+
-
R
[দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা : পরবর্তী চারটি সূরা [ ২৬ - ২৯ ] এক নূতন ক্রমপঞ্জির অবতারণা করেছে। এখানে তুলনা করা হয়েছে আল্লাহ্র নবীদের সাথে। আল্লাহ্র বাণী প্রচারের ফলে সমসাময়িক সম্প্রদায়ের মাঝে তার প্রতিক্রিয়া। উদাহরণ দেয়া হয়েছে প্রাচীন যুগের নবী রসুলদের। এ ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে সূরা ১৭ এর ভূমিকাতে।
এই বিশেষ সূরাটিতে হযরত মুসার কাহিনীর মাধ্যমে মুসার সাথে ফেরাউনের বিরোধ এবং ফেরাউনের পরাজয়কে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য যে সব নবীদের উল্লেখ আছে, তারা হলেন ইব্রাহীম, নূহ্, হুদ, সালেহ্ , লূত এবং শুয়েব। এখানে এই শিক্ষাদান করা হয়েছে যে, কোরাণ হচ্ছে পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশেরই ধারাবাহিকতা এবং তা হচ্ছে শাশ্বত সত্য। অবশ্যই তা কোন কবির মিথ্যা গীতিকাব্য নয়।
ক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এই সূরা রসুলের [ সা ] মক্কাতে অবস্থানের মধ্যবর্তী সময়ে অবতীর্ণ হয়। যখন নবুয়তের আলো মক্কার কোরেশদের শতাব্দীর অজ্ঞতার অন্ধকার কে আঘাত হেনেছিলো , তখন তা তারা প্রতিহত করে অহংকার , উদ্ধত অবাধ্যতা দ্বারা।
সারসংক্ষেপ : সত্য বিশ্বাসের সাথে অবিশ্বাসের সংঘর্ষ ভিত্তিহীন। ঠিক সেরূপ বৃথা ছিলো মুসার সাথে ফেরাউনের বিরোধিতা। ফেরাউনের সভার যাদুকরেরা মুসার প্রভাবের প্রকৃত সত্যকে প্রতিভাত করে এবং সত্যের নিকট আত্মাসমর্পন করে, অপরপক্ষে অবিশ্বাসী ফেরাউন ও তাঁর সভাসদ্রা পানিতে ডুবে মারা যায় [২৬ : ১ - ৬৯ ]।
সত্যকে প্রতিহত করার মাধ্যমে ইব্রাহীমের সম্প্রদায় কোনও কিছুই লাভ করতে পারে নাই। নূহ্ এর সম্প্রদায় তাদের অবিশ্বাসের দরুণ ধ্বংস হয়ে যায় [ ২৬ : ৭০ - ১২২ ]।
হুদ তাঁর সম্প্রদায়কে জাগতিক বিষয়ের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। সালেহ্ নবী পবিত্র নিদর্শনকে অপবিত্র করার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। উভয় ক্ষেত্রেই পাপীরা শাস্তি পায় [ ২৬ : ১২৩ - ১৫৯]
লূত তাঁর সম্প্রদায়কে জঘন্য পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করেন, শোয়েব অসৎ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এবং অন্যের ক্ষতি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। তাদের শিক্ষা গ্রহণ না করে প্রতিহত করে ফলে তারা ধ্বংস হয়ে যায় [২৬:১৬০- ১৯১ ]।
ঠিক সেভাবেই নবুয়তের আলো যখন মক্কাতে অবতীর্ণ ঘটে, পাপের পূজারীরা তাকে বাঁধা দান করে। কিন্তু সত্য তো কোনও অলীক বা কল্পনা প্রসুত কবিতা নয়, অবশ্যই তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই [ ২৬ : ১৯২ - ২২৭ ]।
[দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
৩১৩৭। এই তিনটি বর্ণমালা সাংকেতিক সমষ্টি মাত্র যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র রাব্বুল আলামীন জানেন।
৩১৩৮। দেখুন আয়াত [ ৫ : ১৫ ]।
৩১৩৯। 'তারা' শব্দটি দ্বারা মক্কার মোশরেকদের বোঝানো হয়েছে। হিজরতের পূর্বে মক্কাতে অবস্থান কালে মক্কার মোশরেকদের সত্যকে প্রতিহত করার প্রবণতা আল্লাহ্র রসুলকে [সা ] হতাশ করে। এই হতাশাকেই এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ বিশ্ববাসীকে অবহিত করেন। কারণ কোনও মহৎ কাজে সফলতা না অর্জিত হলে সাধারণ মানুষের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের এই প্রবণতা থেকে আল্লাহ্র রসুলও মুক্ত ছিলেন না। রসুলের [ সা ] জীবনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন যে , মহৎ কাজে হতাশার স্থান নাই। সাফল্যের দাবীদার একমাত্র সেই মহাপরাক্রমশালী , বিশ্ববিধাতা।
৩১৪০। আল্লাহ্র ইচ্ছাই আল্লাহ্র পরিকল্পনা - এই বিশ্বভূবন ও বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের পরিচালনার। আল্লাহ্ যদি তার পরিকল্পনায় মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দানের ইচ্ছা প্রকাশ না করতেন , তবে বিশ্ব ভূবনে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি থাকতো না। অন্যান্য প্রাণীদের ন্যায় সে শুধু নিজ প্রবণতা [Instinct] যা বিশ্ব বিধাতা তার মাঝে আরোপ করেছেন তা দ্বারাই পরিচালিত হতো। কিন্তু আল্লাহ্ তা না করে মানুষকে "সীমিত আকারে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি " দান করেছেন, আবার সেই "ইচ্ছাশক্তিকে " সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে নবীদের মাধ্যমে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছেন, যাতে মানুষ আত্মিক উন্নতির সন্ধান লাভ করে। সুতারাং মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ্রই ইচ্ছা বা পরিকল্পনার অংশ।
৩১৪১। এই আয়াত গুলির মাধ্যমে রসুলের [ সা ] সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে , কিন্তু এর আবেদন সর্বকাল ও যুগের জন্য প্রযোজ্য। মক্কার অবিশ্বাসী মোশরেকরা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশকে ঠাট্টা -বিদ্রূপের বিষয়বস্তুতে পরিণত করে। এখানে আল্লাহ্ তাদের সাবধান করে দিয়েছেন যে তাদের কর্মফল তারা পাবে, সত্যের ক্ষমতা অনুধাবনের মাধ্যমে তারা প্রকৃত অবস্থাকে বুঝতে সক্ষম হবে যা তারা প্রতিহত করতে চেয়েছিলো। কোথায় ছিলো তখন মোশরেকরা যখন বদরের যুদ্ধে তাদের পরাজয় ঘটে যখন রক্তপাতহীন ভাবে মক্কা বিজিত হয়? এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ সর্ব যুগের মোমেন বান্দাদের এই আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতিকূলতা সত্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের জেহাদ জয় লাভ করবেই। " [খুব ] শীঘ্রই তার সত্যতা সম্বন্ধে জানতে পারবে।"
৩১৪২। এই আয়াতে আল্লাহ্ মোশরেকদের পৃথিবীতে তাঁর সৃষ্ট পদার্থের দিকে দৃষ্টিপাত করার জন্য আহ্বান করেছেন। আল্লাহ্র সৃষ্টির স্বাক্ষর এই নৈসর্গে ভরা পৃথিবী। কিন্তু এই পৃথিবীর দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে আমরা দেখতে পাই যে, এখানে অন্যায়কারী ও পাপীর কোনও স্থান নাই। ক্ষণস্থায়ী অবকাশকে তারা যেনো তাদের জন্য স্থায়ী না ভাবে। পৃথিবীর ঘটনা পুঞ্জ থেকে তাদের এই নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা লাভ করতে অক্ষম কারণ তারা আত্মিক দিক থেকে অন্ধ , চক্ষু থাকতেও তারা সত্যকে দেখতে পাবে না , তাদের আত্মা অন্ধকারে আবৃত, কারণ তাদের মাঝে ঈমান বা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাসের আলো নাই সুতারাং তাদের অর্ন্তদৃষ্টির [Spiritual insight] অভাব ঘটবে।
৩১৪৩। মহাপরাক্রমশালী - অর্থাৎ তিনি তাঁর সকল ইচ্ছা বা পরিকল্পনা একা কার্যে পরিণত করতে সক্ষম। দেখুন আয়াত [ ২২ : ৪০ ] ও টিকা ২৮১৮।
রুকু - ২
৩১৪৪। মুসার কাহিনীর কিছু অংশ এই সূরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাহিনীতে দেখানো হয়েছে যে, দায়িত্ব প্রাপ্তির পরে মুসা কিভাবে আত্মাবিশ্বাসের অভাববোধ করেছিলেন; কিভাবে আল্লাহ্ তাকে আশ্বস্ত করেন, কিভাবে তিনি আল্লাহ্র নিদর্শনসহ ফেরাউনের নিকট গমন করেন; কিভাবে ফেরাউন ও তার সভাসদরা তা প্রত্যাখান করে; কিভাবে আল্লাহ্র নিন্দা তাদের উপরে ভয়ের কারণরূপে নিপতিত হয়। এ সবের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে সত্য শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই। অন্য কথায় দুষ্ট ও পাপীদের সত্যের আলো প্রত্যক্ষে যে প্রতিক্রিয়া হয় তাকেই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর সাথে অনুভব করতে হবে ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ্র দূতদের মানসিক অবস্থা।
৩১৪৫। মুসা জন্মগতভাবে তোতলা ছিলেন। স্বাভাবিক ও স্বতঃষ্ফুর্ত ভাবে তিনি কথা বলতে পারতেন না। উপরন্তু তাঁর দায়িত্বটি ছিলো অত্যন্ত বিপদ সংকুল। [দেখুন পরবর্তী টিকা ]। আল্লাহ্র পরিকল্পনা বিচিত্র উপায়ে বাস্তবায়িত হয়। হারুনকে তাঁর সাহাযার্থে নিয়োগ করা হয় এবং মুসার দোষত্রুটি ও অক্ষমতাকে আল্লাহ্ শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেন। সুতারাং আল্লাহ্র করুণায় হযরত মুসা ইসরাঈলীদের মধ্যে শক্তিশালী নেতারূপে আর্বিভূত হন।
সূরা শু'য়ারা
Page 1 of 11
সূরা শু'য়ারা বা কবি - ২৬
২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, মক্কী[দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
ভূমিকা : পরবর্তী চারটি সূরা [ ২৬ - ২৯ ] এক নূতন ক্রমপঞ্জির অবতারণা করেছে। এখানে তুলনা করা হয়েছে আল্লাহ্র নবীদের সাথে। আল্লাহ্র বাণী প্রচারের ফলে সমসাময়িক সম্প্রদায়ের মাঝে তার প্রতিক্রিয়া। উদাহরণ দেয়া হয়েছে প্রাচীন যুগের নবী রসুলদের। এ ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে সূরা ১৭ এর ভূমিকাতে।
এই বিশেষ সূরাটিতে হযরত মুসার কাহিনীর মাধ্যমে মুসার সাথে ফেরাউনের বিরোধ এবং ফেরাউনের পরাজয়কে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য যে সব নবীদের উল্লেখ আছে, তারা হলেন ইব্রাহীম, নূহ্, হুদ, সালেহ্ , লূত এবং শুয়েব। এখানে এই শিক্ষাদান করা হয়েছে যে, কোরাণ হচ্ছে পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশেরই ধারাবাহিকতা এবং তা হচ্ছে শাশ্বত সত্য। অবশ্যই তা কোন কবির মিথ্যা গীতিকাব্য নয়।
ক্রমপঞ্জি অনুযায়ী এই সূরা রসুলের [ সা ] মক্কাতে অবস্থানের মধ্যবর্তী সময়ে অবতীর্ণ হয়। যখন নবুয়তের আলো মক্কার কোরেশদের শতাব্দীর অজ্ঞতার অন্ধকার কে আঘাত হেনেছিলো , তখন তা তারা প্রতিহত করে অহংকার , উদ্ধত অবাধ্যতা দ্বারা।
সারসংক্ষেপ : সত্য বিশ্বাসের সাথে অবিশ্বাসের সংঘর্ষ ভিত্তিহীন। ঠিক সেরূপ বৃথা ছিলো মুসার সাথে ফেরাউনের বিরোধিতা। ফেরাউনের সভার যাদুকরেরা মুসার প্রভাবের প্রকৃত সত্যকে প্রতিভাত করে এবং সত্যের নিকট আত্মাসমর্পন করে, অপরপক্ষে অবিশ্বাসী ফেরাউন ও তাঁর সভাসদ্রা পানিতে ডুবে মারা যায় [২৬ : ১ - ৬৯ ]।
সত্যকে প্রতিহত করার মাধ্যমে ইব্রাহীমের সম্প্রদায় কোনও কিছুই লাভ করতে পারে নাই। নূহ্ এর সম্প্রদায় তাদের অবিশ্বাসের দরুণ ধ্বংস হয়ে যায় [ ২৬ : ৭০ - ১২২ ]।
হুদ তাঁর সম্প্রদায়কে জাগতিক বিষয়ের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। সালেহ্ নবী পবিত্র নিদর্শনকে অপবিত্র করার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। উভয় ক্ষেত্রেই পাপীরা শাস্তি পায় [ ২৬ : ১২৩ - ১৫৯]
লূত তাঁর সম্প্রদায়কে জঘন্য পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করেন, শোয়েব অসৎ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এবং অন্যের ক্ষতি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে সাবধান করেন। তাদের শিক্ষা গ্রহণ না করে প্রতিহত করে ফলে তারা ধ্বংস হয়ে যায় [২৬:১৬০- ১৯১ ]।
ঠিক সেভাবেই নবুয়তের আলো যখন মক্কাতে অবতীর্ণ ঘটে, পাপের পূজারীরা তাকে বাঁধা দান করে। কিন্তু সত্য তো কোনও অলীক বা কল্পনা প্রসুত কবিতা নয়, অবশ্যই তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই [ ২৬ : ১৯২ - ২২৭ ]।
সূরা শু'য়ারা বা কবি - ২৬
২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, মক্কী[দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে ]
০১। তা - সীন - মীম ৩১৩৭।
৩১৩৭। এই তিনটি বর্ণমালা সাংকেতিক সমষ্টি মাত্র যার প্রকৃত অর্থ একমাত্র রাব্বুল আলামীন জানেন।
০২। এগুলি সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী কিতাবের আয়াত [ নিদর্শন ] ৩১৩৮।
৩১৩৮। দেখুন আয়াত [ ৫ : ১৫ ]।
০৩। যেহেতু তারা ঈমান আনছে না সেহেতু তুমি মনোঃকষ্টে দুঃখিত হয়ে পড়ো না ৩১৩৯।
৩১৩৯। 'তারা' শব্দটি দ্বারা মক্কার মোশরেকদের বোঝানো হয়েছে। হিজরতের পূর্বে মক্কাতে অবস্থান কালে মক্কার মোশরেকদের সত্যকে প্রতিহত করার প্রবণতা আল্লাহ্র রসুলকে [সা ] হতাশ করে। এই হতাশাকেই এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ বিশ্ববাসীকে অবহিত করেন। কারণ কোনও মহৎ কাজে সফলতা না অর্জিত হলে সাধারণ মানুষের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের এই প্রবণতা থেকে আল্লাহ্র রসুলও মুক্ত ছিলেন না। রসুলের [ সা ] জীবনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে আল্লাহ্ হেদায়েত করেছেন যে , মহৎ কাজে হতাশার স্থান নাই। সাফল্যের দাবীদার একমাত্র সেই মহাপরাক্রমশালী , বিশ্ববিধাতা।
০৪। [এই ] যদি আমার ইচ্ছা হতো, তবে আমি আকাশ থেকে তাদের জন্য এমন নিদর্শন পাঠাতাম যে বিনয়ে তাদের ঘাড় অবনত হয়ে পড়তো ৩১৪০।
৩১৪০। আল্লাহ্র ইচ্ছাই আল্লাহ্র পরিকল্পনা - এই বিশ্বভূবন ও বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের পরিচালনার। আল্লাহ্ যদি তার পরিকল্পনায় মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দানের ইচ্ছা প্রকাশ না করতেন , তবে বিশ্ব ভূবনে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি থাকতো না। অন্যান্য প্রাণীদের ন্যায় সে শুধু নিজ প্রবণতা [Instinct] যা বিশ্ব বিধাতা তার মাঝে আরোপ করেছেন তা দ্বারাই পরিচালিত হতো। কিন্তু আল্লাহ্ তা না করে মানুষকে "সীমিত আকারে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি " দান করেছেন, আবার সেই "ইচ্ছাশক্তিকে " সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে নবীদের মাধ্যমে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছেন, যাতে মানুষ আত্মিক উন্নতির সন্ধান লাভ করে। সুতারাং মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ্রই ইচ্ছা বা পরিকল্পনার অংশ।
০৫। যখনই তাদের নিকট দয়াময় [আল্লাহ্র ] নিকট থেকে কোন নূতন উপদেশ আসে, তখনই ওরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
০৬। তারা অবশ্যই [ উপদেশকে ] প্রত্যাখান করেছে। তারা যা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছে, [ খুব ] শীঘ্রই তার সত্যতা সম্বন্ধে জানতে পারবে ৩১৪১।
০৬। তারা অবশ্যই [ উপদেশকে ] প্রত্যাখান করেছে। তারা যা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছে, [ খুব ] শীঘ্রই তার সত্যতা সম্বন্ধে জানতে পারবে ৩১৪১।
৩১৪১। এই আয়াত গুলির মাধ্যমে রসুলের [ সা ] সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে , কিন্তু এর আবেদন সর্বকাল ও যুগের জন্য প্রযোজ্য। মক্কার অবিশ্বাসী মোশরেকরা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশকে ঠাট্টা -বিদ্রূপের বিষয়বস্তুতে পরিণত করে। এখানে আল্লাহ্ তাদের সাবধান করে দিয়েছেন যে তাদের কর্মফল তারা পাবে, সত্যের ক্ষমতা অনুধাবনের মাধ্যমে তারা প্রকৃত অবস্থাকে বুঝতে সক্ষম হবে যা তারা প্রতিহত করতে চেয়েছিলো। কোথায় ছিলো তখন মোশরেকরা যখন বদরের যুদ্ধে তাদের পরাজয় ঘটে যখন রক্তপাতহীন ভাবে মক্কা বিজিত হয়? এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্ সর্ব যুগের মোমেন বান্দাদের এই আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতিকূলতা সত্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের জেহাদ জয় লাভ করবেই। " [খুব ] শীঘ্রই তার সত্যতা সম্বন্ধে জানতে পারবে।"
০৭। তারা কি পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখে না ? সেখানে আমি পরম সুন্দর নানা রকম কত কি সৃষ্টি করেছি ৩১৪২।
৩১৪২। এই আয়াতে আল্লাহ্ মোশরেকদের পৃথিবীতে তাঁর সৃষ্ট পদার্থের দিকে দৃষ্টিপাত করার জন্য আহ্বান করেছেন। আল্লাহ্র সৃষ্টির স্বাক্ষর এই নৈসর্গে ভরা পৃথিবী। কিন্তু এই পৃথিবীর দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে আমরা দেখতে পাই যে, এখানে অন্যায়কারী ও পাপীর কোনও স্থান নাই। ক্ষণস্থায়ী অবকাশকে তারা যেনো তাদের জন্য স্থায়ী না ভাবে। পৃথিবীর ঘটনা পুঞ্জ থেকে তাদের এই নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা লাভ করতে অক্ষম কারণ তারা আত্মিক দিক থেকে অন্ধ , চক্ষু থাকতেও তারা সত্যকে দেখতে পাবে না , তাদের আত্মা অন্ধকারে আবৃত, কারণ তাদের মাঝে ঈমান বা আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাসের আলো নাই সুতারাং তাদের অর্ন্তদৃষ্টির [Spiritual insight] অভাব ঘটবে।
০৮। অবশ্যই এটা একটা নিদর্শন। কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা বিশ্বাস করে না।
০৯। আর নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু মহা শক্তিশালী , পরম করুণাময় ৩১৪৩।
০৯। আর নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু মহা শক্তিশালী , পরম করুণাময় ৩১৪৩।
৩১৪৩। মহাপরাক্রমশালী - অর্থাৎ তিনি তাঁর সকল ইচ্ছা বা পরিকল্পনা একা কার্যে পরিণত করতে সক্ষম। দেখুন আয়াত [ ২২ : ৪০ ] ও টিকা ২৮১৮।
রুকু - ২
১০। দেখো, তোমার প্রভু মুসাকে ডেকে বলেছিলো , " তুমি অন্যায়কারী সম্প্রদায়ের নিকট যাও - ৩১৪৪
১১। "ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি আল্লাহ্কে ভয় করবে না ? "
১১। "ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি আল্লাহ্কে ভয় করবে না ? "
৩১৪৪। মুসার কাহিনীর কিছু অংশ এই সূরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাহিনীতে দেখানো হয়েছে যে, দায়িত্ব প্রাপ্তির পরে মুসা কিভাবে আত্মাবিশ্বাসের অভাববোধ করেছিলেন; কিভাবে আল্লাহ্ তাকে আশ্বস্ত করেন, কিভাবে তিনি আল্লাহ্র নিদর্শনসহ ফেরাউনের নিকট গমন করেন; কিভাবে ফেরাউন ও তার সভাসদরা তা প্রত্যাখান করে; কিভাবে আল্লাহ্র নিন্দা তাদের উপরে ভয়ের কারণরূপে নিপতিত হয়। এ সবের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে সত্য শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই। অন্য কথায় দুষ্ট ও পাপীদের সত্যের আলো প্রত্যক্ষে যে প্রতিক্রিয়া হয় তাকেই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর সাথে অনুভব করতে হবে ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ্র দূতদের মানসিক অবস্থা।
১২। সে বলেছিলো , " হে আমার প্রভু ! আমার ভয় হচ্ছে যে তারা আমাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করবে। "
১৩। " [ ভয়ে ] আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ৩১৪৫। এবং [ তোতলামীর জন্য ] আমার ভাষা খুব সাবলীল নয়। সুতারাং হারুনকেও আমার সাথে পাঠাও।
১৩। " [ ভয়ে ] আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে ৩১৪৫। এবং [ তোতলামীর জন্য ] আমার ভাষা খুব সাবলীল নয়। সুতারাং হারুনকেও আমার সাথে পাঠাও।
৩১৪৫। মুসা জন্মগতভাবে তোতলা ছিলেন। স্বাভাবিক ও স্বতঃষ্ফুর্ত ভাবে তিনি কথা বলতে পারতেন না। উপরন্তু তাঁর দায়িত্বটি ছিলো অত্যন্ত বিপদ সংকুল। [দেখুন পরবর্তী টিকা ]। আল্লাহ্র পরিকল্পনা বিচিত্র উপায়ে বাস্তবায়িত হয়। হারুনকে তাঁর সাহাযার্থে নিয়োগ করা হয় এবং মুসার দোষত্রুটি ও অক্ষমতাকে আল্লাহ্ শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেন। সুতারাং আল্লাহ্র করুণায় হযরত মুসা ইসরাঈলীদের মধ্যে শক্তিশালী নেতারূপে আর্বিভূত হন।
