+
-
R
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা : মক্কাতে অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে এই সূরাটি প্রথমভাগে অবতীর্ণ হয় এবং সূরা নং ৫০ এর ভূমিকাতে যে সাতটি সূরার শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে, এটি সেই শ্রেণীর ৫নম্বর সূরা। এই শ্রেণীর সুরাগুলির বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রত্যাদেশের সত্য এবং শেষ বিচারের দিন যার উল্লেখ পূর্বেই ৫০ নং সূরার ভূমিকাতে করা হয়েছে।
এই সূরার বিষয়বস্তুকে একটি বাক্যের মাধ্যমে পুণঃ পুণঃ উপস্থাপন করা হয়েছে, আর তা হচ্ছে, " অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি ? " এই বাক্যটি সম্পূর্ণ সূরাতে ছয়বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে ; এবং প্রতিবার অতীতের বিভিন্ন জাতির উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের পাপ, আল্লাহ্র নবীকে এবং তাঁর সতর্কবাণীকে প্রত্যাখান ইত্যাদি বর্ণনা শেষে কোরাণের সহজ সরল উপদেশাবলীকে এই বাক্য দ্বারা উপস্থাপন করা হয়েছে। [ আয়াত নং ১৫, ১৭, ২২, ৩২, ৪০ এবং ৫১ ]। আল্লাহ্র বাণী শোনার জন্য এবং সত্য ও ন্যায় গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে।
সার সংক্ষেপ : কেয়ামত বা শেষ বিচারের দিন সন্নিকটে কিন্তু মানুষ তা ভুলে থাকে ; আল্লাহ্র বাণীকে প্রত্যাখান করে যেমন করেছিলো নূহ্-এর সম্প্রদায়, আ'দ ও সামুদ সম্প্রদায়, লূতের সম্প্রদায় এবং ফেরাউনের লোকেরা। উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছ কি ? [ ৫৪ : ১ -৫৫ ]।
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
৫১২৭। দেখুন ৫৩ নং সূরার ভূমিকার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ। "কেয়ামত আসন্ন" এই বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে এই সূরার প্রথমে এবং পূর্ববর্তী সূরার [ ৫৩ নং ] শেষে [ ৫৭ নং আয়াতে ]।
৫১২৮। এই আয়াতটি দ্বারা যে ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে তা তিন ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
১) হিজরতের পাঁচ বৎসর পূর্বে হজ্জ্বের মৌসুমে মিনায় যখন লোক সমাগম ছিলো, কাফেররা তখন রাসুলুল্লাহ্কে (সা) মুজেজা প্রদর্শন করতে বলেন। তিনি আল্লাহ্র হুকুমে চন্দ্রের দিকে ইশারা করেন। চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়ে স্থির হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার খন্ড দুটি মিলিত হয়ে চন্দ্র আবার পূর্ব আকার ধারণ করে।
২) "চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে " - এই বাক্যটি দ্বারা ভবিষ্যত কালকে বোঝানো হয়েছে, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণ - ভবিষ্যত কাল দ্বারা তাই বোঝানো হয়েছে।
৩) বাক্যটি রূপক অর্থ বহন করে। অর্থাৎ কেয়ামতের বিষয়বস্তু চন্দ্রের ন্যায় স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট।
১) নম্বর ঘটনাটি বহু লোক দর্শন করে যার মধ্যে বহু অবিশ্বাসীও ছিলো, যাদের উল্লেখ ২নং আয়াতে করা হয়েছে। ২) নম্বর ব্যাখ্যাটি কেয়ামতের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায় যখন সম্পূর্ণ সৌর মন্ডল ধ্বংস হয়ে যাবে। দেখুন [ ৭৫ : ৮ - ৯ ] আয়াতের বর্ণনা।
৫১২৯। "Mustamirr" অর্থাৎ ক্রমাগত অথবা শক্তিশালী। এর যে কোন একটি অর্থ এখানে প্রযোজ্য হতে পারে। অবিশ্বাসীরা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার মত ঘটনাকে অবলোকন করে তা অস্বাভাবিক বলে স্বীকার করে কিন্তু তাকে যাদু বিদ্যা বলে সনাক্ত করে। তারা এর দ্বারা কোনরূপ আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করে নাই।
৫১৩০। "পূর্ব নির্ধারিত সময়কাল" - অর্থাৎ পৃথিবীর জীবনে যা পাপ ও অন্যায় তা প্রথমে অপ্রতিহত গতিতে চলে এবং সত্য ও ন্যায় অবদমিত হয়ে থাকে। কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। কারণ আল্লাহ্র আইন হচ্ছে পাপের ধ্বংস ও সত্যের বিজয় ও স্থায়ীত্ব। তবে পাপীদের জন্যও একটি সময়কালকে
আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়েছেন।
৫১৩১। অতীতের বিভিন্ন জাতির পাপ কার্য তাদের প্রতি আল্লাহ্র শাস্তির সংবাদ কাফেররা অবগত। কিন্তু তারা যদি প্রজ্ঞা সম্পন্ন হতো তবে এসব কাহিনী তাদের জ্ঞান চক্ষুকে উম্মীলন করে দিত। এর ফলে তারা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করতে পারতো এবং পাপ পথে জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে পার্থিব উন্নতি কামনা করতো না। অতীতের এরূপ পাঁচটি ঘটনার বিবরণ এই সূরার পরবর্তী আয়াত সমূহে বর্ণনা করা হয়েছে।
৫১৩২। পাপের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করা, সমাজে প্রতিষ্ঠা অর্জন করা, সম্পদ ও ক্ষমতা আহরণ করা সহজ। কিন্তু তা কখনও স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারে না। পৃথিবীর হিসাবই শেষ ফলাফল নয়; শেষ বিচারের দিনে সব কিছুর স্থায়ী মূল্যায়ন হবে।
৫১৩৩। কেয়ামত দিবসের বর্ণনাতে বলা হয়েছে যে, সেদিন আহ্বানকারী ফেরেশতা পুনরুত্থানের জন্য আহ্বান করবে প্রতিটি আত্মাকে দেখুন [ ২০ : ১০৮ - ১১১ ] আয়াত।
৫১৩৪। "বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল " - এই উপমাটির সাহায্যে কেয়ামত দিবসে পাপীদের পুনরুত্থানের ছবি আঁকা হয়েছে। যারা পঙ্গপালের ঝাঁক দেখেছেন তারা ছবিটি অনুধাবনের চেষ্টা করবেন। লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল ঝাঁকে ঝাঁকে শষ্য ক্ষেত্রকে আক্রমন করে পরদিন দেখা যায় রাশি রাশি হতবুদ্ধি পঙ্গপাল বিক্ষিপ্ত অবস্থায় চর্তুদিকে স্তুপাকারভাবে মরে পড়ে আছে। রোজ হাশরের ময়দানে মানুষেরা কবরের নিদ্রা থেকে জেগে উঠে হতবুদ্ধির মত বলবে, " হায় ! কে আমাদের জাগ্রত করলো ? "
৫১৩৫। হযরত নূহ্ এর মহাপ্লাবনের কাহিনী কোরানে বহুবার বর্ণনা করা হয়েছে। নূহ্ নবীর কাহিনী সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা [ ১১ : ২৫ - ৪৮ ] আয়াতে। সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে, কিভাবে তারা প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে অপমান ও নির্যাতন করতো। কি ভাবে নূহ্ নবী বিনীত ভাবে তাদের সাথে যুক্তি তর্কের উত্থাপন করতেন। কি ভাবে তারা নূহ্ নবীকে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করতো এবং তাকে পাগল ও ভূতে পাওয়া বলে অভিহিত করতো। কি ভাবে বন্যা তাদের প্লাবিত করেছিলো। নূহ্ নবী নৌকা দ্বারা উদ্ধার পান এবং পাপীরা ধ্বংস হয়ে যায়।
৫১৩৬। নূহ্ নবী মন্দ লোকদের বিরুদ্ধাচারণে তাঁর প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারেন নাই। তাঁর সকল কর্ম প্রচেষ্টা যখন বিফল হলো, তিনি তখন আল্লাহ্র নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, যার ফলে পাপীরা ধ্বংস হয়ে যায়।
৫১৩৭। উপর থেকে প্রবল বারী বর্ষণ এবং মাটির নীচ থেকে প্রবল বেগে পানি উৎক্ষিপ্ত হতে থাকে ফলে মহাপ্লাবনের সৃষ্টি হয়।
৫১৩৮। "Dusur" বহু বচনে "Disar" অর্থাৎ 'পাম' গাছের আঁশ। বলা হয়েছে এই আঁশকে ব্যবহার করা হয়েছে নৌকা নির্মানের জন্য। অনেকে মনে করেন পেরেক সদৃশ্য তক্তা যা নৌকা তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছিলো। সে যুগের নৌকা তৈরীর প্রণালী এ যুগের অনুবাদকদের অনুধাবন করা অসম্ভব ব্যাপার।
৫১৩৯। হযরত নূহ্ এর ঘটনা হচ্ছে আল্লাহ্র প্রতি নিবেদিত বান্দার আল্লাহ্র করুণা ও দয়া লাভের সাক্ষ্য।
৫১৪০। যুগে যুগে আল্লাহ্ পূণ্যাত্মাদের শাস্তির আওতা থেকে রক্ষা করেছেন। দেখুন আয়াত [ ২৯ : ১৫ ] আয়াত যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূণ্যাত্মাদের উদ্ধার লাভ ছিলো আল্লাহ্র করুণার নিদর্শন। দেখুন সূরা [ ২৫ : ৩৭ ] এবং [ ২৬ : ১২১ ] যেখানে অনুরূপ আয়াত আছে। আরও দেখুন [ ২৯ : ৩৫ ] এবং [ ৫১ : ৩৭ ] আয়াত সমূহ যেখানে লূতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যাকে আল্লাহ্ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।
৫১৪১। "অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছ কি ? " - এই বাক্যটি এই সূরাতে ছয়বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। দেখুন সূরার ভূমিকা।
সূরা কামার
Page 1 of 3
সূরা কামার বা চন্দ্র -৫৪
৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা : মক্কাতে অবতীর্ণ সূরাগুলির মধ্যে এই সূরাটি প্রথমভাগে অবতীর্ণ হয় এবং সূরা নং ৫০ এর ভূমিকাতে যে সাতটি সূরার শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে, এটি সেই শ্রেণীর ৫নম্বর সূরা। এই শ্রেণীর সুরাগুলির বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রত্যাদেশের সত্য এবং শেষ বিচারের দিন যার উল্লেখ পূর্বেই ৫০ নং সূরার ভূমিকাতে করা হয়েছে।
এই সূরার বিষয়বস্তুকে একটি বাক্যের মাধ্যমে পুণঃ পুণঃ উপস্থাপন করা হয়েছে, আর তা হচ্ছে, " অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি ? " এই বাক্যটি সম্পূর্ণ সূরাতে ছয়বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে ; এবং প্রতিবার অতীতের বিভিন্ন জাতির উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের পাপ, আল্লাহ্র নবীকে এবং তাঁর সতর্কবাণীকে প্রত্যাখান ইত্যাদি বর্ণনা শেষে কোরাণের সহজ সরল উপদেশাবলীকে এই বাক্য দ্বারা উপস্থাপন করা হয়েছে। [ আয়াত নং ১৫, ১৭, ২২, ৩২, ৪০ এবং ৫১ ]। আল্লাহ্র বাণী শোনার জন্য এবং সত্য ও ন্যায় গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে।
সার সংক্ষেপ : কেয়ামত বা শেষ বিচারের দিন সন্নিকটে কিন্তু মানুষ তা ভুলে থাকে ; আল্লাহ্র বাণীকে প্রত্যাখান করে যেমন করেছিলো নূহ্-এর সম্প্রদায়, আ'দ ও সামুদ সম্প্রদায়, লূতের সম্প্রদায় এবং ফেরাউনের লোকেরা। উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছ কি ? [ ৫৪ : ১ -৫৫ ]।
সূরা কামার বা চন্দ্র -৫৪
৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
০১। কেয়ামত নিকটবর্তী ৫১২৭, এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে ৫১২৮।
৫১২৭। দেখুন ৫৩ নং সূরার ভূমিকার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ। "কেয়ামত আসন্ন" এই বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে এই সূরার প্রথমে এবং পূর্ববর্তী সূরার [ ৫৩ নং ] শেষে [ ৫৭ নং আয়াতে ]।
৫১২৮। এই আয়াতটি দ্বারা যে ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে তা তিন ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
১) হিজরতের পাঁচ বৎসর পূর্বে হজ্জ্বের মৌসুমে মিনায় যখন লোক সমাগম ছিলো, কাফেররা তখন রাসুলুল্লাহ্কে (সা) মুজেজা প্রদর্শন করতে বলেন। তিনি আল্লাহ্র হুকুমে চন্দ্রের দিকে ইশারা করেন। চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়ে স্থির হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার খন্ড দুটি মিলিত হয়ে চন্দ্র আবার পূর্ব আকার ধারণ করে।
২) "চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে " - এই বাক্যটি দ্বারা ভবিষ্যত কালকে বোঝানো হয়েছে, চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণ - ভবিষ্যত কাল দ্বারা তাই বোঝানো হয়েছে।
৩) বাক্যটি রূপক অর্থ বহন করে। অর্থাৎ কেয়ামতের বিষয়বস্তু চন্দ্রের ন্যায় স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট।
১) নম্বর ঘটনাটি বহু লোক দর্শন করে যার মধ্যে বহু অবিশ্বাসীও ছিলো, যাদের উল্লেখ ২নং আয়াতে করা হয়েছে। ২) নম্বর ব্যাখ্যাটি কেয়ামতের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায় যখন সম্পূর্ণ সৌর মন্ডল ধ্বংস হয়ে যাবে। দেখুন [ ৭৫ : ৮ - ৯ ] আয়াতের বর্ণনা।
০২। কিন্তু ওরা যদি কোন নিদর্শন দেখে, তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, " ইহা তো সেই প্রচলিত যাদু।" ৫১২৯
৫১২৯। "Mustamirr" অর্থাৎ ক্রমাগত অথবা শক্তিশালী। এর যে কোন একটি অর্থ এখানে প্রযোজ্য হতে পারে। অবিশ্বাসীরা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার মত ঘটনাকে অবলোকন করে তা অস্বাভাবিক বলে স্বীকার করে কিন্তু তাকে যাদু বিদ্যা বলে সনাক্ত করে। তারা এর দ্বারা কোনরূপ আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করে নাই।
০৩। তারা [সর্তকবাণীকে ] প্রত্যাখান করে এবং তাদের [নিজ ] প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। কিন্তু প্রত্যেক জিনিষের জন্য রয়েছে এক [ পূর্ব] নির্ধারিত সময়কাল ৫১৩০।
৫১৩০। "পূর্ব নির্ধারিত সময়কাল" - অর্থাৎ পৃথিবীর জীবনে যা পাপ ও অন্যায় তা প্রথমে অপ্রতিহত গতিতে চলে এবং সত্য ও ন্যায় অবদমিত হয়ে থাকে। কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। কারণ আল্লাহ্র আইন হচ্ছে পাপের ধ্বংস ও সত্যের বিজয় ও স্থায়ীত্ব। তবে পাপীদের জন্যও একটি সময়কালকে
আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়েছেন।
০৪। অবশ্যই [কুর-আনের মাধ্যমে ] তাদের নিকট সংবাদ এসেছে ; যাতে আছে তাদের জন্য সাবধান বাণী ৫১৩১ ;-
০৫। পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা ; কিন্তু সর্তকারীর [এই প্রচার ] তাদের কোন উপকারে আসে নাই।
০৫। পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা ; কিন্তু সর্তকারীর [এই প্রচার ] তাদের কোন উপকারে আসে নাই।
৫১৩১। অতীতের বিভিন্ন জাতির পাপ কার্য তাদের প্রতি আল্লাহ্র শাস্তির সংবাদ কাফেররা অবগত। কিন্তু তারা যদি প্রজ্ঞা সম্পন্ন হতো তবে এসব কাহিনী তাদের জ্ঞান চক্ষুকে উম্মীলন করে দিত। এর ফলে তারা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করতে পারতো এবং পাপ পথে জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে পার্থিব উন্নতি কামনা করতো না। অতীতের এরূপ পাঁচটি ঘটনার বিবরণ এই সূরার পরবর্তী আয়াত সমূহে বর্ণনা করা হয়েছে।
০৬। সুতারাং [হে নবী ! ] ৫১৩২ তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। সেদিন আহ্বানকারী [তাদের ] এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে আহ্বান করবে, ৫১৩৩
৫১৩২। পাপের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করা, সমাজে প্রতিষ্ঠা অর্জন করা, সম্পদ ও ক্ষমতা আহরণ করা সহজ। কিন্তু তা কখনও স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারে না। পৃথিবীর হিসাবই শেষ ফলাফল নয়; শেষ বিচারের দিনে সব কিছুর স্থায়ী মূল্যায়ন হবে।
৫১৩৩। কেয়ামত দিবসের বর্ণনাতে বলা হয়েছে যে, সেদিন আহ্বানকারী ফেরেশতা পুনরুত্থানের জন্য আহ্বান করবে প্রতিটি আত্মাকে দেখুন [ ২০ : ১০৮ - ১১১ ] আয়াত।
০৭। তারা নত নেত্রে [ তাদের ] কবর থেকে বের হবে, বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায় ৫১৩৪,
০৮। আহ্বানকারীর দিকে বিষ্ফোরিত নেত্রে চেয়ে ছুটতে থাকবে। অবিশ্বাসীরা বলবে, " কঠিন এই দিন।"
০৮। আহ্বানকারীর দিকে বিষ্ফোরিত নেত্রে চেয়ে ছুটতে থাকবে। অবিশ্বাসীরা বলবে, " কঠিন এই দিন।"
৫১৩৪। "বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল " - এই উপমাটির সাহায্যে কেয়ামত দিবসে পাপীদের পুনরুত্থানের ছবি আঁকা হয়েছে। যারা পঙ্গপালের ঝাঁক দেখেছেন তারা ছবিটি অনুধাবনের চেষ্টা করবেন। লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল ঝাঁকে ঝাঁকে শষ্য ক্ষেত্রকে আক্রমন করে পরদিন দেখা যায় রাশি রাশি হতবুদ্ধি পঙ্গপাল বিক্ষিপ্ত অবস্থায় চর্তুদিকে স্তুপাকারভাবে মরে পড়ে আছে। রোজ হাশরের ময়দানে মানুষেরা কবরের নিদ্রা থেকে জেগে উঠে হতবুদ্ধির মত বলবে, " হায় ! কে আমাদের জাগ্রত করলো ? "
০৯। তাদের পূর্বে নূহ্ এর সম্প্রদায়ও [তাদের নবীকে ] প্রত্যাখান করেছিলো। তারা আমার বান্দাকে প্রত্যাখান করেছিলো ৫১৩৫ এবং বলেছিলো, " এই এক পাগল।" এবং সে বিতাড়িত হয়েছিলো।
৫১৩৫। হযরত নূহ্ এর মহাপ্লাবনের কাহিনী কোরানে বহুবার বর্ণনা করা হয়েছে। নূহ্ নবীর কাহিনী সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা [ ১১ : ২৫ - ৪৮ ] আয়াতে। সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে, কিভাবে তারা প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে অপমান ও নির্যাতন করতো। কি ভাবে নূহ্ নবী বিনীত ভাবে তাদের সাথে যুক্তি তর্কের উত্থাপন করতেন। কি ভাবে তারা নূহ্ নবীকে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করতো এবং তাকে পাগল ও ভূতে পাওয়া বলে অভিহিত করতো। কি ভাবে বন্যা তাদের প্লাবিত করেছিলো। নূহ্ নবী নৌকা দ্বারা উদ্ধার পান এবং পাপীরা ধ্বংস হয়ে যায়।
১০। অতঃপর সে তাঁর প্রভুকে ডেকে বলেছিলো, " আমি তো অসহায়, অতএব তুমি [আমাকে ] সাহায্য কর।" ৫১৩৬
৫১৩৬। নূহ্ নবী মন্দ লোকদের বিরুদ্ধাচারণে তাঁর প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণ করতে পারেন নাই। তাঁর সকল কর্ম প্রচেষ্টা যখন বিফল হলো, তিনি তখন আল্লাহ্র নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, যার ফলে পাপীরা ধ্বংস হয়ে যায়।
১১। সুতারাং মুষলধারে বৃষ্টির সাথে আমি আকাশের দুয়ার খুলে দিলাম।
১২। এবং মৃত্তিকা থেকে উৎসরিত করলাম প্রস্রবণ। সুতারাং [সকল ] পানি মিলিত হলো [এবং স্ফীত হলো ] এক নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত ৫১৩৭
১২। এবং মৃত্তিকা থেকে উৎসরিত করলাম প্রস্রবণ। সুতারাং [সকল ] পানি মিলিত হলো [এবং স্ফীত হলো ] এক নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত ৫১৩৭
৫১৩৭। উপর থেকে প্রবল বারী বর্ষণ এবং মাটির নীচ থেকে প্রবল বেগে পানি উৎক্ষিপ্ত হতে থাকে ফলে মহাপ্লাবনের সৃষ্টি হয়।
১৩। কিন্তু আমি তাকে প্রশস্ত তক্তা ও পাম গাছের আঁশ দ্বারা পানি নিরোধক ভাবে প্রস্তুত [ নৌকাতে ] বহন করেছিলাম ৫১৩৮।
৫১৩৮। "Dusur" বহু বচনে "Disar" অর্থাৎ 'পাম' গাছের আঁশ। বলা হয়েছে এই আঁশকে ব্যবহার করা হয়েছে নৌকা নির্মানের জন্য। অনেকে মনে করেন পেরেক সদৃশ্য তক্তা যা নৌকা তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছিলো। সে যুগের নৌকা তৈরীর প্রণালী এ যুগের অনুবাদকদের অনুধাবন করা অসম্ভব ব্যাপার।
১৪। যা ভেসে বেড়াত আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ; যে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো, [ অবজ্ঞার সাথে ], ইহা ছিলো তারই পুরষ্কার ৫১৩৯।
৫১৩৯। হযরত নূহ্ এর ঘটনা হচ্ছে আল্লাহ্র প্রতি নিবেদিত বান্দার আল্লাহ্র করুণা ও দয়া লাভের সাক্ষ্য।
১৫। এবং আমি এই ঘটনাকে [ সকল সময়ের জন্য ] এক নিদর্শন স্বরূপ রেখে দিয়েছি ৫১৪০ ; এরপরেও কি কেউ আছ যে উপদেশ গ্রহণ করবে ৫১৪১ ?
৫১৪০। যুগে যুগে আল্লাহ্ পূণ্যাত্মাদের শাস্তির আওতা থেকে রক্ষা করেছেন। দেখুন আয়াত [ ২৯ : ১৫ ] আয়াত যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূণ্যাত্মাদের উদ্ধার লাভ ছিলো আল্লাহ্র করুণার নিদর্শন। দেখুন সূরা [ ২৫ : ৩৭ ] এবং [ ২৬ : ১২১ ] যেখানে অনুরূপ আয়াত আছে। আরও দেখুন [ ২৯ : ৩৫ ] এবং [ ৫১ : ৩৭ ] আয়াত সমূহ যেখানে লূতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যাকে আল্লাহ্ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।
৫১৪১। "অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছ কি ? " - এই বাক্যটি এই সূরাতে ছয়বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। দেখুন সূরার ভূমিকা।
১৬। কি কঠোর ছিলো আমার শাস্তি ও সর্তকবাণী ৫১৪২ ?
