Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৫ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪১৯ বার
+ - R Print

সূরা মুজাদালা

অষ্টবিংশতি পারা

সূরা মুজাদালা বা আবেদনকারীনী মহিলা - ৫৮

২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা : পূর্বের সূরার ভূমিকাতে, মদিনাতে অবতীর্ণ যে দশটি সূরার উল্লেখ করা হয়েছিলো তন্মোধ্য এটি দ্বিতীয়। এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে মহিলা এবং তাঁর সন্তানদের পক্ষ থেকে কৃত মহিলাটির আবেদন যা আল্লাহ্‌ কর্তৃক গ্রহণ [ দেখুন ৫৮ : ১ আয়াতের টিকা ৫৩৩০ ] করা হয়েছিলো। মুসলিম ভাতৃত্বের অভ্যন্তরে গোপন শলাপরামর্শ ও ষড়যন্ত্রকে নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।

এই সূরার অবতীর্ণ কাল ৩৩ নং সূরার অবতীর্ণ কালের সমসাময়িক এবং সম্ভবতঃ তা পঞ্চম থেকে সপ্তম হিজরীর মধ্যে।

সার সংক্ষেপ : মহিলাদের সম্মান ধ্বংসকারী সকল মিথ্যা কথাকে নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ঠিক সেইরূপ করা হয়েছে সকল মিথ্যা ষড়যন্ত্র, বিবাদ - বিসংবাদ এবং শলা পরামর্শকে। [ ৫৮ : ১ - ২২ ]

সূরা মুজাদালা বা আবেদনকারীনী মহিলা - ৫৮

২২ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


১। আল্লাহ্‌ অবশ্যই শুনেছেন সেই নারীর বক্তব্য [ এবং গ্রহণ করেছেন ], যে তার স্বামীর সম্বন্ধে তোমার নিকট আবেদন করেছিলো ৫৩৩০ এবং [ প্রার্থনার মাধ্যমে ] তার অভিযোগ আল্লাহ্‌র নিকট পেশ করেছিলো। আল্লাহ্‌ তোমাদের উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক [ সব সময়ে ] শুনছিলেন ৫৩৩১, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ [ সব ] শোনেন ও [ সব ] দেখেন।

৫৩৩০। এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি হচ্ছে তালাবার কন্যা খাওলার ঘটনা। তিনি ছিলেন সামীতের পুত্র আউসের স্ত্রী। যদিও আউস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তবুও তিনি তার স্ত্রীকে মোশরেক আরবদের প্রথামত, 'জিহারের ' মাধ্যমে ত্যাগ করেন। 'জিহারের' সজ্ঞা হচ্ছে স্বামী স্ত্রীকে সম্বোধন করে বলবে, " তুমি আমার নিকট আমার মায়ের পৃষ্ঠদেশের ন্যায়।" প্যাগান আরবদের প্রথা অনুযায়ী এর দ্বারা স্বামী তার স্ত্রীর ভরণ পোষণ এবং স্বামীর সর্ব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায় কিন্তু স্ত্রীর তার স্বামীর ঘর ত্যাগ করে অনত্র গমন বা অন্য ব্যক্তিকে বিবাহের অধিকার থাকে না। 'জিহার' এর এরূপ চুক্তি মহিলাদের জন্য শুধু অবমাননাকরই ছিলো না, তা ছিলো তাদের জন্য দুঃখ-দুর্দ্দশার কারণ। খাওলার জন্য জিহারের শর্ত গুলি ছিলো অতীব দুর্দ্দশার কারণ। প্রথমতঃ খাওলা তাঁর স্বামীকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন উপরন্তু তাঁর ছিলো ছোট ছোট সন্তান যাদের ভরণ-পোষণের কোনও সঙ্গতিই তার ছিলো না। জিহারের শর্ত অনুযায়ী সন্তানদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আর পিতার থাকবে না। কি অমানবিক ও অমানুষিক শর্ত ও প্রথা। এরই প্রেক্ষাপটে খাওলা আল্লাহ্‌ নিকট প্রার্থনা করেন এবং রাসুলের (সা) নিকট আবেদন জানান। তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ্‌ কবুল করেন এবং মিথ্যা শব্দ সমষ্টির উপরে প্রতিষ্ঠিত এই জঘন্য প্রথার বিলুপ্তি ঘটান। দেখুন সূরা [ ৩৩ : ৪ ] আয়াতের টিকা নং ৩৬৭০।

৫৩৩১। আল্লাহ্‌র অন্যতম উপাধি, তিনি ন্যায় বিচারক। মানুষের অধিকারকে, মিথ্যা প্রথা, বা সংস্কার বা মিথ্যা ভণিতা দ্বারা খর্ব করার মত অন্যায়কে আল্লাহ্‌ প্রশ্রয় দান করেন না। এমন কি যে দুর্বল তার ফরিয়াদও আল্লাহ্‌ শোনেন।

২। যদি তোমাদের মধ্যে কেহ স্ত্রীদের জিহার ৫৩৩২ [আপন ময়ের সাথে তুলনা] করে পরিত্যাগ করে; তারা তাদের মাতা হতে পারে না ; তাদের যারা জন্ম দিয়েছে [প্রসব করেছে], তারা ব্যতীত। প্রকৃতপক্ষে তারা অন্যায় ও মিথ্যা শব্দ [উভয়ই] ব্যবহার করছে ৫৩৩৩। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ পাপ মোচনকারী ৫৩৩৪ এবং বারে বারে ক্ষমাশীল।

৫৩৩২। দেখুন উপরের টিকা ৫৩৩০।

৫৩৩৩। "প্রকৃতপক্ষে তারা অন্যায় ও মিথ্যা শব্দ [উভয়ই] ব্যবহার করছে।" জিহারের প্রথা এবং যে কথা দ্বারা স্ত্রীকে ত্যাগ করা হয় সবই অন্যায় এবং অসত্য। এর দ্বারা স্ত্রী তালাক্‌ হয় না।

৫৩৩৪। দেখুন সূরা [ ৪ :৯৯ ] আয়াত এবং [ ২২ : ৬০ ] আয়াত। সাধারণ মানুষ কেহই ভুল ত্রুটির উর্দ্ধে নয়। মানুষের দুর্বলতা মনমানসিকতা, বিভিন্ন উদ্দেশ্য তাকে ভুলের পথে পরিচালিত করে। আল্লাহ্‌র অপার করুণা ও দয়া আমাদের এ সব ভুলের ও পাপের পরিণতি থেকে রক্ষা করে। " আল্লাহ্‌ পাপ মোচনকারী ও ক্ষমাশীল।" - তা না হলে আমাদের গুনাহের পরিণামে আমাদের ধ্বংস ছিলো অনিবার্য। জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ রেখেছেন। কারণ সেই পরম করুণাময়ের একান্ত মঙ্গল ইচ্ছা হচ্ছে তাঁর বান্দাদের ভুল -ভ্রান্তি, দোষ-ত্রুটি দূর করা এবং তাঁর ক্ষমা দ্বারা আমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন করার সুযোগ দান করা।

৩। কিন্তু যারা জিহার দ্বারা তাদের স্ত্রীদের পরিত্যাগ করে, এবং পরে তাদের উচ্চারিত উক্তি প্রত্যাহার করার ইচ্ছা করে ৫৩৩৫, [তাদের জন্য বিধান হচ্ছে] একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করতে হবে। এর দ্বারা তোমাদের মৃদু র্ভৎসনা করা হয়েছে কার্য সম্পাদন করার জন্য। তারা যা করে আল্লাহ্‌ সে [ সব ] ভালো ভাবে অবগত।

৫৩৩৫। যদি আল্লাহ্‌ 'জিহার ' শব্দটিকে উপেক্ষা করতেন এবং পুরুষকে কোন শাস্তি ব্যতিরেকেই তাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে বৈধ করতেন, তবে সমাজে পুরুষ নির্বোধের ন্যায় পূর্বাপর জ্ঞানশূন্য হয়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দম্ভ প্রকাশ করতো। সুতারাং স্বেচ্ছাচারী পুরুষের জন্য শাস্তির বিধান অবতীর্ণ হলো। কিন্তু মহিলাদের অধিকারকে সংরক্ষণ করা হলো। মহিলা তার এবং তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণের অধিকার লাভ করবে কিন্তু পুরুষ প্রায়শ্চিত্ত ব্যতীত স্বামী স্ত্রী সহবাসের অধিকার লাভ করবে না। যদি স্বামী অনুতপ্ত ভাবে স্ত্রীকে ফেরত পেতে চায়, তবে অবশ্যই আল্লাহ্‌ প্রদত্ত শাস্তি তাঁকে মেনে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনকে ফিরে পেতে চায় তবে সে আবেদন করতে পারে এবং স্বামীকে প্রায়শ্চিত্ত করার দাবী জানিয়ে আবেদন জানাতে পারে।

৪। কিন্তু যার এ সামর্থ থাকবে না ৫৩৩৬, একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে তাকে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করতে হবে। কিন্তু যে তাতেও অসমর্থ, সে ষাটজন অভাবগ্রস্থকে খাওয়াবে ৫৩৩৭। ইহা এ জন্য যে, তোমরা যেনো আল্লাহ্‌র প্রতি এবং তাঁর রসুলের প্রতি বিশ্বাস প্রমাণ করতে পার। এই হচ্ছে [আল্লাহ্‌ কর্তৃক ] নির্ধারিত সীমা। যারা আল্লাহকে প্রত্যাখান করে, তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি ৫৩৩৯।

৫৩৩৬। দেখুন সূরা [ ৪ : ৯২ ] আয়াত। জিহরের মাধ্যমে স্ত্রীকে ত্যাগ করতে চাওয়াকে আল্লাহ্‌ অর্থহীন ঘোষণা করেছেন। তবে এ ব্যাপারে দায়িত্ব জ্ঞানহীন পুরুষকে শাস্তি পেতে হবে। শাস্তিটি হচ্ছেঃ একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করতে হবে। নিজস্ব ক্রীতদাসও হতে পারে অথবা কোনও ক্রীতদাসের পক্ষ থেকে তার স্বাধীনতা ক্রয় করা যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয় তবে উপর্যপুরি দুমাস একটানা রোজা রাখতে হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে ষাটজন গরীবকে আহার্য দান করতে হবে। দেখুন পরবর্তী টিকা।

৫৩৩৭। অভাবগ্রস্থকে আহার্য দানের উপরে বিজ্ঞজনের অভিমত হচ্ছে নিম্নরূপ : প্রতিজনের জন্য অর্দ্ধসা গম বা পূর্ণ 'সা' খেজুর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করবে। এক 'সা ' প্রায় ৯ পাউন্ড ওজনের সমান। আবার অনেকের মতে এক 'মুদ' যা ২-১/৪ পাউন্ডের সমানই যথেষ্ট। অবশ্য এই পরিমাণ খাদ্য একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের একদিনের খাদ্যের পরিমাণ হিসেবে যথেষ্ট। ব্যাপারটিকে এভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে না যেয়ে বক্তব্যের মূল নির্যাসকে অনুধাবনের মাধ্যমে এ কথা সহজ ভাবে বলা যায় যে, একজন অভাবগ্রস্থ ব্যক্তির দুবেলা যে পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন তা প্রচুর পরিমাণে দান করা। তৃপ্তির সাথে পেটভরে একজন অভাবগ্রস্থকে দুবেলা ষাট [ ৬০ ] দিন খাওয়ানো যেতে পারে, অথবা ষাট [ ৬০ ] জন অভাবীকে একদিনে দুবেলা খাওয়ানো যেতে পারে অথবা দুজন অভাবীকে ত্রিশ [ ৩ ০ ] দিন খাওয়ানো যেতে পারে ইত্যাদি। এ ব্যাপারে ধর্মীয় ভিত্তিতে চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন নাই।

৫৩৩৮। শাস্তির বিধান করা হয়েছে এ জন্য যে, আমরা যেনো আল্লাহ্‌র হুকুম মেনে নিয়ে আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যকে প্রমাণ করতে পারি।
৫৩৩৯। আল্লাহ্‌র নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রাপ্য ক্ষুদ্র শাস্তিকে মেনে না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা তাঁর হুকুমকে অমান্য করা , তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করা। পরবর্তী আয়াতে আছে বৃহৎ অপমানকর লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বিবরণ যা আল্লাহ্‌র আইন প্রত্যাখানকারীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।

৫। যারা আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের অপদস্থ করে ধূলিতে মিশিয়ে দেয়া হবে, যেমন করা হয়েছিলো তাদের পূর্ববর্তীদের। নিশ্চয়ই আমি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেছি। এবং অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি, -

৬। সেই দিন, যেদিন তাদের সকলকে একত্রে [ পুনরায় ] উত্থিত করা হবে এবং তাদের কার্যাবলীর প্রকৃত সত্য [ এবং অর্থ ] জানিয়ে দেয়া হবে ৫৩৪০। আল্লাহ্‌ উহার [ মূল্য ] হিসাব করেছেন, যদিও তারা তা বিস্মৃত হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ের সাক্ষী।

৫৩৪০। "তাদের কার্যাবলীর প্রকৃত সত্য এবং অর্থ জানিয়ে দেয়া হবে।" অনুরূপ আয়াত অনেক আছে কোরাণ শরীফের বিভিন্ন সূরাতে যেমন [ ৫ : ৪৮ ] ও টিকা ৭৬২ ; [ ৫ : ১০৫ ] ও টিকা ৮১১ [ ৬ : ৬০, ১০৮ ] ; [ ৯: ৯৪ ] ইত্যাদি। পৃথিবীর মোহ মানুষকে করে বিভ্রান্ত ও সত্য বিচ্যুত। ফলে তার উপলব্ধি ও অনুভব করার ক্ষমতা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে বিভ্রান্তির বেড়াজালে। প্রকৃত সত্যকে বিভিন্ন ব্যক্তি তার উপলব্ধির সত্ত্বা অনুযায়ী বিভিন্ন আঙ্গিকে দেখে থাকে এবং সমাজে কূটতর্কের জন্ম দেয়। যেমন : সমাজে অনেক সময়েই অনেক ভন্ড লোক দেখা যায় যারা সমাজের চক্ষে নিজেকে মহৎ প্রমাণ করতে ব্যতিব্যস্ত থাকে। এদের কেউ সমাজতন্ত্রের নামে জনদরদী, কেউ মানবতার নামে, কেউ ধর্মের নামে জনদরদী। কিন্তু তাদের কর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। এরা তাদের অন্তরের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আত্মগোপন করে জনসমক্ষে নিজেকে পূত-পবিত্র এবং জনকল্যাণে আত্মনিবেদিত ব্যক্তি রূপে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়, কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে তাদের জনহিতকর কাজ তাদের মুখোশ বা ভণিতা মাত্র। অনেক সময়ে দেখা যায় যে, মানুষ আবেগ ও অনুভূতিতে আপ্লুত হয়ে কোন নেতাকে দেবতার আসনে বসায় যে যোগ্যতা তার নাই। এবং দুঃখের বিষয় এসব লোকেরাও সচেতনহীন ভাবে সেই কথা বিশ্বাস করে এবং নিজের দোষত্রুটি উপলব্ধির পরিবর্তে নিজেকে ফেরেশতা সমতুল্য ব্যক্তিরূপে গণ্য করে। মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হচ্ছে নিজেকে মহৎ ও বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারীরূপে কল্পনা করার প্রবণতা। নিজেকে দোষত্রুটি মুক্ত করার জন্য যা স্মরণ রাখা প্রয়োজন তা আমরা ভুলে যাই। যা ভুলে যাওয়া প্রয়োজন তা আমরা স্মরণ রাখি ও গর্বে অহংকারে স্ফীত হই। এর ফলে আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং  অন্তর্দৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি ধীরে ধীরে হয়ে পড়ে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, ফলে আমাদের মূল্যবোধ হয় অবক্ষয়ের সম্মুখীন, এবং আমরা মিথ্যা মূল্যবোধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। এই আয়াতের মাধ্যমে ও অন্যান্য বহু আয়াতে আল্লাহ্‌ বারে বারে সাবধান করেছেন যে, শেষ বিচারের দিনে মানুষের এই মিথ্যা মূল্যবোধ, ভণিতা, প্রবণতা সব কিছুর অবসান ঘটবে। প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত সত্যরূপ হবে উদ্ভাসিত, মিথ্যার খোলস যাবে ঝড়ে। শুধু যে সত্য উদ্ভাসিত হবে তাই-ই নয়, আমরা আমাদের জীবনে কৃত প্রতিটি কাজের নিয়ত এবং প্রকৃত উদ্দেশ্যকে অনুধাবনে সক্ষম হব। পৃথিবীর জীবনে এই বোধ আমাদের জীবনে থাকে অনুপস্থিত। পরলোকের জীবনে প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞান চক্ষুকে উম্মীলিত করা হবে।