Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ২ জন
আজকের পাঠক ১২৪ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৬৮ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৩৮৬ বার
+ - R Print

সূরা নূর

সূরা নূর বা আলো - ২৪

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু , মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকা : আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রধান উপকরণ হচ্ছে স্ত্রী -পুরুষের যৌন জীবন, বিশেষভাবে যখন এই যৌন জীবনকে অপব্যবহার করা হয়। যৌন জীবনকে অপব্যবহার করার ফলে মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ বিনষ্ট হয়। মানুষ বিভিন্নভাবে যৌন জীবনকে কলুষিত করে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের মাধ্যমে, অথবা মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করে, অথবা পরিশুদ্ধ গার্হস্থ্য জীবনের চুক্তি ভঙ্গের দ্বারা। জীবন পথের বাঁকে বাঁকে থাকে যৌন জীবনকে কলুষিত করার ফাঁদ। যে এই সব ফাঁদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তাঁর আত্মাই পারে আল্লাহ্‌র 'আলোকে' আত্মার মাঝে ধারণ করতে; আত্মাকে পূত পবিত্ররূপে পরিশুদ্ধ করতে, - সৃষ্টির আদিতে তাকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। এই সূরার মূল বিষয়বস্তুকে এ ভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

মহিলাদের প্রতি মিথ্যা কলঙ্ক আরোপ করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে [ ২৪ : ১১ - ২০ ]। এই আয়াতটি হযরত আয়েশার জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয় , ৫ - ৬ হিজরীতে। সূরাটির অবতরণের সময়পুঞ্জি অনুসারে সূরাটি হবে মদিনার সূরা।

সারসংক্ষেপ : যৌন কলুষতাকে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দমন করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রকৃত সাক্ষী প্রমাণের প্রয়োজন হবে। মহিলাদের সম্বন্ধে মিথ্যা কলঙ্ক রটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেয়েদের সম্বন্ধে লঘু কথা বলা বা তাদের অশালীনভাবে বিরক্ত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ [ ২৪ : ১ - ২৬ ]।

গোপনীয়তাকে সম্মান করতে হবে। পোষাক ও ব্যবহারে শালীনতা রক্ষা করে চলতে হবে [ ২৪ : ২৭ - ৩৪ ]।

আলো এবং অন্ধকার; শৃঙ্খলা ও উচ্ছৃঙ্খলতার উপমাসমূহ দ্বারা মানুষকে ধর্মীয় কর্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়েছে [ ২৪ : ৩৫ - ৫৭ ]।

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের আচার ব্যবহার চারিত্রিক গুণাবলী বিকাশের মাধ্যম বিশেষ। আর চারিত্রিক গুণাবলী-ই মানব সন্তানকে আল্লাহ্‌র প্রতি কর্তব্য কর্মে উদ্বুদ্ধ করে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ প্রদর্শন করে [ ২৪ : ৫৮ - ৬৪ ]।

সূরা নূর বা আলো - ২৪

৬৪ আয়াত, ৯ রুকু , মাদানী
[ দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


০১। এটা একটি সূরা যা আমি অবতীর্ণ করেছি এবং যার [ বিধানকে ] অবশ্য পালনীয় করেছি ২৯৫৩। এর মধ্যে আমি স্পষ্ট আয়াতসমূহ প্রেরণ করেছি, যেনো তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

২৯৫৩। ইসলাম যৌন জীবনের পবিত্রতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকে। এ কথা কেউ যেনো মনে না করে যে, যৌন জীবনের ছোট-খাট অসংযত আচরণের ক্ষতিকর কোন প্রভাব নাই আধ্যাত্মিক জীবনের উপরে। এই আয়াতটি মূলতঃ যৌন জীবনের পবিত্রতার উপরে অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করে আধ্যাত্মিক জীবনের বিকাশের সাথে সংম্পৃক্ত করা হয়েছে।

০২। মহিলা ও পুরুষ , যারা ব্যভিচারের পাপে অভিযুক্ত ২৯৫৪, প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করবে ২৯৫৫। যদি তুমি আল্লাহ্‌র বিধানে বিশ্বাস কর এবং শেষ বিচার দিবসে বিশ্বাস কর, তবে আল্লাহ্‌র আদেশ কার্যকর করতে তাদের প্রতি যেনো তোমাদের দয়া না হয়। মুমিনদের একটি দল যেনো তাদের শাস্তির সাক্ষী থাকে ২৯৫৬।

২৯৫৪। 'Zina' শব্দটির অর্থ পুরুষ ও নারীর মধ্যে অবৈধ যৌন সঙ্গম। যখন বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে বা অবিবাহিত পুরুষ ও মহিলা অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, এদের সকলকেই জ্বেনা শব্দটির দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ইসলামে বিবাহ ও তালাকের আইনকে অত্যন্ত সহজ করা হয়। যেনো মানব সম্প্রদায় বিবাহ বহির্ভূত অসংযত যৌন সম্পর্ক স্থাপনে প্রলোভিত না হয়। আর সে কারণেই জ্বেনার শাস্তিকে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। যেনো জীবনের কোনও অবস্থায়ই পুরুষ বা মহিলা কেহ বিবাহ বহির্ভূত যৌন সর্ম্পক স্থাপনে আগ্রহী না হয়। পবিত্র বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের আত্মসম্মান বোধকে জাগ্রত করে; সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সামাজিক স্বীকৃতি দান করে, রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি পরিবারকে সুসংহত ও সুগঠিত করে। ফলে জাতীয় জীবনে ভবিষ্যত বংশধরেরা সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে যা একটি সুখী সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। [ যদিও 'জ্বিনা' শব্দটি বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য , তবুও মুসলিম দর্শনে শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিদের অভিমত হচ্ছে : এই আয়াতে যে শাস্তির উল্লেখ আছে একশত কশাঘাত তা অবিবাহিত মহিলা ও পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। রসুলের [সাঃ] সুন্না অনুযায়ী বিবাহিত পুরুষ ও মহিলাদের জন্য জ্বেনার শাস্তি হবে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।]

২৯৫৫। দেখুন আয়াত [ ৪ : ১৫ ] এবং টিকা ৫২৩।

২৯৫৬। 'জ্বেনার' শাস্তি হবে সর্বসমক্ষে, যেনো তা দর্শনে অন্যেরা শিক্ষা লাভ করে।

০৩। ব্যভিচারে অভিযুক্ত পুরুষকে একই পাপে অভিযুক্ত নারী অথবা মোশরেক নারী ব্যতীত অন্য নারীকে বিবাহ করতে দেয়া হবে না, অথবা ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচারি অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কেহ বিবাহ করবে না। বিশ্বাসীদের জন্য ইহা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২৯৫৭।

২৯৫৭। পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্য জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম যৌন পবিত্রতা পালনে অত্যন্ত কঠোর। বিয়ের পূর্বে বা বিবাহকালীন অবস্থায় বা বিয়ে ভেঙ্গে গেলে সর্ব সময়ে ইসলামের বিধানে যৌন পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। ব্যভিচারী পুরুষ ও মহিলাদের পবিত্র বিবাহ বন্ধনের বাইরে রাখা হয়েছে, কারণ তাদের বিবাহ বন্ধনের অযোগ্য করা হয়েছে মোমেন বান্দাদের জন্য।

০৪। এবং যারা সতী রমনীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না [ তাদের অভিযোগকে সমর্থন করার জন্য ] , তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং এরপর থেকে কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না ২৯৫৮। কারণ এরূপ ব্যক্তিরা দুষ্ট এবং সীমালংঘনকারী ; -

২৯৫৮। সতী স্বাধ্বী রমনীর প্রতি কলঙ্ক আরোপকারীদের প্রতি এই আয়াতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণ ব্যতীরেকে এরূপ কাজ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গর্হিত। মহিলাদের নৈতিক চরিত্র সম্বন্ধে কোনও বাক্যউচ্চারণের পূর্বে চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হবে। সাধারণ যে কোনও ঘটনায় বা ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমন কি খুনের ব্যাপারে প্রমাণের জন্য দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্যদানকে যথেষ্ট ধরা হয়। ইসলাম পুরুষ শাসিত সমাজে মেয়েদের অসহায়ত্ব বিমোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে আরবের সেই অন্ধকারময় যুগে, সমকালীন বিশ্বে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বীকৃতি ইসলামই প্রথম মেয়েদের দান করে। অসহায় স্বাধ্বী মহিলাদের মিথ্যা কলঙ্ক থেকে রক্ষা করার এ এক যুগান্তকারী দলিল। মিথ্যা সাক্ষী চারজন সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সে কারণেই চার জন সাক্ষীর উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কেউ কোন মহিলার চরিত্রের অপবাদকে চারজন সাক্ষী দ্বারা সমর্থন করতে না পারে, তবে তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে , এবং তাকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে। এই নাগরিক অধিকারটি হচ্ছে : তার কোনও সাক্ষ্যকে গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ সে রাষ্ট্রের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তবে সে যদি তওবার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করে তবে তাকে তার নাগরিক অধিকার প্রত্যাবর্তন করা হবে।

মন্তব্য : পুরুষদের কুৎসা থেকে মহিলাদের রক্ষা করার এ এক অপূর্ব ঐশ্বরিক সনদ। সারা পৃথিবীর এবং বাংলাদেশের মুসলিম মহিলারা বাইরের পৃথিবীর কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করছে ফলে অনেক সতী সাধ্বী মহিলারাও পুরুষদের কুৎসা ও অপবাদের শিকার হন। তাদের জন্য এই আয়াত এক জ্বলন্ত দলিল।

০৫। যতক্ষণ না তারা এ ব্যাপারে অনুতপ্ত হয় এবং [ তাদের চরিত্রের ] সংশোধন করে ২৯৫৯। আল্লাহ্‌ তো বারে বারে ক্ষমাশীল , পরম করুণাময়।

২৯৫৯। উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণ ব্যতীত মহিলাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা ইসলামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এই শাস্তি হচ্ছে আশিটি বেত্রাঘাত ও নাগরিক অধিকার হরণ। এই নাগরিক অধিকার ফেরত পেতে পারে, যদি পরবর্তীতে সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং তার চরিত্রকে সংশোধনের মাধ্যমে সে প্রমাণ করতে পারে যে , সে যা করেছে তার জন্য সে দুঃখিত এবং অনুতপ্ত। এবং ভবিষ্যতে এরূপ কাজ তার দ্বারা সংঘটিত হবে না। যদিও বর্তমান বিশ্বে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে মুসলিম এই আইনের ধারা প্রযোজ্য হয় না , তবুও মুসলমান হিসেবে এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে ও উপলব্ধি করতে হবে যে, এই ঐশ্বরিক আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মহিলাদের সম্মান করা। আরবের ও সমসাময়িক বিশ্বের অন্ধকারময় যুগে নারীদের সম্মানকে নিরাপদ করার এ এক অপূর্ব ঐশ্বরিক সনদ।

০৬। এবং যারা তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে, কিন্তু নিজেরা ব্যতীত এ ব্যাপারে তাদের কোন সাক্ষী নাই ২৯৬০, তাদের নিভৃত সাক্ষ্য [ গ্রহণ করা হবে ] , যদি তারা চার বার আল্লাহ্‌র নামে [ শপথ গ্রহণ করে ] বলে যে তারা অবশ্যই সত্য বলছে।

০৭। এবং পঞ্চম বারের [ শপথ ] হবে যে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপরে আল্লাহ্‌র লা'নত নেমে আসবে।

২৯৬০। এই আয়াতে [ ২৪ : ৬ ] বৈবাহিক জীবনে ব্যভিচারের পরিণাম সম্বন্ধে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবাহিত ব্যক্তির দাম্পত্য জীবন, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আলাদা। যদি স্বামী বা স্ত্রী যে কেহ ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়, তবে এক পক্ষকে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ বিবাহ বন্ধন এমন এক নিভৃত এবং দৃঢ় বন্ধন যে শত মত পার্থক্য থাকা সত্বেও মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী অন্য পক্ষকে কলঙ্কিত করার ক্ষমতা রাখে, কারণ মানুষ তা বিশ্বাস করে। মনে করুণ স্বামী স্ত্রীকে ব্যভিচারের সময় পর পুরুষের সাথে হাতে নাতে ধরে ফেললেন। স্বামী যতক্ষণে চারজন সাক্ষীকে ডেকে আনতে যাবেন, ততক্ষণ কি অপরাধীরা সেখানে অবস্থান করবেন? সেক্ষেত্রে বাইরের চারজন সাক্ষী অসম্ভব ব্যাপার। এরূপ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাদের পূর্বের দাম্পত্য জীবন যাপন অসম্ভব ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে দু পক্ষেরই সামাজিক সম্মানের প্রশ্ন জড়িত হয়ে পড়ে। সমাজের চক্ষে অপরাধী ও নির্যাতিত উভয়েরই সমভাবে সম্মান হানি ঘটে থাকে। যেহেতু এ ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার , সে জন্য এ ক্ষেত্রে শাস্তিটি একটু ভিন্ন মাত্রার হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যাপারটির ফয়সালার দায়িত্ব স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মর্যদার উপরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। স্বামী চারবার শপথ করবে যে , তার অভিযোগ সত্য এবং পঞ্চম বার সে আল্লাহ্‌র শাস্তিকে আহ্বান করে। শপথ করবে এই বলে যে তার স্ত্রীর প্রতি আরোপিত অভিযোগ মিথ্যা হলে আল্লাহ্‌র শাস্তি তার উপরে পতিত হবে। ঠিক সমভাবে স্ত্রীকেও ব্যভিচারের অভিযোগের সত্যতার বিপক্ষে চার বার শপথ করতে হবে এবং পঞ্চম বারে আল্লাহ্‌র শাস্তিকে আহ্বান করবে। যদি সে তা না করে বা করতে অস্বীকার করে , তবে সে ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে এবং ব্যভিচারিণীর যা শাস্তি তা তার প্রাপ্য হবে। উভয় ক্ষেত্রে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে। কারণ এরূপ একটি জঘন্য অভিযোগের পরে তাদের পক্ষে আর স্বামী-স্ত্রী রূপে বসবাস করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য : আয়াতগুলিতে দেখা যায় ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের জন্য শাস্তির বিধান সমান। এই আয়াতগুলি নারী ও পুরুষের সমতার জ্বলন্ত সনদ। তবে দুঃখের বিষয় অনেকে মনে করেন আয়াতগুলি বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য - কারণ তাদের বিশ্বাস মেয়েদের সতীত্ব রক্ষার মাধ্যমেই সামাজিক শৃঙ্খলা বিরাজ করবে। এ সব বক্তারা ভুলে যান যে, ব্যভিচার কখনও এককভাবে সংঘটিত হয় না। নারী পুরুষের যৌথ ক্রিয়াতেই যৌন ক্রিয়া সংঘটিত হয়। সুতারাং ব্যভিচারের জন্য নারী যতটুকু দায়ী থাকবে, পুরুষও ততটুকু দায়ী থাকবে। সুতারাং শাস্তিও সমভাবে প্রযোজ্য হবে, এটাই ন্যায় বিচার এবং আল্লাহ্‌র প্রেরিত সত্য। সমাজের নারীদের প্রতি একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির জন্য সমাজে মুসলমান পুরুষেরা হয়ে ওঠে স্বেচ্ছাচারী ফলে মেয়েরা স্ব অধিকার লাভে ব্যর্থ হয় এবং ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে নির্বাসিত হয়ে ঘরের কোণাতে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। তারপরেও তাদের মুক্তি নাই। আজকে বাংলাদেশের সমাজে অহরহ নারী হচ্ছে ধর্ষিতা, এসিডে নির্যাতিত ও মিথ্যা কলঙ্কে ভূষিত এবং ফতোয়ার দ্বারা অত্যাচারিত। কোরাণ পুরুষকে সংযমের আদেশ দান করেছে তা তারা অনুধাবনে অক্ষম [ ২৪ : ৩০ ]। ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা হচ্ছে ব্যহত। কারণ ঘরের কোণাতেও মেয়েরা আজকে নিরাপদ নয়।

০৮। কিন্তু স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী।

০৯। এবং পঞ্চম বারে বলে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপরে নেমে আসবে আল্লাহ্‌র গজব।

১০। যদি তোমাদের উপরে আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো এবং যদি আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন না হতেন [ তবে তোমরা ধ্বংস প্রাপ্ত হতে ] ২৯৬১।

২৯৬১। দেখুন আয়াত [ ২৪ : ১১ - ১৪ ] এবং টিকা ২৯৬২। এই আয়াতগুলি একটি নির্দ্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ করা হয়।