Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৩ জন
আজকের পাঠক ১ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৬৯ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৪০০ বার
+ - R Print

সূরা নিসা

সূরা নিসা বা নারী - ৪

আয়াত ১৭৬, রুকু ২৪, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহর নামে]


ভূমিকাঃ এ সূরা ধারাবাহিকতায় সূরা ৩ এর সাথে সংযুক্ত। এর আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে, ওহুদের যুদ্ধের পর পরই নূতন মুসলিম সমাজে যে সমস্যা সমূহের উদ্ভব হয় তারই উপর। যদিও ঐ বিশেষ ঘটনার সময়ের প্রেক্ষিতে সূরাটি নাজেল হয়, কিন্তু এর বিধি-বিধান মুসলিম সমাজের জন্য স্থায়ীভাবে বিধিবদ্ধ হয়।
এই সূরাকে মূলতঃ দুটি অংশে বিভক্ত করা যায় : (১) একটি অংশ মহিলা, এতিম, উত্তরাধিকার, বিয়ে এবং পারিবারিক অধিকারের আইন নিয়ে আলোচিত। (২) অপর অংশ মদিনায় অবস্থিত মোনাফেকদের সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে, যারা মদিনার একটি বড় অংশ ছিল এবং যারা ছিল অবাধ্য এবং দুষ্কর্মের সহযোগী।
সারসংক্ষেপঃ সূরাটি শুরু করা হয়েছে পৃথিবীর মানুষের ঐক্য ও সংহতি দিয়ে। স্ত্রীলোক ও মহিলাদের অধিকার; এতিমদের অধিকার, পারিবারিক সম্পর্কের অর্থ, এবং মৃত্যুর পরে মৃতের সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে [৪ : ১ - ১৪]।
ইসলামে পারিবারিক জীবন এবং এই জীবনের সৌন্দর্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। অত্যান্ত বিচক্ষণতার সাথে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে পারিবারিক জীবনে মহিলাদের সম্মানীয় অধিষ্ঠানের উপরে। কারণ পারিবারিক জীবনের সৌন্দর্য্য মহিলাদের সম্মানের উপরে নির্ভরশীল। মহিলাদের অধিকার, বিয়ে, সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকারের উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ নীতিগুলি সমাজের গরীব ধনী সবার জন্য প্রযোজ্য [৪ : ১৫ - ৪২]।
মদিনার যে সব ব্যক্তি তখনও ইসলাম গ্রহণ করে নাই, তাদের মিথ্যা উপাসকের উপাসনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্যই তারা আল্লাহ্‌র নবীকে গ্রহণ করবে এবং তার প্রচারিত বাণীকে মেনে চলবে। তবে তাই হবে তাদের জন্য বিরাট লাভের বিষয়। কারণ তারা তখন মহান সম্প্রদায়ভুক্ত [৪ : ৪৩ - ৭০]।
যারা বিশ্বাসী তারা অবশ্যই শত্রু থেকে আত্ম রক্ষার্থে নিজেদের সংগঠিত করবে। তারা মোনাফেকদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবে। যারা দলত্যাগী তাদের প্রতি কিরূপ আচরণ করা প্রয়োজন; সে সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে [৪ : ৭১ - ৯১]।
হত্যার বিরুদ্ধে সাবধান করা হয়েছে। যারা ইসলামের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন তাদের সংশ্রব ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে ধর্মীয় কর্তব্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে [৪ : ৯২-১০৪]।
বিশ্বাস ঘাতকতা এবং প্রলোভন সব অনিষ্টের বা মন্দের মূল কারণ [৪ : ১০৫ - ১২৬]।
মহিলা ও শিশুদের ন্যায়নীতির সাথে আচরণ করতে হবে। বিশ্বাসীরা হবে ন্যায়বান ও বিশ্বস্ত এবং কথাবার্তায় সংযত [৪ : ১২৭ - ১৫২]।
কিছুসংখ্যক ব্যতিক্রম ব্যক্তি বাদে কিতাবীদের মধ্যে যারা বিপথে চালিত হয়েছে তাদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে [৪ : ১৫৩ - ১৭৬]।

সূরা নিসা বা নারী - ৪

আয়াত ১৭৬, রুকু ২৪, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহর নামে]


১। হে মানব সম্প্রদায় ! তোমার অভিভাবক প্রভুকে ভয় কর, যিনি তোমাকে এক ব্যক্তি সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তিনি তাঁর সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের দুজন থেকে [বৃক্ষের বীজের ন্যায়] অসংখ্য নর-নারী ইতস্ততঃ ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহকে ভয় কর যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে [অধিকার] ৫০৫ দাবী কর। এবং যে গর্ভ [তোমাকে ধারণ করে] তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হও ৫০৬। কারণ আল্লাহ্‌ সর্বদা তোমাদের পর্যবেক্ষণ করছেন।

৫০৫। জীবনের সকল কর্মকান্ড আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে নিবেদিত। "Ye demand your mutual (right)" যার বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে "তোমরা একে অপরের কাছে [অধিকার] দাবী কর।" পরস্পরের প্রতি আমাদের কর্তব্য ও অধিকার সবই আল্লাহ্‌র ইচ্ছা বা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আমরা তার দাস বা বান্দা। তার ইচ্ছাই তার বিধান আমাদের জন্য। আমরা আমাদের জীবন কতটুকু তার ইচ্ছার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পেরেছি তাই-ই হবে মূল্যায়নের বিষয়। বিখ্যাত ইংরেজ কবি টেনিসন বলেছেন "Our wills are ours, to make them Thine." (In Memorium). আমাদের পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও দায়িত্ব সবই আল্লাহ্‌র বিধান এবং আমাদের চরিত্রের এই কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ আল্লাহ্‌রই দান।

৫০৬। মওলানা ইউসুফ আলী সাহেব লিখেছেন - "And (reverence) the wombs (that bore you)" যার বাংলা অনুবাদ হওয়া উচিত "যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হও।" কিন্তু অনেক বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে, "সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে।"

আমি (অনুবাদক) মওলানা ইউসুফ আলী সাহেবের ব্যাখ্যা এখানে প্রদান করলাম।
পৃথিবীতে যতগুলি অত্যাচার্য রহস্য আছে তার মধ্যে নারী ও পুরুষের মিলনের রহস্য অন্যতম। এই মিলনের ফলেই সন্তানের জন্ম। এই মিলনের ফলেই সাংসারিক বন্ধন, প্রেম, ভালোবাসা। পুরুষ তার শারীরিক শক্তির আধিক্যে, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বোধে, অহংকারে ভুলে যায় সৃষ্টির এই আশ্চর্য রহস্যে মেয়েদের ভূমিকা তাদের থেকে কোন অংশে কম নয়। তার যুগল জীবনের সুখ শান্তি তার ভবিষ্যত জীবনের বংশধর, এ সব কিছুর জন্য সে মেয়েদের ভূমিকার কাছে ঋণী। যে গর্ভে ধারণ করে তিনি অবশ্যই শ্রদ্ধার পাত্রী। স্ত্রীর কারণেই পুরুষ পিতৃত্বের গৌরব অনুভব করে। এ কারণেই পুরুষ জাতির মেয়েদের সম্মান করা উচিত। পুরুষ ও নারীর মিলিত জীবনই হচ্ছে সংসার জীবনের মূল সেতুবন্ধ। সুতরাং যৌন জীবনকে কখনও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। কারণ এই মিলিত জীবনই হচ্ছে সংসারের কেন্দ্র বিন্দু। আর প্রতিটি সংসারই হচ্ছে সমাজের মূল একক। সংসারের বিশৃঙ্খলা বা মূল্যবোধের অবক্ষয়- এর অর্থই হচ্ছে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যে যৌন জীবন আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়, যা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে পরিচালিত করে, যার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিচালনায় আমাদের জীবন হয় ঐশ্বর্যমন্ডিত ও সমৃদ্ধ সেই যৌন জীবন সম্বন্ধে আমাদের লজ্জা, ভয় বা ঘৃণা থাকা উচিত নয়। অথবা এ জীবনকে শুধুমাত্র উপভোগের সামগ্রীতেও পরিণত করা উচিত নয়। এ জীবনকে শ্রদ্ধার সাথে, সম্মানের সাথে, সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে হবে। যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করে অর্থাৎ স্ত্রী জাতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

যারা অনুবাদ করেছেন "সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্বন্ধে" তাদের বক্তব্য নিম্নরূপ :
এই আয়াতে 'আরহাম' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলতঃ একটি বহুবচনবোধক শব্দ। এর একবচন হচ্ছে 'রেহম'। আর 'রেহম' অর্থ জরায়ু বা গর্ভাশয়। অর্থাৎ জন্মের প্রাক্কালে মায়ের উদরে যে স্থানে সন্তান জন্ম লাভ করে। জন্ম সূত্রেই মানুষ পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আত্মীয়তার ক্ষেত্রে, জ্ঞাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপণীত হয়। সেই জন্য এখানে অনুবাদ করা হয়েছে জন্মসূত্রে জ্ঞাতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক বা মনোযোগী হতে।

২। এতিমদের তাদের সম্পত্তি প্রত্যার্পন করবে [যখন তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হবে]। [তাদের] ভালোর সাথে [তোমাদের] মন্দ প্রতিস্থাপিত করো না। এবং তোমাদের সম্পদের সাথে তাদের সম্পদ [মিশিয়ে] গ্রাস করো না কারণ নিশ্চয়ই তা মহাপাপ ৫০৭।

৫০৭। এতিমের প্রতি অন্যায় না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতিমের প্রতি ন্যায়ের বিধানকে তিনটি উপায়ে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বিধানগুলি এতিমের যে বা যারা অভিভাবক তাদের জন্য প্রযোজ্য। (১) এতিম শিশুরা যখন সাবালক হবে, তখন অভিভাবকদের উপর অর্পিত সম্পদ বা সম্পত্তি তারা যথা সম্ভব শীঘ্র ফেরৎ দান করবে। অবশ্য [৪ : ৫] আয়াতে বর্ণিত অবস্থা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে। (২) "ভালোর সহিত মন্দ প্রতিস্থাপিত করিবে না।" অর্থাৎ আইন বাঁচিয়ে শুধুমাত্র তালিকা অনুযায়ী জিনিসের হিসাব মিলালেই হবে না। উদাহরণ স্বরূপঃ একখন্ড উচ্চ ফলনশীল উর্বর জমির পরিবর্তে যদি সমপরিমাণ অনুর্বর, মরুভূমি সদৃশ্য জমি ফেরৎ দেওয়া হয়। সেইরূপ এতিমের সম্পত্তির তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি জিনিসের হিসাব মিলানোই যথেষ্ট নয়। আইনকে বা লোকচক্ষুকে ফাঁকি দেওয়াই সর্বোচ্চ বুদ্ধিমানের কাজ নয়, আমানতকারীর বিশ্বস্ততাই আল্লাহ্‌র কাছে কাম্য। যে সম্পত্তি তার কাছে গচ্ছিত ছিল ফেরত দেওয়ার সময়ে সেই সম্পত্তির মূল্য গচ্ছিত সম্পত্তির সমমান হতে হবে। গচ্ছিত সম্পত্তির তালিকা থাকুক বা না থাকুক এই নীতি সব গচ্ছিত সম্পত্তির বেলায় প্রযোজ্য। (৩) যদি আমানতকারী নিজের সম্পত্তির সাথে এতিমের সম্পত্তি মিশিয়ে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ করতে চায় [যেমন- ব্যবসা-বাণিজ্য]; তবে এখানে আল্লাহ্‌র নির্দেশ হচ্ছে কঠোরভাবে ন্যায়নীতি মেনে চলতে হবে। এতিমের সম্পত্তি যেনো কোন অবস্থায়ই গ্রাস করা না হয়। আরও দেখুন [২ : ২২০] এবং এর টিকা।

৩। যদি তোমরা আশংকা কর যে এতিমদের প্রতি ন্যায় বিচার করতে পারবে না, ৫০৮, তবে [এতিমদের মধ্যে থেকে] দুই, তিন, অথবা চার জনকে বিবাহ করবে তোমার পছন্দমত। কিন্তু যদি আশাংকা কর তুমি [তাদের সকলের] সাথে সুবিচার করতে পারবে না, তবে শুধুমাত্র একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে [বিবাহ করবে]। ইহা তোমাদের জন্য অন্যায় রোধের অধিকতর উপযুক্ত ৫০৯।

৫০৮। এতিম মেয়েদের বিবাহের ব্যাপারে এখানে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে এই আয়াতটি নাজেল হয় ওহুদের যুদ্ধের পটভূমিতে। ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের বহু পরিজন শাহাদাৎ লাভ করেন। বহু নারী বিধবা হন। বহু মেয়ে এতিম হয়। এই বিধবা, এতিম নারীদের সমাজে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যেই আয়াতটি নাজেল হয়েছে। এদের প্রতি আচরণ যেন মানবিক এবং ন্যায়সঙ্গত হয়, এই আয়াতটি তারই বার্তা বহন করে। সমাজে যেনো এতিম বা বিধবারা সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারে তাই-ই এই ব্যবস্থা। ওহুদের যুদ্ধ গত হয়েছে, কিন্তু এর যে নীতি তা এখনও বলবৎ আছে। এতিম মেয়েদের বিয়ের অনুমতি তখনই দেওয়া হয়েছে, যখন তাদের বিষয় সম্পত্তি ইত্যাদি ব্যাপারে পুরোপুরি স্বার্থ রক্ষা করা এবং এতিম ও নিজ পরিবারের সবার সাথে সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আচরণ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এতিমের জন্য।

ঠিক এরকম পরিবেশ বা অবস্থার উদ্ভব হয়েছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে। পাশ্চাত্য দেশ সমূহে সক্ষম যুব সমাজ যুদ্ধে নিহত হওয়ার ফলে দেশে বিবাহযোগ্য অবিবাহিত নারীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু তাদের ধর্মে পুরুষের এক বিয়ের রীতি, সেই কারণে বহু মেয়েকে চির জীবন কুমারী জীবন যাপন করতে হয়। যদিও এদের গ্রাচ্ছাস্বদনের অভাব ছিল না, রাষ্ট্রই তাদের সে ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু মানুষ মাত্রই কামনা বাসনা থাকবে। এই কামনা পীড়িত হয়ে বহু মেয়েকেই অবৈধ জীবন যাপন করতে হয়। মেয়েদের ঘর-সংসার করার, বা মা হওয়ার জন্মগত যে আকাঙ্খা তা পূরণ হওয়া সম্ভব ছিল না। এরকম অবস্থাতেই শুধুমাত্র চার-বিয়ের সুফল ভোগ করা যায়। যারা চার বিয়ের পক্ষপাতি তাদের মনে রাখতে হবে চার বিয়ের আয়াতটি নাজেল হয়েছিল ওহদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। শান্তির সময়ে বা সুস্থ সময়ে তা প্রযোজ্য নয়।

৫০৯। ইসলাম পূর্ব যুগে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বহু বিবাহ প্রথা চালু ছিল। পবিত্র কোরানে বহু বিবাহ রোধ করে এর সংখ্যা চারে সীমিত করে দেওয়া হয়। কোরানে চারজন স্ত্রীর কথা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, যদি তাদের মধ্যে সমতা ও ন্যায়ের বিধান না করতে পারে তবে এক স্ত্রীর উপরেই নির্ভর কর। সূরা নিসার এ আয়াতে ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে না পারার আশঙ্কার ক্ষেত্রে এক বিয়েতেই তৃপ্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা শরীয়তের দোহাই দিয়ে একের অধিক বিয়ে করতে চান, তাদের চিন্তা করা উচিত আর্থিক দিক থেকে বহু-স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষা করলেও; মানসিক বা আবেগ বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে তা রক্ষা করা কতটুকু সম্ভব ? এই শর্তটি এমন এক কঠিন শর্ত যা সাধারণ মানুষের পক্ষে মেনে চলা অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। এই আয়াতটির দ্বারা এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, যুদ্ধ বা এরকম বিশেষ জরুরী অবস্থায় সামাজিক শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার জন্য চার বিয়ে প্রযোজ্য।