধ ও কুসংস্কার সত্বেও আল্লাহ্‌র হুকুম প্রতিষ্টিত হবেই। [৬:১৩০-১৫০]

সরলপথের অনুসরণ করাই হচ্ছে উত্তম পথ। কোরআনের নিদ্দের্শ অনুযায়ী এই হচ্ছে আল্লাহ্‌ নির্দ্দেশিত পথ। সুতরাং এই পথকে অনুসরণ করার জন্য আমাদের একতাবদ্ধ ভাবে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। [৬:১৫১-১৬৫]

সূরা আল্‌-আন্‌-আম বা পশু - ৬

আয়াত ১৬৫, রুকু ২০, মাক্কী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে]



০১। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; এবং তৈরী করেছের অন্ধকার ও আলো। তা সত্বেও কাফিরগণ [অপরকে] তাদের অভিভাবক প্রভুর সমকক্ষ দাঁড় করায় ৮৩৪,৮৩৫।

৮৩৪। 'Adala' এই আরবী শব্দটি বিভিন্ন অর্থবোধক। বিভিন্ন আয়াতে এর বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে (১) কাউকে সমকক্ষ দাঁড় করানো; ভারসাম্য রাখা (২) সকলের সাথে ন্যায়ের আচারণ করা [৮২:১৫], (৩)ক্ষতিপূরণ বা পূণর্বাসন বা সমভাবে বিনিময় [৬:৭০], (৪) সঠিক বিলিবন্দোবস্ত, নিরপেক্ষতা [৮২:৭], (৫) ন্যায়ের ভারসাম্য নষ্ট করা, পক্ষ-পাতিত্ব করা [৬:১৩৫]।


৮৩৫। এখানে তিন ধরনের যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে (১) দ্যুলোকে-ভূলোকে, আসমান যমীনে যা আমাদের দৃষ্টি সীমার মধ্যে সবই আল্লাহ্‌র সৃষ্টি। তাহলে তাঁরই সৃষ্ট জিনিষ কি ভাবে তাঁর সমকক্ষ হতে পারে? (২) তিনি তোমার অভিভাবক প্রভু। তিনি সস্নেহে তোমাদের প্রতিপালন করেন এবং ভালোবাসেন। তবে কি ভাবে তোমরা এতটা অকৃতজ্ঞ হতে পারে যে তোমরা তাকে ত্যাগ করে শেরেকের পিছনে ছুটে বেড়াও।(৩) আলো এবং অন্ধকার তোমাদের শিক্ষা দেয় সত্য ও মিথ্যার মধ্যে প্রভেদ করার; তাহলে কিভাবে তোমরা এক আল্লাহ্‌র সাথে মিথ্যা ঈশ্বরের ধারণা মিশ্রিত করে ফেলো এবং অন্ধ কুসংস্কারে বিশ্বাস স্থাপন কর? প্রাচীন পারস্যে ঈশ্বরাবাদে আলো ও আঁধারকে বিপরীতধর্মী শক্তি হিসেবে পূঁজো করা হতো, কিন্তু আলো আঁধার সবই এক সৃষ্টার সৃষ্টি।

০২। তিনিই তোমাদের কাদা-মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন ৮৩৬। এবং তারপর [তোমাদের জন্য পৃথিবীতে] সীমিত সময় বিধিলিপি করেছেন ৮৩৭। এবং তাঁর উপস্থিতিতে আর একটি কাল নির্দ্দিষ্ট করেছেন [পুণরুত্থানের জন্য]। তবুও তোমরা সন্দেহ কর [পুণরুত্থানের]!

৮৩৬। সারা বিশ্ব প্রকৃতি সৃষ্টার আরাধনায় নিমগ্ন । তাঁর অধিষ্ঠান সর্বোচ্চ। এ অনুভব যুক্তির তর্কের উর্দ্ধে। মানব সন্তান,যার উৎপত্তি নিকৃষ্ট কাদা থেকে সে কি ভাবে সুউচ্চ মহান স্রষ্টার বিরোধিতা করে। কি ভাবে সন্দেহ প্রকাশ করে, কিভাবে সে ভুলে যায় যে, পৃথিবীর জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, এ জীবন পরকারের জন্য শিক্ষানবীশকাল মাত্র। এই শিক্ষানবীশ কালের শেষে তাকে পরকালের হিসাব নিকাশের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে উপস্থিত হতে হবে।

৮৩৭। পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবন, পরকালের জীবনের জন্য শিক্ষানবীশ কাল মাত্র। একেই বলা হয়েছে নির্দ্দিষ্ট কাল। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের শেষে এই জীবনের হিসাব নিকাশের জন্য উপস্থিত হতে হবে।

০৩। আকাশ ও পৃথিবীতে তিনিই আল্লাহ্‌। তিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর, এবং যা তোমরা প্রকাশ কর। তোমরা [তোমাদের কাজের বিনিময়ে ] যা অর্জন কর তিনি [তার বিনিময়] জানেন ৮৩৮।

৮৩৮। দুলোকে, ভূলোকে, আসমান, যমীনে সর্বত্রই আল্লাহর অস্তিত্ব বর্তমান। যা মাত্র মুর্খরাই ভাবতে পারে যে আল্লাহ্‌ সপ্ত আশমানের উপরে তাঁর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত আছেন; মাটির পৃথিবীতে তাঁর অধিষ্ঠান নাই। এই পৃথিবীর প্রতেটি ধূলি কণায় তাঁর অস্তিত্ব বিদ্যমান। এমন কি আমাদের অন্তরের গোপন চিন্তা-ভাবনা কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না । কাজের নিয়ত সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল। আমাদের কাজ যদি শুধু মাত্র খ্যাতি অর্জনের নিমিত্তে এবং লোকের প্রশংসা অর্জনের জন্য হয়ে থাকে তবে তা স্রষ্টার অগোচরে থাকে না। আল্লাহ্‌ আমাদের বিচার করবেন কাজের নিয়ত ও কাজ দ্বারা। ভালো ও মন্দ কাজের জন্য তুল্য বিনিময় করবেন।

০৪। তাদের প্রভুর নিকট থেকে এমন একটি নিদর্শনও তাদের নিকট পৌঁছানো হয় না যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে না নেয়।

০৫।এবং যখন সত্য তাদের নিকট পৌঁছেছে, তারা তখন প্রত্যাখান করেছে। কিন্তু শীঘ্রই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করতো তার সত্যতা সম্বন্ধে জানতে পারবে।

০৬। তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠিকে আমি ধ্বংস করেছি? ৮৩৯। আমি তাদের দুনিয়াতে শক্তিতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদের করি নাই। আমি তাদের উপর আকাশ থেকে বৃষ্টির ধারা বর্ষণ করেছিলাম এবং তাদের [পাদদেশে জমি উর্বর করার জন্য] নদী প্রবাহিত করেছিলাম । এরপরও তাদের পাপের জন্য আমি তাদের ধ্বংস করেছিলাম, এবং তাদের পরে অন্য মানব গোষ্ঠি সৃষ্টি করছি [তাদের উত্তরাধীকারী হওয়ার জন্য।

৮৩৯। এই আয়াতে মানব ইতিহাসের উত্থান ও পতনের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন ইতিহাসের শিক্ষা দান করা হয়েছে। যদি আমরা শক্তি, দম্ভে, অহংকারে মদমত্ত হয়ে এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ভুলে যাই, তবে বর্তমান জীবনের চাকচিক্য ও সর্বোচ্চ অধিষ্ঠান আমাদের অন্তর্দৃষ্টি হরণ করে নেবে। আমাদের চোখ থাকতেও দেখতে পারবো না, মন থাকতেও বুঝতে পারবো না, জ্ঞান থাকতেও অবুঝ হয়ে যাব । তাই আল্লাহ্‌ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে পৃথিবীতে বহু শক্তিশালী জাতি, যারা জ্ঞান, বিজ্ঞান , সভ্যতার আলোকে পৃথিবীকে করেছিল আলোকিত, তারা পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে গেছে। কারণ তাদের প্রতি আরোপিত কর্তব্য করতে হয়েছিল অপারগ। আমাদের তাদের দেখে শিখতে বলা হয়েছে। যদি আমরা উদাহরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করি, তবে আমাদের অবস্থা ঠিক তাদের মতই হবে। এই সত্য, এই-ই ইতিহাসের শিক্ষা। যাদের মধ্যে থাকবে বিশ্বাসের অপূর্ণতা শুধু তারাই এই শিক্ষা গ্রহণ থেকে হবে বিমুখ।

০৭। আমি যদি তোমার নিকট কাগজে লিখিত [বাণী] ৮৩৯-ক প্রেরণ করতাম,যেনো তা হাত দ্বারা স্পর্শ করতে পারে; [তবুও] কাফেররা নিশ্চিত বলতো, "এটা স্পষ্ট যাদু ব্যতীত আর কিছুই নয় ৮৪০।

৮৩৯-ক। 'Qirtas', রসূলের সময়ে যে সামগ্রী লেখার জন্য কাগজের পরিবর্তে ব্যবহার করা হতো তাকেই উপরের শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে। মওলানা ইউসুফ আলী শব্দটি ইংরেজী অনুবাদ করেছেন 'Parchment' বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে 'কাগজ' শব্দটি দ্বারা। পার্চমেন্ট খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে পশ্চিম এশিয়াতে লেখার জন্য ব্যবহৃত করা হতো। বর্তমান যুগে লেখার জন্য যে কাগজ ব্যবহার করা হয়, তা আরবেরা প্রথম ব্যবহার করে ৭৫১ খৃষ্টাব্দে সমরখন্দ বিজয়ের পরে।চীনদেশের লোকেরা খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতব্দী থেকেই কাগজের ব্যবহার জানতো। আরবরাই ইউরোপে প্রথম কাগজের ব্যবহার প্রচলন করে। গ্রীসে একাদশ বা দ্বাদশ শতাব্দীতে কাগজের ব্যবহার প্রচলন হয়। দ্বাদশ শতব্দীতে সিসিলির মাধ্যমে ইতালীতে কগজের ব্যবহরের প্রচলন হয়। খৃষ্ট জন্মের ২৫০০বৎসর পূর্বে প্রাচীন মিশরীয়রা নল-খাগরা থেকে প্যাপিরাস তৈরী করে। এই প্যাপিরাসকেই তারা লেখার জন্য ব্যবহার করতো। দশম শতাব্দীতে প্যাপিরাসের স্থান দখল করে নেয় কাগজ।

৮৪০। বস্তু বাদী লোকেরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু ব্যতীত আর কিছুরই অস্তিত্ব স্বীকার করতে চায় না। যা তারা পঞ্চ ইন্দ্রিয়দ্বারা অনুভব করতে পারবে, শুধু তারই অস্তিত্ব তারা স্বীকার করে। এর বাইরে অদৃশ্য জগতের অস্তিত্ব সম্বন্ধে তারা হয় সন্দিহান। তাই এরূপ কোন বস্তু যখন কোনও অপার্থিক উৎস থেকে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়, যা তারা অনুধাবনে অধম, তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করে। তারা তকে অভিহিত করে ম্যাজিক বা কুসংস্কার বা অন্য কোনও নামে। যা তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে মজবুত করার কথা, তার পরিবর্তে তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়। কারণ তাদের "অন্তরে ব্যাধি" [২:১০]

০৮। তারা বলে ," তাঁর নিকট একজন ফেরেশতাকে কেন প্রেরণ করা হয় না"? যদি আমি ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তাহলে তৎক্ষণাত ঘটনার মীমাংসা হয়ে যেতো। এবং তাদের কোন অবকাশ দেয়া হতো না ৮৪১।

৮৪১। দেখুন [২:২১০] আয়াত। ফেরেশতা আল্লাহ্‌র দূত, তারা আল্লাহ্‌র হুকুম তামিল করার জন্য সদা নিয়োজিত। আমরা মর্তের সাধারণ মানুষ। এই নশ্বর দেহ যতক্ষণ আমাদের ধারণ করে থাকতে হবে, ততক্ষণ আমরা এসব স্বর্গীয় দূতদের দেখার ক্ষমতা লাভ করবো না। যেহেতু আমরা মাটির পৃথিবীতে নশ্বর দেহকে অবলম্বন করে আমাদের জীবন-যাপন করি- শত দোষ-ত্রুটি, শত পাপ আমাদের কর্মপ্রণালী ও চিন্তাধারাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। এসব থেকে মুক্ত হয়ে পূত পবিত্র জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য, অনুতাপের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্খা আত্মার মাঝে সৃষ্টি করার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ্‌ আমাদের অবকাশ দান করেন। কিন্তু এই"অবকাশ"- কে কেউ যদি আল্লাহ্‌র রহমতের সন্ধানে নিয়োজিত না করে, আল্লাহ্‌র দূত বা ফেরেশতা চর্মচক্ষে দেখে নিজের পঞ্চইন্দ্রিয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চায়, তবে সেখানে আত্মিক উন্নতির সুযোগ কোথায়? ধর্মের গোড়ায় কথাই হচ্ছে, অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করা। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, যদি তারা তাদের নশ্বর দেহ নিয়ে, ইন্দ্রিত দ্বারা আল্লাহ্‌র দূতদের দেখতে পেতো, তবে তারা সবাই সাথে সাথেই ধ্বংস হয়ে যেতো। আলোর উদয়ে যেমন- অন্ধকার মুহুর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় ঐ সব অবিশ্বাসীরা মূহুর্তের মধ্যে সেরূপ নিঃশেষ হয়ে যেতো।