Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৪ জন
আজকের পাঠক ২ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৭০ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪০৩ বার
+ - R Print

সূরা শূরা

সূরা শূরা বা মন্ত্রণা সভা -৪২

৫৩ আয়াত, ৫ রুকু , মক্কী
[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা : হা-মিম্‌ সূরার শ্রেণীর সাতটি সূরা এটি হচ্ছে তৃতীয় সূরা।এই শ্রেণী সম্বন্ধে দেখুন সূরা ৪০ নং এর ভূমিকা।

এই সূরার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে , কি ভাবে পাপ ও কুফ্‌রী আল্লাহ্‌র করুণায় ও নিদের্শনায় নিরাময় লাভ করে। আল্লাহ্‌র করুণা , ও হেদায়েত তাঁর প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রেরিত হয়। মানুষকে উপদেশ প্রেরণ করা হয়েছে , পরামর্শের মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য দূর করতে [ ৪২ : ৩৮ ]। এই উপদেশ অনুযায়ী সূরার নামকরণ হয়েছে।

সার সংক্ষেপ : আল্লাহ্‌র নিদর্শন ও দয়ার উপরে নির্ভরতার বিপরীত হচ্ছে প্রত্যাদেশের বিরুদ্ধে তর্ক-বির্তকে লিপ্ত হওয়া আল্লাহ্‌র একত্বে অবিশ্বাস করা ও কুফরী করা। [ ৪২ : ১- ২৯ ]।

মানুষের অমঙ্গল তার পাপ কাজেরই ফল স্বরূপ। পাপের পরিণতি এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু আল্লাহ্‌র করুণা ও প্রত্যাদেশের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ মানুষকে পথ দেখান বা হেদায়েত করেন [ ৪২: ৩০ - ৫৩ ]।

সূরা শূরা বা মন্ত্রণা সভা -৪২

৫৩ আয়াত, ৫ রুকু , মক্কী
[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


০১। হা - মীম ৪৫২৬।

৪৫২৬। দেখুন ৪০ নং সূরার ভূমিকা। প্যারা ২ -৪

০২। আইন - সীন - কাফ ৪৫২৭।

৪৫২৭। এই সূরাতে দুই সেট বা কেতা সংক্ষিপ্ত অক্ষর স্থাপন করা হয়েছে। এক সেট প্রথম আয়াত ও দ্বিতীয় সেট হচ্ছে দ্বিতীয় আয়াতে। দ্বিতীয় সেটে অক্ষরদ্বয়ের কোন নির্ভর যোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সুতারাং এর থেকে বিরত থাকা হলো।

০৩। এ ভাবেই [ তিনি ] তোমার প্রতি ওহী প্রেরণ করে থাকেন , যেমন তিনি তোমার পূর্ববর্তীদের [করেছিলেন ] ৪৫২৮। আল্লাহ্‌ - ক্ষমতায় মহাপরাক্রশালী , প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ।

৪৫২৮। প্রত্যাদেশসমূহ আল্লাহ্‌র ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার প্রতীক। আর এই ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার উৎস একমাত্র আল্লাহ্‌। মানুষের ক্ষমতার সাথে আল্লাহ্‌র ক্ষমতার পার্থক্য হচ্ছে আল্লাহ্‌র ক্ষমতা সর্বদা দয়া ও করুণাতে পরিপূর্ণ থাকে। মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহ্‌র জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পার্থক্য হচ্ছে মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অসম্পূর্ণ , অপরপক্ষে আল্লাহ্‌র জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হচ্ছে সম্পূর্ণ ও বির্তকের উর্দ্ধে।

০৪। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর অধীনে। তিনি সর্বোচ্চ সমুন্নত সুমহান ৪৫২৯।

৪৫২৯। আল্লাহ্‌ সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। তিনি সমুন্নত ও মহান। তার মাহত্ব্য ও বিশালত্ব অনুধাবন ও উপলব্ধি করা যে কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব। আল্লাহ্‌র ক্ষমতা , পদমর্যদা ইত্যাদিতে অত্যুচ্চ ,যা মানুষের সর্বোচ্চ কল্পনার অতীত। পরবর্তী আয়াতে সর্বোচ্চ আকাশের উল্লেখ আছে এবং আরও উল্লেখ আছে ফেরেশতাদের যাদের চরিত্রগতভাবে সর্বোচ্চ ও মহৎ মনে করা হয়। আল্লাহ্‌র মাহত্ব্য এদের বহু উর্দ্ধে।

০৫। [ তাঁর মহিমায় ] আকাশ সমূহ তাদের উপরে বিদির্ণ হয়ে পড়তে চায় ৪৫৩০। ফেরেশতাগণ তাদের প্রভুর প্রশংসা কীর্তন করে এবংপৃথিবীর সকলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। মনে রেখো ! আল্লাহ্‌ অবশ্যই বারে বারে ক্ষমাশীল , পরম করুণাময় ৪৫৩১।

৪৫৩০। সপ্ত আকাশের অসীমত্ব মানুষের কল্পনার সীমানার বাইরে। বর্তমানে "হাবেল" টেলিস্কোপের মাধ্যমে অসীম আকাশ সম্বন্ধে মানুষ ধারণা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সীমাহীন আকাশের সীমা মানুষের জ্ঞান জগতের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এই আয়াতে আল্লাহ্‌র বিশালত্ব ও মাহত্ব্যকে প্রকাশ করার জন্য আকাশের উপমাকে ব্যবহার করা হয়েছে। যে আকাশ মানুষের কল্পনা ও ধারণা, সীমার বিশালত্বে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়।

৪৫৩১। আমাদের ধারণা ফেরেশতারা হচ্ছে সর্বাপেক্ষা পূত-পবিত্র ও মহৎ। তারা আল্লাহ্‌র মহিমা ও প্রশংসা কীর্তনের মাধ্যমে নিজেদের বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। এই আয়াতে তাদের আর দুটি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করা হয়েছে ;তারা মর্তবাসীর জন্য ক্ষমা ও দয়া প্রার্থনা করে। অর্থাৎ তাদের চরিত্রে ক্ষমা ও দয়া গুণ দুটি প্রধান।

০৬। যারা আল্লাহ্‌কে ব্যতীত অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে ৪৫৩২ ; আল্লাহ্‌ তাদের উপর দৃষ্টি রাখেন। এবং তুমি তাদের কর্মবিধায়ক নও।

৪৫৩২। ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের পাপ ও অকৃতজ্ঞতাকে। আল্লাহ্‌র পরিবর্তে যারা অপর কিছুকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তারা অকৃতজ্ঞ ও পাপী। তারা তাদের কাজের দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারবে না।আল্লাহ্‌র সামগ্রিক পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত তাদের ধবংস অনিবার্য। আর এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌র বিচারই শেষ কথা। মানুষের অকৃতজ্ঞতা বা পাপ কাজের জন্য রাসুল [সা] দায়ী নন। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি তাকে দেয় "সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি " র অপব্যবহারের জন্য দায়ী। কেউ কারও দায় বহন করবে না।

০৭।এ ভাবেই আমি ওহীর মাধ্যমে তোমাকে আরবী কুর-আন প্রেরণ করেছি ৪৫৩৩, যাতে তুমি সতর্ক করতে পার মক্কা ও উহার চর্তুপার্শ্বের জনগণকে৪৫৩৪ , এবং [ তাদের ] সতর্ক করতে পার মহাসমাবেশের দিন সম্বন্ধে , যার সম্বন্ধে কোনই সন্দেহ নাই। [যেদিন ] কেহ কেহ থাকবে বেহেশতে আর কেহ কেহ থাকবে জ্বলন্ত অগ্নিতে ৪৫৩৫।

৪৫৩৩। কোরাণ শরীফ আরবীতে অবতীর্ণ হওয়ার কারণ অতি সহজেই বোধগম্য। কারণ যাদের মাঝে কোরাণের বাণী সর্বপ্রথম প্রচারিত হবে তারা সকলেই আরবী ভাষী , আয়াতের পরবর্তী অংশ দেখুন। আরও দেখুন আয়াত [ ৪১ : ৪৪ ] ও টিকা ৪৫১৬।

৪৫৩৪। মক্কা নগরীর জন্য দেখুন টিকা ৯১৩ ও আয়াত [ ৬ : ৯২]। নিঃসন্দেহে আয়াতটি মক্কাতে অবতীর্ণ হয়, সে কারণেই এর প্রাথমিক প্রচার সম্বন্ধে মক্কার উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যতীত মুসলমানদের কিব্‌লা কাবা শরীফ মক্কায় অবস্থিত।এ ভাবেই মক্কা নগরী ইসলামের মূল কেন্দ্র এবং "উহার চর্তুদিকের জনগণ" অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ববাসী।

৪৫৩৫। মানুষের পাপ সম্বন্ধে এবং কেয়ামত দিবস সম্বন্ধে সর্তক করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে যেমন ব্যাখ্যা করা হয়েছে সূরার সার সংক্ষেপে।

০৮। যদি আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করতেন তবে তিনি তাদের একটি মাত্র সম্প্রদায়ে পরিণত করতে পারতেন ৪৫৩৬। কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, আপন অনুগ্রহের মাঝে প্রবেশ করান, এবং পাপীদের কোন অভিভাবক নাই, কোন সাহায্যকারীও নাই।

৪৫৩৬। অনুরূপ আয়াত দেখুন [ ৫: ৪৮ ] ও টিকা ৭৬১। শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যে আল্লাহ্‌ মানুষ জাতিকে বিভিন্নতা দান করেছেন। পৃথিবীতে আল্লাহর নেয়ামত কেউ বেশী লাভ করে কেউ কম। মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, চারিত্রিক গুণাবলী ,বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি প্রতিটি মানুষের জন্যস্ব স্ব বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করা হয়েছে যেনো তা সঠিক ব্যবহারের ফলে সে [ ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে ]। পৃথিবীতে শয়তানের ফাঁদে মানুষ তখনই ধরা দেয় যখন সে এসব অপব্যবহার করে। মানুষকে সাবধান করা হয়েছে সে যেনো বিবাদ প্রিয় হয়ে শয়তানের ফাঁদে পা না দেয় - তাহলে সে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও কৃপা লাভে বঞ্চিত হবে।

০৯। সে কি ! [ এবাদতের জন্য ] তারা কি আল্লাহ্‌কে ব্যতীত অন্য অভিভাবক গ্রহণ করেছে ? কিন্তু আল্লাহ্‌- তিনিই তো [ একমাত্র ] অভিভাবক ৪৫৩৭ তিনি মৃতকে জীবন দান করেন। সর্ববিষয়ের উপরে ক্ষমতা একমাত্র তারই।

৪৫৩৭। মানুষের সর্বোচ্চ পাপ হচ্ছে , আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কিছুর উপাসনা করা ; সর্বোচ্চ অকৃতজ্ঞতা হচ্ছে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা। যেমন অনেকে বিপদ বা বিপর্যয়ের মুখে জ্যোতিষি বা পীর-ফকির বা মাজারের আশ্রয় প্রার্থনা করে। এ সবের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করা হচ্ছে তাদেরই আশ্রয় প্রার্থনা করা যাদের ব্যক্তিগত কোনও ক্ষমতাই নাই।সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্‌র। বিশ্ব ভূবনের তিনিই একমাত্র পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। পৃথিবীর প্রতিটি জীবনকে তিনি সর্বোচ্চ মঙ্গল ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন। মানুষ যখন আল্লাহ্‌র ক্ষমতার উপরে বিশ্বাস রাখতে না পারে তখনই এ সব মিথ্যা উপাস্যের স্মরণাপন্ন হয় এবং আল্লাহ্‌র সাথে অংশীদারিত্বের পাপে নিমজ্জিত হয়।