Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৩ জন
আজকের পাঠক ২০ জন
সর্বমোট পাঠক ১২৪০৯০ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ৮৩৪০০ বার
+ - R Print

সূরা ফুরকান

সূরা ফুরকান বা মানদণ্ড - ২৫

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা : জ্ঞানী ও মূর্খ , পূণ্যাত্মা ও পাপী , আত্মিক সমৃদ্ধি ও আত্মিক অধঃপতনের মধ্যে বৈষম্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলনা করার জন্য আলো ও অন্ধকারের উপমাকে এই সূরাতে ব্যবহার করা হয়েছে। মোমেন বান্দার পরিচয় তার কর্মের মাধ্যমে। এই কর্মের সঞ্চার মাধ্যমে এই সূরাকে শেষ করা হয়েছে।

এই সূরাটি প্রধানতঃ একটি মক্কী সূরা। কিন্তু এর অবতরণ কাল সম্বন্ধে কোনও নির্দ্দিষ্ট সময় বা তারিখ জানা যায় না।

সারসংক্ষেপ : মানুষের প্রতি আল্লাহ্‌র সর্বোচ্চ দান বা নেয়ামত হচ্ছে তিনি মানুষকে ন্যায়, অন্যায় , পাপ ও পূন্যের মানদন্ড দান করেছেন। আল্লাহ্‌ প্রত্যাদেশের মাধ্যমে আমাদের পরকালের অনন্ত জীবনের তাৎপর্য সম্বন্ধে শিক্ষা দান করেন [ ২৫ : ১ - ২০ ]।

যারা পৃথিবীতে এই মানদন্ড মেনে চলে না , শেষ বিচারের দিনে তাদের অবর্ণনীয় দুঃখ হবে। আল্লাহ্‌ সর্বদা, মানুষকে সাবধান করে দিয়েছেন। [ ২৫ : ২১ - ৪৪ ]।

সূর্যকিরণ ও ছায়া , রাত্রি ও দিন , মৃত্যু ও জীবন এবং আল্লাহ্‌র সৃষ্টির শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অনুধাবনের মাঝে, মানুষের জন্য নিহিত আছে আল্লাহ্‌র মহত্বকে অনুধাবনের ও শিক্ষার ব্যবস্থা। মোমেন বান্দার গুণাবলীই তাকে আল্লাহ্‌র তত্ববধানের উপযুক্ত করে। [ ২৫ : ৪৫ - ৭৭ ]।

সূরা ফুরকান বা মানদণ্ড - ২৫

৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

০১। অশেষ মঙ্গলময় ৩০৫২ তিনি, যিনি তাঁর বান্দার জন্য ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী মানদণ্ড প্রেরণ করেছেন, ৩০৫৩ যেনো তা সমস্ত সৃষ্টির জন্য সতর্ককারী হতে পারে ; ৩০৫৪

৩০৫৩। ''ফুরকান" অর্থাৎ যার মাধ্যমে আমরা পাপ পূণ্যের পার্থক্য করতে পারি। এই আয়াতে ফুরকান দ্বারা কোরাণকে বোঝানো হয়েছে যা পূর্বেই আলোর প্রতীক দ্বারা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতীককে এখানে আরও দীর্ঘায়িত করা হয়েছে এবং বৈষম্যগুলিকে তুলনা করা হয়েছে। এই তুলনার মাধ্যমেই আমরা পাপ ও পূণ্যের মধ্যে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। ফুরকান আমাদের সেই আলোর পথে পরিচালিত করে।

৩০৫৪। 'Yakuna' সর্বনামটি দ্বারা ফুরকান কে বোঝানো হয়েছে অথবা Abd বা রসুলকে বোঝানো হয়েছে। উভয়ক্ষেত্রে অর্থের কোনও তারতম্য ঘটে না। কোরাণ হচ্ছে পাপ ও পূণ্যের মধ্যে পার্থক্যের প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড।

০২। তিনিই , যার অধিকারে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী। তিনি কোন পুত্র সন্তান গ্রহণ করেন নাই। সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন অংশীদার নাই। তিনিই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলিকে সুবিন্যস্ত করেছেন যথাযথ অনুপাতে ৩০৫৫।

৩০৫৫। মহান আল্লাহ্‌র সার্বভৌমত্বের বর্ণনা এখানে করা হয়েছে। তিনি সকল অভাবমুক্ত , তিনি কারও সাহায্যপ্রার্থী নন। তাঁর দয়া ও করুণার প্রকাশ সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান।

০৩। তবুও তারা তাঁকে ছেড়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট হয়েছে ৩০৫৬। ওরা নিজেদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। মৃত্যু , জীবন ও পুনরুত্থানের উপরে তাদের কোন ক্ষমতা নাই।

৩০৫৬। পাপ ও পূণ্যের মানদন্ডের প্রথম এবং প্রধান পাপকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ্‌র একত্বের পরিবর্তে অন্য কিছুকে তাঁর সমকক্ষ কল্পনা করাই হচ্ছে পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা জঘন্য পাপ।

০৪। আর অবিশ্বাসীরা বলে, "ইহা মিথ্যা ব্যতীত অন্য কিছুই নয়, ৩০৫৭ যা তার বানানো রচনা এবং এ ব্যাপারে অন্য লোকে তাঁকে সাহায্য করেছে।" প্রকৃতপক্ষে ওরা সম্মুখে অন্যায় ও মিথ্যাকে স্থাপন করেছে।

৩০৫৭। 'Ifk'এবং আয়াতের শেষে 'zur' শব্দ দুটির বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে 'মিথ্যা' শব্দ। 'Ifk' শব্দটি তখনই প্রযোজ্য হয় যখন কোনও ঘটনার অস্তিত্বই থাকে না। এখানে রসুলের [ সা ] শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে যে, আল্লাহ্‌র নবীর দাবী হচ্ছে বানোয়াট যা তাঁর অনুগত লোকেরা [ ভিন্ন সম্প্রদায় ] তা প্রচারে সাহায্য করে থাকে মাত্র। তাদের রটনার মূল ভাবার্থ ছিলো এই যে; ১) আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সমূহ হচ্ছে মিথ্যা রচনা এবং প্রতারণা। ২) প্রত্যাদেশে যা বলা হয়েছে যেমন শেষ বিচারের দিন, পুনরুত্থান, পরলোক, পূণ্যাত্মার শান্তিলাভ এবং পাপীর শাস্তি ও যন্ত্রণা এসবই হচ্ছে অলীক কল্পনা যার কোনও প্রকৃত ভিত্তি নাই। এ তো স্পষ্ট বিভ্রান্তি। এর উত্তরে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সত্য এবং রসুলের প্রতি আরোপিত অভিযোগ সবৈব মিথ্যা ['Zur'] তাদের এই মিথ্যাতে উপণীত হওয়ার কারণ তাদের চরিত্রের অন্যায় প্রবণতা মধ্যে নিহিত। অবিশ্বাসীদের আত্মিক ও মানসিক অবস্থা তাদের অন্যায় প্রবণতা বা 'জুলুম' থেকে জন্মলাভ করে। এই মানসিক অবস্থায় তারা প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে অক্ষম হয় এবং বিভ্রান্ত মানসিক অবস্থায় মিথ্যায় ['Zur'] উপণীত হয়।

০৫। এবং তারা বলে, " এগুলি তো প্রাচীনকালের কাহিনী যা সে লিখিয়ে নিয়েছে। এবং এগুলি সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়।" ৩০৫৮

৩০৫৮। অবিশ্বাসীরা উদ্ধত অহংকারে বলে আমরা এ সব কথা পূর্বেও শুনেছি। এগুলি সবই প্রাচীন যুগের উপকথা। এগুলি আনন্দ লাভের জন্য শোনা যায় কিন্তু ঈমান লাভের জন্য এগুলোর কোন গুরুত্ব নাই। সুতারাং কে এগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে ? যখন কোরাণের আয়াতের সৌন্দর্য্য ও আধ্যাত্মিক জগতের বিকাশের উপরে এর অপরিসীম প্রভাবের প্রতি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ কর হয়, এবং বলা হয় যে এরূপ একটি অপূর্ব গ্রন্থের আবির্ভাব ঘটেছে একজন 'উম্মী' বা নিরক্ষর নবীর মাধ্যমে , এটা কি স্রষ্টার এক অলৌকিক ঘটনার নিদর্শন নয় ? তখন তারা বলে যে "সে [ হযরত মুহম্মদ [সা ] ] লিখিয়ে নিয়েছে।" অর্থাৎ অন্য লোকে তা রসুলকে [ সা ] লিখে দিয়েছে। যদিও বহু চেষ্টা সত্বেও তারা অনুরূপ একটি আয়াত লিখতে অক্ষম।

০৬। বল, " [ কোর-আন ] প্রেরিত হয়েছে তাঁর দ্বারা যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রহস্য অবগত ৩০৫৯। অবশ্যই তিনি বার বার ক্ষমাশীল, অসীম করুণাময়।"

৩০৫৯। কোনও মানুষই অনুরূপ আয়াত লিখতে অক্ষম কারণ কোরাণ অবতরণ হয়েছে মহাশক্তিশালী পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌র নিকট থেকে। কোরাণ মানুষকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান শিক্ষা দান করে যে জ্ঞানের দীপ্তি সাধারণ মানুষের চোখে ভাস্বর নয়। এই জ্ঞান সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আসে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র হেদায়েতের মাধ্যমে। এই জ্ঞান শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র নিকট থেকে আগত, যিনি তাঁর সৃষ্টির সকল রহস্য অবগত। মানুষ পাপ ও দোষত্রুটি সত্বেও তিনি বারে বারে ক্ষমা করেন এবং তাঁর নেয়ামতে ধন্য করেন। প্রত্যাদেশের মাধ্যমে তাদের সুপথের সন্ধান দান করেন।

০৭। এবং তারা বলে, " এ কি রকম রসুল, যে [সাধারণ মানুষের মত ] আহার করে এবং রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে ? তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না , যে তাঁর সাথে থাকতো সতর্ককারীরূপে ? ৩০৬০

৩০৬০। অবিশ্বাসী হৃদয় প্রকৃত সত্যকে অনুধাবনে সব সময়েই ব্যর্থ হবে। এই ব্যর্থতা সর্বকালের সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য। হযরত মুহাম্মদ [ সা ] এর বেলাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নাই। কাফেররা রসুলের [সা ] মাঝে নবী সুলভ কোন গুণের সন্ধান পায় নাই। সাধারণ মানুষ সর্বদা অলৌকিক ক্রিয়াকর্মের সাথে নবী রসুল এবং আল্লাহ্‌র বান্দাদের সম্পৃক্ত করতে ভালোবাসে। হযরত মুহম্মদ [ সা ] কোন অলৌকিক ক্ষমতার দাবীদার ছিলেন না সত্য , তবে যিনি বাল্য বয়সে অন্ধকারচ্ছন্ন আরব সমাজে ' আল-আমীন' উপাধিতে ভূষিত তিনিই তো মনুষ্যদেহধারী মহামানব এই সাধারণ সত্যকে কাফেররা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়। তারা আল্লাহ্‌র রসুলকে [ সা ] দৈনন্দিন জীবন যাপন করাকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করে। তারা ঠাট্টা করে বলে " তিনি যদি আল্লাহ্‌র নবী হবেন তবে কেন তার সাথে ফেরেশতারা নাই।" এর উত্তর হচ্ছে মানুষের মানসিক অবস্থা অনুধাবনের ক্ষমতা ফেরেশতাদের নাই। কারণ মানুষ হচ্ছে রীপুর দাস। কাম-ক্রোধ,লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ প্রভৃতি রীপু সমূহের আক্রমনে মানুষ সর্বদা পর্যুদস্ত থাকে। ফেরেশতারা এ সব থেকে মুক্ত। সুতারাং তাদের পক্ষে মানুষের মানসিক অবস্থা বা এ সব থেকে মুক্তির পথ অনুধাবন করা বা উপদেশ দেয়া অসম্ভব। ফেরেশতাদের কার্যালয় আলাদা, যিনি বিশ্ব মানবের শিক্ষক হবেন তাকে অবশ্যই মানুষের দুঃখ-ব্যাথা , হাসি-কান্না , ভালোবাসা-ঘৃণা,লোভ-লালসা , ইত্যাদি সকল মানসিক অভিব্যক্তি অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হবে। তবেই না তিনি মানুষের সকল দোষত্রুটি দূর করার উদ্দেশ্যে নিজেকে এসব থেকে মুক্ত করে এ সবের উর্দ্ধে থেকে নির্দ্দিষ্ট মহৎ কর্তব্য সম্পাদনে সক্ষম হবেন। যিনি সাধারণ মানুষ হয়েও মানুষের উর্দ্ধলোকে ফেরেশতাদের সমতূল্য চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন তিনিই তো আল্লাহ্‌র প্রেরিত দেবদূত চরিত্রের অধিকারী। সত্যের এই প্রকৃত রহস্য অবিশ্বাসী হৃদয়ে ধরা পড়ে না। দেখুন [ ২১ : ৭ -৮ ]।

০৮। " অথবা তাকে ধন ভান্ডার দেয়া হয় নাই কেন অথবা উপভোগের জন্য তার কোন বাগান নাই কেন ? " ৩০৬১ দুষ্ট লোকেরা বলে, " তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করছো। " ৩০৬২

৩০৬১। " .................. উপভোগের জন্য "। পূর্বোক্ত আয়াতের ধারাবাহিকতায় এই আয়াত। এখানে "বাগান" শব্দটি প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ জীবনকে উপভোগ করতে যে সব আরাম আয়েশের প্রয়োজন 'বাগান' দ্বারা তাই বোঝানো হয়েছে। বাগানের ফলকে আহার করে তৃপ্তি লাভ করা যায়, ফোয়ারা ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী মনের সৌন্দর্য বোধকে পরিতৃপ্ত করে, এর মাঝে বিশ্রাম দেহ মন জুড়িয়ে যায় ও সতেজ হয়। অর্থাৎ সুন্দর বাগান শারীরিক ও মানসিক সকল প্রয়োজনই মিটিয়ে থাকে।

৩০৬২। দেখুন আয়াত [১৭ : ৪৭ ]। এই বাক্যগুলি পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী যারা কাফেরদের থেকেও ঘৃণ্য। এরা রসুলকে [সা] উম্মাদ রূপে প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলো।

উপদেশ : কালের পটভূমিতে আঁকা রসুলের [সা ] উজ্জ্বল চরিত্র যুগে যুগে সত্যের দিশারীদের এভাবেই সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগায় যে, সীমালংঘনকারীরা সর্বদা সত্যকে প্রতিহত করবেই , এবং তাদের এই প্রতিরোধ অনেক সময়েই জঘন্যতম রূপে প্রকাশ পায়।

০৯। দেখ, তোমার জন্য তারা কিরূপ তুলনা করে থাকে। কিন্তু তারা পথভ্রান্ত হয়েছে এবং তারা কখনও কোন পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে না। ৩০৬৩

৩০৬৩। " কখনও কোন পথ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে না।" - এ এক ভীষণ সাবধান বাণী , আল্লাহ্‌র তরফ থেকে। আয়াতটি অবতীর্ণ হয় রসুলের [ সা ] জীবনীর পরিপ্রেক্ষিতে। রসুলুল্লাহ্‌র [সা ] নামে মিথ্যা অভিযোগ, সত্যের অপ্রতিহত যাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে নাই। শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই। পৃথিবীতে ইসলামের প্রচার অপ্রতিহত গতিতে চলতে থাকে। কিন্তু যে সব ব্যক্তি সত্যকে ত্যাগ করে থাকে, তা তাদের বিকৃত চিন্তাধারার ফসল। সত্যকে ত্যাগ করার ফলে, তাদের চরিত্র থেকে ন্যায়,সত্য ও বিশ্বস্ততাই যে শুধু হারিয়ে যায় তাই নয় , তাদের বিকৃত মানসিকতার জন্য তাদের জন্য স্বর্গীয় শাস্তিও অবধারিত হয়ে যায়। তাদের জন্য সত্য পথের নিশানা বা ঠিকানা অবরুদ্ধ হয়ে যায়, আল্লাহ্‌র এই সাবধান বাণী সে যুগের জন্যও যেমন প্রযোজ্য ছিলো আজও সমভাবে প্রযোজ্য আছে। যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ন্যায় ও সত্যের পথে বাঁধার সৃষ্টি করে, তাদের সত্যকে বোঝার ক্ষমতা , ন্যায়কে সনাক্ত করার ক্ষমতা অন্তর্হিত হবে। এই -ই হচ্ছে আল্লাহ্‌র তরফ থেকে শাস্তি।