Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ২ জন
আজকের পাঠক জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৬৮ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৩৯১ বার
+ - R Print

সূরা রুম

সূরা রুম বা রোমান সম্রাজ্য - ৩০

৬০ আয়াত, ৬ রুকু , মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা : পূর্বের ন্যায় এই সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে Ma'ad বা জীবনের শেষ পরিণতি সম্পর্কে , বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। পূর্বের সূরাতে বলা হয়েছে সময়ের পরিক্রমায় মানুষের জীবন কত দুর্বল। এই সূরাতে সময়ের পটভূমিতে মানুষের ক্রমবিকাশের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষ দুনীর্তির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে, আল্লাহ্‌ তা পরিশুদ্ধ করেন। আল্লাহ্‌র বিশ্বজনীন পরিকল্পনা পরলোকের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। পরবর্তী দুইটি সূরাতে [ ৩১ ও ৩২ ] একই বিষয় বস্তুকে অন্য পটভূমিতে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতারাং এই চারটি সূরার [ ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ ] প্রারম্ভে আলিফ, লাম, মিম কে স্থাপন করা হয়েছে।

এই সূরার সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। সূরাটি অবতীর্ণ হয় হিজরতের ৬ থেকে ৭ বৎসর পূর্বে। সম্ভবতঃ তা ছিলো ৬১৫ - ১৬ খৃষ্টাব্দ। সে সময়ে পারসিয়ানরা ছিলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা রোম সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে। রোমের খৃষ্টান রাজা জেরুজালেমের অধিকার হারান এবং অগ্নিপূজক পারসিয়ানরা তা দখল করে। সে সময়ে এ কথা ধারণারও বাইরে ছিলো যে, শক্তিশালী পারসিয়ানদের কারও পক্ষে পরাজিত করা সম্ভব। মোশরেক কোরেশরা ছিলো পারসিয়ানদের সমর্থক , সুতারাং তারা পারসিয়ানদের বিজয়ে উল্লাসিত হয়ে ওঠে এবং রসুলুল্লাহ্‌র [ সা ] উপরে ব্যঙ্গ -বিদ্রূপ ও অপমানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ ছিলো রসুলুল্লাহ্‌র [সা] প্রচারিত বাণী ছিলো হযরত ঈসার জেরুজালেমে প্রচারিত বাণীর পুণর্জীবিতকরণ। উভয় বাণীই এক আল্লাহ্‌র নিকট থেকে আগত।

পারসিয়ানদের যুদ্ধ জয়ের সময়ে এই আয়াতগুলি [ ৩০ : ১ - ৬] অবতীর্ণ হয় যাতে পারসিয়ানদের পরাজয়ের পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে ; যা ছিলো পারস্য সাম্রাজ্য ধ্বংসের পূর্বাভাস। এই ভবিষ্যত বাণী ছিলো স্বয়ং আল্লাহ্‌ কর্তৃক দেয়া। সুতারাং তা যে কার্যকর হবে-ই সে সম্বন্ধে সন্দেহের কোন অবকাশ ছিলো না। তবুও মোশরেক কোরেশরা হযরত আবু বকরের সাথে এ ব্যাপারে বাজি রাখে এবং স্বাভাবিক ভাবেই বাজিতে হেরে যায়।

সময়ের বৃহত্তর পরিসরে ইসলামের সূচনা , প্রচার ও প্রসার। এর তুলনায়, শক্তিশালী রোমান ও পারসিয়ান সাম্রাজ্যের উত্থান পতন ছিলো অত্যন্ত নগন্য ঘটনা মাত্র। হিজরতের ৬-৭ বৎসর পূর্ব থেকে হিজরতের ২ - ১ বৎসর পর পর্যন্ত ইসলামের অস্তিত্ব ছিলো অত্যন্ত দুর্বল ; তা ছিলো পৃথিবীর বুকে মানবতার টিকে থাকার সংগ্রাম। খুব কম লোকই তখন ইসলামকে অনুসরণ করতো। কিন্তু যখন ধীরে ধীরে ইসলাম সংগঠিত হয় এবং আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করতে থাকে তখনই তার অনুসারীদের উপরে অপমান, অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে। তাদের প্রতি পদে অপমানিত , লাঞ্ছিত , সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত করা হতো, এক কথায় সর্ব প্রকারে তাদের অবদমিত করা হয়।

অবশ্য তখনও রসুলুল্লাহ্‌ [ সা ] তায়েফের ঘটনার [ হিজরতের দু বৎসর পূর্বে ] নিদারুণ যন্ত্রণার সম্মুখীন হন নাই বা হিজরতের প্রাক্কালে তাঁকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র করা হয় তা করা হয় নাই। কিন্তু শত অত্যাচার, নির্যাতন, নিষ্পেশনেও আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার নয়। বদরের যুদ্ধ [ ২য় হিজরী বা ৬২৪ খৃষ্টাব্দ ] ছিলো মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ যুগ সন্ধিক্ষণ। এখান থেকেই শুরু হয় বাইরের পৃথিবীর সাথে ইসলামের সমন্বয় সাধন এবং ভারসাম্য রক্ষা করার সিদ্ধান্ত। এটা ছিলো বাইরের ঘটনা, বৃহত্তর ঘটনা ঘটে চলেছিলো মানুষের মনোজগতে। এক বিশাল আধ্যাত্মিক জগতের সৃষ্টি হতে চলেছে। এই আধ্যাত্মিক বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ইসলাম মিথ্যা উপাস্য ও পৌরহিত্যকে ছুঁড়ে ফেলে, ধর্মের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে ধর্মীয় বিশ্বাসে সহজ সরল জীবন ধারণ পদ্ধতি চালু করে। পৃথিবীর জীবন পরলোকের জীবনের জন্য শিক্ষানবীশ কাল মাত্র। এই বিশ্বাস ইসলামের মূল বিষয়বস্তু ; অন্ধ , কুসংস্কার এবং ধর্মীয় অনুশাসনের সুক্ষ চুলচেরা বিশ্লেষণকে ইসলাম প্রত্যাখান করে সেখানে প্রকৃত বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন জ্ঞানের সন্ধান করে, এবং প্রচার করে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোন কর্মকান্ড ধর্ম নয়, ধর্ম হচ্ছে জীবনকে পরিচালনার ঐশী নির্দ্দেশ সমূহ। অর্থাৎ জীবন ও ধর্ম এক। ইসলামের মূল কথা হচ্ছে চিন্তা - অনুভূতি - কথা - কর্ম , সব এক সুতোতে গাঁথা। ইসলামের এই বিশ্বাস, সংগ্রাম পৃথিবীব্যপী চলছেই এবং চলবেই। শতাব্দীর শেষে এ কথার সত্যতা পৃথিবী ব্যপী ইসলামের প্রসারের মাধ্যমে প্রমাণ করে।

সারসংক্ষেপ : ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীতে ক্ষমতার উত্থান পতন ঘটে, - যা পারসিয়ান ও রোম সাম্রাজ্যের উত্থানপতনকে প্রতীক হিসেবে এখানে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এই বাহ্যিক ঘটনাগুলি বিবরণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বব্রহ্মান্ডে আল্লাহ্‌র অত্যাশ্চার্য কর্মপদ্ধতির গভীরতা বুঝানোর জন্য। দেখানো হয়েছে কি ভাবে ভালো ও মন্দ তাদের শেষ পরিণতি লাভ করে। [ ৩০ : ১ - ১৯ ]

আল্লাহ্‌র সৃষ্টিতে উত্থান পতন , শারীরিক , নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক যে কোনও পরিবর্তন সবই নির্দ্দেশ করে আল্লাহ্‌র একত্বের দিকে। মানব কখনও আল্লাহ্‌র একত্ব থেকে বিপথে যাবে না। বরং সে সেই বিশ্ব স্রষ্টার প্রশংসা করবে কারণ তাঁর সমকক্ষ কেউ নাই। [ ৩০ : ২০ - ৪০ ]

মানুষ পৃথিবীতে দুর্নীতি দ্বারা বিপর্যয় সৃষ্টি করে থাকে। আল্লাহ্‌ দূষিত প্রাকৃতিক পরিবেশ যে ভাবে পরিশুদ্ধ করেন, দুর্বলকে যে ভাবে সবল করেন, নির্দ্দিষ্ট সময়ের পরে শক্তিশালীকে যে ভাবে টেনে নামান, ঠিক সেই ভাবে আল্লাহ্‌ মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জগতকে পরিশুদ্ধ করেন। সুতারাং ধৈর্য, অধ্যাবসায় অবলম্বন কর, হতাশ হয়ো না। [ ৩০ : ৪১ - ৬০ ]।

সূরা রুম বা রোমান সম্রাজ্য - ৩০

৬০ আয়াত, ৬ রুকু , মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


০১। আলিফ্‌ - লাম্‌- মীম ।

০২। রোম সম্রাজ্য পরাজিত হয়েছে ৩৫০৫ , -

৩৫০৫। হেরাক্লিয়াসের অধীনে রোমান সম্রাজ্যের পতন ঘটে। রোমানদের শুধু যে এই একটি পতন ঘটে তাই-ই নয়, এশিয়ায় অবস্থিত তাদের বিস্তৃত ভূখন্ড তারা হারায়। প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের রাজধানী কনস্‌টান্টিনেপালের চতুপার্শ্বের সকল ভুখন্ড হারায়। " নিকটবর্তী অঞ্চল" বাক্যটি দ্বারা সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, জেরুজালেম কে বোঝানো হয়েছে যা রোমানরা ৬১৪ -১৫ খৃষ্টাব্দের মধ্যে হারায়। এই সূরাটি এই সময়ের কিছু পূর্বে অবতীর্ণ হয়।

০৩। নিকটবর্তী অঞ্চলে। কিন্তু উহারা উহাদের এই পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে; - ৩৫০৬

৩৫০৬। পারসিয়ানদের দ্বারা রোমানদের পরাজয় মোশরেক কোরেশদের আনন্দে উৎফুল্ল করেছিলো। কারণ তাদের ধারণা হয়েছিলো যে, এত শক্তিশালী রোমক সম্রাটের যদি অগ্নি উপাসক পারসিয়ানদের দ্বারা পরাজিত হতে হয়, তবে ইসলামের অনুসারী ক্ষুদ্র গোষ্ঠিকে তারা হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতনের মাধ্যমে ধবংস করতে সক্ষম হবে না কেন ? কিন্তু তারা মহাকালের লিখন পড়তে অক্ষম ছিলো। এই সূরাতে তাদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে, শীঘ্রই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে, এবং তারা উপলব্ধি করবে তাদের হিসেবের ভুল। বাস্তবেও তাই ঘটেছিলো , ইসাসের যুদ্ধে [Battle of Issus ] ৬২২ খৃষ্টাব্দে [ যে বছর রসুলুল্লাহ্‌ হিজরত করেন ] পারসিয়ানদের পরাজয়ের মাধ্যমে। ৬২৪ খৃষ্টাব্দে রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াস পারস্যের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং ঠিক সেই সময়েই বদরের যুদ্ধে কোরেশরা নব্য মুলসমানদের নিকট পরাজয় বরণ করে।

০৪। কয়েক বৎসরের মধ্যেই ৩৫০৭। অতীত ও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত আল্লাহ্‌র হাতে। সেদিন বিশ্বাসীগণ হর্ষোৎফুল্ল হবে , - ৩৫০৮

৩৫০৭। "Bidh'un" শব্দটির অর্থ স্বল্পকাল যা তিন থেকে নয় বৎসরকে বোঝায়। রোমানদের জেরুজালেম হারানোর ঘটনা ঘটেছিলো [ ৬১৪ - ১৫ ] খৃষ্টাব্দের মধ্যে এবং তা পুণরায় উদ্ধার করে ইসাসের [ Issus] যুদ্ধে জয় লাভ করে ৬২২ খৃষ্টাব্দে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ ঘটনা ঘটে প্রায় সাত বৎসর সময়কালের মধ্যে। এবং হেরাক্লিয়াস পারস্যের অভ্যন্তরে প্রবেশ লাভ করেন নয় বৎসর সময়ের মধ্যে। দেখুন উপরের টিকা।

৩৫০৮। দেখুন টিকা ৩৫০৬। বদরের যুদ্ধ [ হিজরী দ্বিতীয় বর্ষ = ৬২৪ খৃষ্টাব্দ ] মুমিনগণদের জন্য ছিলো প্রকৃত আনন্দের সময়। কোরেশরা মুসলমানদের পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করার মানসে মদিনা আক্রমণ করে, তাদের ধারণা ছিলো তারা খুব সহজেই মুসলমানদের পরাজিত করবে এবং মদিনার ইসলামের জাগরণকে স্তব্ধ করে দেবে,যে ভাবে তারা মক্কাতে মুসলমানদের নির্যাতিত করতো। কিন্তু তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয় এবং তারা পরাজিত ও বিতাড়িত হয়।

০৫। আল্লাহ্‌র [ এই ] সাহায্যের কারণে। তিনি যাকে খুশী সাহায্য করেন এবং তিনি ক্ষমতায় পরাক্রমশালী, পরম করুণাময়।

৩৫০৯। " তিনি যাকে খুশী " - এই বাক্যটিকে বিভিন্ন জায়গাতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা হচ্ছে বিচক্ষণ এবং সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তার সুবৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। তিনি স্বেচ্ছাচারীর ন্যায় যখন যা খুশী তাই করেন না - তার পরিকল্পনাও যথেচ্ছ নয়। তাঁর পরিকল্পনা সর্বোচ্চ জ্ঞান সমৃদ্ধ। তাঁর পরিকল্পনায় সকল প্রাণী তাঁর দয়া ও করুণায় বিধৌত হয়। তিনি সৃষ্ট সকল প্রাণীর অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেন এবং স্বার্থপর ও অত্যাচারীদের থেকে সৃষ্ট সকল প্রাণীকে রক্ষা করেন। "যাকে খুশী " অর্থাৎ তাঁর বিচক্ষণ পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য যাকে যা [ ক্ষমতা, সম্পদ, শক্তি ইত্যাদি ] দেয়া প্রয়োজন তিনি তা দিয়ে থাকেন। যে কোনও অবস্থায় ও সময়ে আল্লাহ্‌ তাঁর পরিকল্পনা কার্যকর করতে সক্ষম। পৃথিবীতে এমন কোনও শক্তি নাই যে তার পরিকল্পনা প্রতিহত করতে পারে।

০৬। ইহা আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার ৩৫১০। আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা অনুধাবন করে না।

৩৫১০। অঙ্গীকার অর্থ আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্ত এবং হুকুম। আল্লাহ্‌র সৃষ্ট এই বিশাল বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের প্রতিটি অণু পরমাণুর জন্য আল্লাহ্‌ নির্দ্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান চালু করেছেন। এ সবই আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্ত। এই আয়াতগুলির মাধ্যমে আমাদের শুভ সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, তিনি তার বিশ্বাসী মোমেন বান্দাদের পার্থিব জীবনের সকল বাধা, বিপত্তি দূর করে দেবেন, এবং আল্লাহ্‌র রাস্তায় সংগ্রামে মোমেন বান্দাদের সর্বদা জয়ী করবেন। যদিও এই আয়াতের মাধ্যমে বদরের যুদ্ধে জয়ী মোমেন বান্দাদের সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু এর আবেদন যুগ কাল অতিক্রান্ত। আল্লাহ্‌র এই আশ্বাস বাণী সকল সময়ের ও সকল পরিবেশের জন্য প্রযোজ্য। যারা মোমেন বান্দা, তারা দুঃসময়ে বিমর্ষ বা হতাশ হয়ে পড়বে না, কারণ তারা জানে তাদের জন্য আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রস্তুত। সাধারণ লোকেরা অন্যায় পথে সাফল্য লাভ করে ও গর্বে অহংকারে স্ফীত হয়ে ওঠে ; কারণ তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয় যে আল্লাহ্‌র ইচ্ছাকে বাধা দান করার ক্ষমতা কারও নাই , তাদের অন্যায় আচরণ একদিন ধ্বংস হবেই। আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।

০৭। তারা তো শুধু পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয় সম্বন্ধে জানে ৩৫১১। কিন্তু [ জীবনের ] শেষ বিষয় সম্বন্ধে তারা অমনোযোগী ৩৫১২।

৩৫১১। বাইরের পৃথিবীর চাকচিক্য সাধারণ মানবকে অভিভূত করে ফেলে, - ফলে সে জীবনের প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে অক্ষম হয়। অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন মানব বুঝতে পারে যে, আপাতঃ নিপতিত বিপদ, দুর্যোগ ও দুঃসময় , সূদূর ভবিষ্যতকে স্বর্ণমন্ডিত করে তোলে। কারণ বিপদ বিপর্যয়ের অতিক্রমের মাধ্যমেই চরিত্রের গুণাবলী যথা ধৈর্য্য, অধ্যবসায়, সহনশীলতা, কর্মক্ষমতা, আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভরশীলতা প্রভৃতি গুণের বিকাশ লাভ করে থাকে; যা পরবর্তী জীবনে সাফল্যের স্বর্ণদুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়।