Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৫ জন
আজকের পাঠক ৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭১ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪১৫ বার
+ - R Print

সূরা নাজ্‌ম

সূরা নাজ্‌ম বা নক্ষত্র - ৫৩

৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা : মক্কাতে অবতীর্ণ প্রাথমিক সূরাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম এবং সাতটি সূরার শ্রেণীর এটি চতুর্থ সূরা।

এই সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে, প্রত্যাদেশ কোন বিভ্রান্তি নয়। বিভ্রান্তি তাদের জন্য যারা একে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্‌র সম্বন্ধে মিথ্যা ধারণা পোষণ করে। সকল কিছুর উৎপত্তি আল্লাহ্‌ থেকে।

সার সংক্ষেপ : রাসুল (সা ) প্রত্যাদেশ লাভ করেন তা কোনও মিথ্যা বা প্রতারণা নয়, তিনি কোন ব্যক্তিগত স্বার্থের উদ্দেশ্যে তা প্রচার করেন না। এই প্রত্যাদেশ পরিষ্কারভাবে আল্লাহ্‌র নিকট থেকে আগত। আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব কোনও মিথ্যা কল্পনাপ্রসূত নয়। তিনি সর্বেসর্বা ; প্রথম এবং শেষ ; সকল কিছুর প্রভু; পরম ক্ষমাশীল। [ ৫৩ : ১-৩২ ]।

যারা আল্লাহ্‌র দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অজ্ঞ ও ক্ষুদ্রমনা ; তারা জানে না যে এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সকল কিছুর স্রষ্টা এক আল্লাহ্‌ ; মানুষ, বিশ্ব প্রকৃতি, অতীত, বর্তমান সকল কিছুর প্রভু তিনি। সুতারাং তারই এবাদত কর। [ ৫৩ : ৩৩ - ৬২ ]।

সূরা নাজ্‌ম বা নক্ষত্র - ৫৩

৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


০১। শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়, ৫০৮৫

৫০৮৫। "An-Najm" - এই শব্দটির সঠিক ব্যাখ্যা অতি দুরূহ কাজ। বিভিন্নভাবে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এর ব্যাখ্যাও বিভিন্ন হয়ে পড়ছে। অস্তমিত নক্ষত্রের অর্থ করতে যেয়ে অনেকে বলেছেন যে তা হলো নক্ষত্রের শেষ অবস্থা যেমন : আমাদের সূর্য একটি নক্ষত্র যা একদিন তার জ্বালানি শেষে অস্তমিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। নক্ষত্রের অস্তমিত হওয়া হচ্ছে আল্লাহ্‌র ক্ষমতার কাছে বিণীত হওয়া। বিনয়ের প্রতীক হিসেবে একে কল্পনা করা যেতে পারে। আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ আল্লাহ্‌র সৌন্দর্য্য, ক্ষমতা ও জ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

০২। তোমাদের সংগী পথভ্রষ্টও হয় নাই, বিপথেও যায় নাই ৫০৮৬,

০৩। আর সে নিজের ইচ্ছামত কোন কথা বলে না।

৫০৮৬। " তোমাদের সঙ্গী " এই বাক্যটি দ্বারা রাসুলুল্লাহ্‌ কে ( সা ) বোঝানো হয়েছে যিনি কোরাইশদের মাঝে অবস্থান করছিলেন। অবিশ্বাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে যে তিন ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করেছিলো তারই জবাব এখানে প্রদান করা হয়। কোরাইশদের অভিযোগ সমূহ ছিলো নিম্নরূপ :

১) হয় তিনি বুদ্ধির দোষে বিভ্রান্ত কিংবা অমনোযোগী।

২) অথবা তিনি অশুভ শক্তির প্ররোচনায় বিপথগামী।

৩) অথবা তিনি উত্তেজনা বা আবেগ তাড়িত হয়ে মনগড়া কথা বলেন। অথবা নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য, নিজ ব্যক্তিত্ব প্রকাশের জন্য মনগড়া কথা বলেন।

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এই অভিযোগ গুলির একটিও সত্য নয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে তিনি সরাসরি আল্লাহ্‌র নিকট থেকে প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত।

০৪। ইহা তো ওহী যা তার প্রতি প্রেরণ করা হয় ;

০৫। সে শিক্ষিত হয়েছে [ এমন ] একজন দ্বারা [ যে ] ক্ষমতায় মহাশক্তিশালী ৫০৮৭,

৫০৮৭। আয়াত নং [ ৫-৬] যে বর্ণনা আছে তফসীরকারগণ মনে করেন তার দ্বারা জিব্রাইল ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে।

০৬। প্রজ্ঞাসম্পন্ন। যে আভির্ভূত হয়েছিলো [ নিজ আকৃতিতে ] :

০৭। যখন সে ছিলো দিগন্তরেখার সর্বোচ্চ প্রান্তে : ৫০৮৮

৫০৮৮। রাসুলুল্লাহ্‌ (সা) এর নবুয়তের প্রথম দিকে জিব্রাইল ( আ ) কে তাঁর পূর্ণ অবয়বে তিনি একবার দর্শন করেছিলেন বলে হাদীসে উল্লেখ আছে।

০৮। অতঃপর সে অগ্রসর হলো এবং আরও নিকটবর্তী হলো

০৯। ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল, অথবা তারও কম ৫০৮৯।

৫০৮৯। "দুই ধনুকের " অর্থাৎ দুই ধনুকের পাল্লা [ ১০০-১৫০ গজ ] ব্যবধান ধরা হয়। অর্থাৎ সেই দূরত্ব যেখান থেকে পরিষ্কার দৃশ্যমান।

১০। এরূপেই [ আল্লাহ্‌ ] তাঁর বান্দাকে ওহী সমর্পন করেন ৫০৯০ ; তিনি যা জানাতে চেয়েছিলেন [ তা জানান ]।

৫০৯০। জিব্রাইল (আ) ছিলেন আল্লাহ্‌র প্রেরিত দূত বিশেষ। তিনি শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র বাণী বহন করে নিয়ে এসেছিলেন।

১১। [ নবীর ] হৃদয় এবং মন, সে যা দেখেছে, তাতে ভুল করে নাই ৫০৯১।

৫০৯১। এই আয়াতে 'সে ' দ্বারা রাসুলুল্লাহকে (সা ) বোঝানো হয়েছে। আরবীতে heart বা অন্তঃকরণ বলতে মানসিক দক্ষতা সমূহ যেমন বুদ্ধিমত্তা এবং আবেগ ও অনুভূতিকে বোঝানো হয়। এখানে বলা হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ্‌ (সা ) যা দেখেছেন তা পবিত্র সত্য এর মাঝে কোন দৃষ্টি বিভ্রম বা বিভ্রান্তি নাই।

১২। তবুও কি তোমরা সে যা দেখেছে সে সম্বন্ধে তার সাথে বির্তক করবে ?

১৩। এবং নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিলো ৫০৯২।

৫০৯২। রাসুলুল্লাহ্‌ (সা) হেরা পর্বতের গুহায় প্রথম বার জিব্রাইল (আ) কে দর্শন করেন, যখন তিনি প্রথম নবুয়তের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন এবং তাঁর প্রতি প্রেরিত প্রথম শব্দটি ছিলো ইক্‌রা। দ্বিতীয় বার রাসুল (সা) জিব্রাইলের দর্শন লাভ করেন যখন তিনি মেরাজ গমন করেন। এ সম্বন্ধে দেখুন সূরা নং ১০ এর ভূমিকা।

১৪। সীমান্তবর্তী লোট বৃক্ষের নিকটে, যার [ সীমাকে ] কেহ অতিক্রম করতে পারে না ৫০৯৩।

৫০৯৩। "বদরী বৃক্ষ " বা"লোট বৃক্ষ " - দেখুন সূরা [ ৩৪ : ১৬ ] ও টিকা ৩৮১৪। বন্য লোট গাছ প্রচন্ড কাটাযুক্ত হয়। কিন্তু চাষাবাদ করলে তা সুস্বাদু ফল ও ছায়া উৎপাদন করে। একে বেহেশতের শান্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে এখানে এবং সূরা [ ৫৬ : ২৮ ] আয়াতে।

১৫। এর নিকটেই আছে জান্নাতুল মা-ওয়া [বেহেশত ] ৫০৯৪।

৫০৯৪। "Jannat-al-Mawa" বেশেহত্‌, মুমিনদিগের বাসস্থান, তাই উহা বাসোদ্যান। অনেকের মতে মুমিনদের এই বাসস্থান লোট বৃক্ষের সন্নিকটে অবস্থিত।

১৬। দেখো ! লোট গাছটি আচ্ছাদিত ছিলো [ অনির্বচনীয় রহস্য দ্বারা ]

১৭। তার দৃষ্টি বিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুত হয় নাই।

১৮। সত্যিই সে তো তার প্রভুর মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিলো।

১৯। তুমি কি লাত ও উজ্জ্বাকে দেখেছ ৫০৯৫

২০। এবং তৃতীয় আর এক [ দেবী ] মান্নাত ?

৫০৯৫। উপরের আয়াত সমূহে ঐশ্বরিক মহিমা সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে অনুপম ভাষাতে। এই আয়াত থেকে বর্ণনা করা হয়েছে পার্থিব জীবনের গ্লানি সমূহ। পার্থিব জীবনের প্রধান কদর্য দিক হচ্ছে মূর্তির উপাসনা। প্রাচীন আরব মুশরিকদের তিনটি দেবীর নাম এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। আরবের লোকেরা বিশ্বাস করতো যে, এরা আল্লাহ্‌র কন্যা। এদের আকৃতিগত কাঠামো সম্বন্ধে ভিন্নমত আছে। একদলের মত হচ্ছে লাতের আকৃতি ছিলো মনুষ্যাকৃতি; উয্‌যা ছিলো পবিত্র গাছের আকৃতি এবং মানাত ছিলো সাদা পাথরের আকৃতি।