+
-
R
[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে।]
ভূমিকা : এখান থেকে শুরু হচ্ছে চারটি নূতন সিরিজের সূরা। পূর্ববর্তী পাঁচটি সূরা যে ভাবে বিভিন্ন নবী রসুলদের সত্যকে প্রচার ও প্রসারের বিভিন্ন চেষ্টা এবং পাপকে জয় করার বর্ণনা আছে ঠিক একই ভাবে এই নূতন সিরিজের সূরাগুলিতে বর্ণনা আছে ধর্মীয় অগ্রগতির উপরে পরিবেশ ও পদ্ধতির প্রভাব। দেখুন সূরা ১৮ এর ভূমিকা।
এই সুরার বিষয়বস্তুতে বিশেষ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে পবিত্র কাবাগৃহ, হজ্জ্ব, কোরবাণী, আক্রান্ত হলে সত্যকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করা এবং যুদ্ধ করা এবং অন্যান্য নিঃস্বার্থ কর্ম যা মিথ্যাকে দূরীভূত করে।
এই সূরার সময়কাল সম্বন্ধে মতবিরোধ আছে। সম্ভবতঃ এর কিছু অংশ মক্কাতে এবং কিছু অংশ মদীনাতে অবতীর্ণ হয়, সে যাই হোক তার সাথে সূরাটির বক্তব্যের কোনও সম্পর্ক নাই।
সারসংক্ষেপ : আধ্যাত্মিক জীবনের ভবিষ্যত গুরুত্বপূর্ণ। সত্যের জন্য সাহায্য এবং পাপের জন্য শাস্তি - ঈমানের দৃঢ়তার জন্য প্রয়োজনীয়। [ ২২: ১ - ২৫ ]
পবিত্রতা , প্রার্থনা , বিনয়, এবং ঈমানের প্রতীকার্থে প্রকাশ হচ্ছে হজ্জ্ব। পবিত্র কোরবাণী আমাদের কৃতজ্ঞতার এবং আল্লাহ্র প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা, এবং গরীবের মাঝে মাংস বিতরণের মাধ্যমে তাদের সাথে অংশীদারিত্বের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটে। সত্য যখন আক্রান্ত হয়, তখন তা রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যুদ্ধ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ। [ ২২ : ২৬ - ৪৮ ]
মন্দ বা অসৎ আল্লাহ্র নবীর কাজে বাঁধার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তাঁর কাজ সাফল্য লাভ করবেই এবং আল্লাহ্র সত্য ও করুণা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবেই। সুতারাং বিনয়ের সাথে আল্লাহ্র সেবা কর এবং আল্লাহ্ তোমাদের রক্ষা করবেন ও সাহায্য করবেন। [ ২২ : ৪৯ - ৭৮ ]
[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে।]
২৭৭০। কেয়ামতের প্রকম্পনের ভয়াবহতার উল্লেখের মাধ্যমে আল্লাহ্র আদেশ অমান্যকারীদের সাবধান করা হয়েছে। কেয়ামত তাদের জন্যই ভয়াবহ যারা আল্লাহ্র আদেশের বিরুদ্ধে বলে এবং বিদ্রোহ করে। অপর পক্ষে যারা পূণ্যাত্মা তাদের জন্য কেয়ামত দিবস ভয়াবহ নয়, বরং তারা ফেরেশতাদের দ্বারা স্বাগত সম্ভাষিত হবেন। দেখুন আয়াত [ ২১ : ১০৩ ]।
২৭৭১। কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতা উপস্থাপন করার জন্য তিনটি উপমার ব্যবহার করা হয়েছে এই আয়াতে : ১) এই পৃথিবীতে আমরা দেখি কোনও মা -ই শত বিপদেও তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পরিত্যাগ করবে না। কিন্তু কেয়ামত দিনের ভয়াবহতায় " মা " তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পরিত্যাগ করতে দ্বিধা বোধ করবে না। ২) সন্তান সম্ভবা মাতা গর্ব ও আশার সাথে সন্তান ধারণ করে, এবং অপেক্ষা করে নবজাতকের আগমনের। কিন্তু কেয়ামতের ভয়াবহতায় গর্ভপাত ঘটে যাবে। ৩) স্বভাবতঃ সাধারণ অবস্থায় মানুষ থাকে দৃঢ় আত্ম মর্যদাপূর্ণ। কিন্তু মাতাল হলে তাঁর এই আত্মমর্যদাপূর্ণ অবস্থার অন্তর্ধান ঘটে। কেয়ামত দিবসে কোনও মাদক ব্যতীতই মানুষ মাতালের ন্যায় ব্যবহার করবে। সে তার আত্মমর্যদা হারাবে।
২৭৭২। এত সাবধান বাণী সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে এমন নির্বোধ আছে যারা আল্লাহ্র বিরোধিতা করে, সেই আল্লাহ্ , যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, এবং দয়া , করুণা ও ভালোবাসার সাথে তাদের প্রতিপালন করেন। এ সব লোক আল্লাহ্র আইন অমান্যকারী এবং অপরাধী - কারণ তারা শয়তানের বন্ধুত্বের প্রয়াসী। আর আল্লাহ্ এখানে বলছেন যে, তিনি তাঁর অমোঘ নিয়ম চালু করেছেন যে যারা শয়তানের বন্ধুত্ব কামনা করবে শয়তান তাদের দোযখের পথে পরিচালিত করবেই।
২৭৭৩। এই আয়াতে মানুষের সৃষ্টি রহস্যের বর্ণনা আছে যা অনেক তফসীরকার তফসীরের প্রধান বক্তব্য হিসেবে উত্থাপন করেছেন। এই বর্ণনা হচ্ছে বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। আমরা এখানে আল্লাহ্র বক্তব্যের মর্মার্থ উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। সন্দেহ বাতিকেরা যদি পুণরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে, তবে স্রষ্টা এই আয়াতে পৃথিবীর অতি সাধারণ কয়েকটি ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা আমরা প্রতি নিয়ত আমাদের চারিদিকে দেখতে পাই। মানুষ কি নিজের জন্ম রহস্যের দিকে দৃষ্টিপাত করে না ? প্রাণহীন মাটি থেকে অর্থাৎ বিভিন্ন মৌলিক উপাদান , যা প্রাণহীন , থেকে শুরু , তারপর বীজ বা শুক্র, তারপর নিষিক্ত ডিম্ব, তারপরে ভ্রুণ এভাবেই পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এর পরে পৃথিবীর জীবনের পরিক্রমায় শৈশব, কৈশর, যৌবন অতিক্রম করে একদিন বার্দ্ধক্যে উপণীত হয় এবং শেষ পরিণতি ঘটে মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। যিনি পৃথিবীতে এক জীবনের এতগুলি পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হন , তবে মানুষ কিভাবে অবিশ্বাস করে যে, সেই মহান স্রষ্টা পৃথিবীর এই জীবন শেষে পরলোকে অন্য জীবনের শুরু করতে অক্ষম ? বিবর্তনের ধারাতে পৃথিবী ও মানুষ সৃষ্টি হয়েছে, যিনি তা পারেন তিনি অবশ্যই মৃত্যুর পরে পুণরুত্থানে সক্ষম। এই সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য আর এক সত্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে আমাদের চারিদিকে দৃষ্টিপাত করতে। উষর মরুভূমি, যেখানে তৃণলতার চিহ্নমাত্র নাই যদি সেখানে আল্লাহ্র করুণারূপ বৃষ্টি নিয়মিত হয়, তবে অতি অল্পদিনেই মরুভূমি শস্যশ্যামল ভূমিতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ে। মৃত জমি জীবন্তরূপ ধারণ করে। যে স্রষ্টা মৃত জমিকে এক সমারোহপূর্ণ প্রদর্শনীতে পরিণত করতে পারেন , তিনি অবশ্যই মৃত্যুর পরে নূতন অন্য পৃথিবী সৃষ্টিতে সক্ষম।
২৭৭৪। মানুষের সৃষ্টির বর্ণনায় প্রাণহীন পদার্থ [ এমিনো এসিড ] থেকে শুরু করে তার পূর্ণ জীবন চক্রের বর্ণনা করা হয়েছে। এই বর্ণনার নির্ভুলতা, সৌন্দর্য, খুঁটিনাটি যে ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা বিজ্ঞানের বিষয় বস্তু। যারা প্রাণীবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত আশা করা যায় চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে নাজেল হওয়া কোর-আনে তারা বর্তমান বিজ্ঞানের যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। মানুষের মাতৃগর্ভে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে আত্মিক পরিবর্তনের কথাটিও চিন্তা করতে হবে। মহান শিল্পী আল্লাহ্ এ ভাবেই আত্মার বাহন শরীরের পূর্ণতার মাধ্যমে আত্মাকে করেন সমৃদ্ধ, পরিপূর্ণ ও বিকশিত।
২৭৭৫। "আমি যাকে ইচ্ছা করি " অর্থাৎ ছেলে বা মেয়ে সন্তান, সুন্দর বা কুৎসিত , ফর্সা বা কালো, বুদ্ধিমান বা সাধারণ, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি শিশু। মানব শিশু অনন্ত সম্ভাবনাময়। জীবনের বিভিন্ন দিকে তাঁর বিকাশ লাভের সম্ভাবনা আল্লাহ্ তার চরিত্রের মাঝে ডি, এন , এ'র মাধ্যমে নির্দ্দিষ্ট করে দেন। তিনি নির্দ্দিষ্ট করে দেন বংশগতিধারা - এ সকলেই মহান আল্লাহ্র ইচ্ছা।
২৭৭৬। দেখুন [ ১৬ : ৭০ ]। এই আয়াতে জীবনের রহস্যের মাধ্যমে আল্লাহ্র করুণা ও অনুগ্রহকে তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়াতে মানুষের জীবন মৃত্যুর রহস্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানব সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা পরকালের জীবনের প্রতি , যে জীবন সৃষ্টি আল্লাহ্র ক্ষমতারই স্বাক্ষর ও প্রতিজ্ঞা। এখানে উপমা ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের জীবনচক্রের।
জীবন শক্তিতে পরিপূর্ণ শিশু যৌবনে, শৈর্যে বীর্যে, জ্ঞানে গরিমায়, উদ্দীপ্ত হয়, আবার সেই মানুষই বার্দ্ধক্যে সকল ক্ষমতা ও জ্ঞানশুন্য হয়ে শিশুর মত হয়ে যায়। " যেনো অনেক কিছু জানার পরে তারা আর স্বজ্ঞানে থাকে না।" মানুষের জীবন চক্র সেতো স্রষ্টারই ক্ষমতার প্রকাশ মাত্র।
২৭৭৭। এই আয়াতটি ভাষা ও উপমা ও বর্ণনার মাধুর্যে এক অপূর্ব ও অমূল্য নীতিগর্ভমূলক উপদেশ। সামান্য কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে যে সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে তার যাদুকর প্রভাব যে কোন আল্লাহ্ প্রেমিকের মনে গভীর ভাবে রেখাপাত করতে সক্ষম।
২৭৭৮। বিশ্ব- প্রকৃতির মাঝে জীবনের সমারোহ, জীবনের রহস্য আমাদের এক অমোঘ সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আর তা হচ্ছে বিশ্ব-প্রকৃতির স্রষ্টা একজনই। একদিন সবই ধ্বংস হয়ে যাবে, শুধু রয়ে যাবে আল্লাহ্র অস্তিত্ব। তিনি আদি ও তিনিই অন্ত এবং তিনি অবিনশ্বর।
২৭৭৯। 'দীপ্তিমান কিতাব '। দেখুন আয়াত [ ৩ : ১৮৪ ] এবং টিকা ৪৯০। মওলানা ইউসুফ আলীর মতে জ্ঞান শব্দটি পার্থিব জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মানুষ বিদ্যা শিক্ষার মাধ্যমে , বুদ্ধির ব্যবহারের মাধ্যমে যে জাগতিক জ্ঞান লাভ করে তাকেই জ্ঞান শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে। 'পথ নির্দ্দেশ ' শব্দটি দ্বারা স্বর্গীয় হেদায়েতকে বোঝানো হয়েছে যা আল্লাহ্র তরফ থেকে সরাসরি আগত অথবা তার নবী রসুলদের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, অথবা স্বর্গীয় প্রত্যাদেশ যা ওহীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, এবং "Book of Enlightenment" বা "দীপ্তিমান কিতাব অর্থ নৈতিক মূল্যবোধ পরিচালনার ভিত্তিস্বরূপ যে কিতাব। সৎ চরিত্রের ভিত্তি স্বরূপ যে নৈতিক মালা , যার অনুসরণে মানুষ পবিত্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী হয় তা যে গ্রন্থ ধারণ করে। দীপ্তিমান কিতাব হচ্ছে সেই গ্রন্থ যার মধ্যে আছে চরিত্রের মাধুর্য ও গুণের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপন প্রণালীর পথের নিশানা। আর এই স্বর্গীয় পথের নিশানাকে যিনি দেখিয়ে দেন বা নির্দ্দেশ করেন বা চিনিয়ে দেন সেই সব আল্লাহ্র নবী ও রাসুলেরা হচ্ছে "পথ নির্দ্দেশ।" কোর-আনকে দীপ্তিমান কিতাব বলা হয় কারণ এই সেই গ্রন্থ যার মধ্যে আছে চরিত্রের মাধুর্য ও গুণের উৎকর্ষ সাধন করে সুন্দর জীবন যাপন প্রণালীর পথের নিশানা। কোর-আনের মূল নির্দ্দেশ হচ্ছে চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করার উপায় সমূহ , যার মাধ্যমে আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। পাপে নিমজ্জিত আত্মা আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভে বঞ্চিত হয়। যে আত্মা গুণান্বিত ও আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভে ধন্য সেই তো আলোকিত আত্মা। সেদিক থেকে " দীপ্তিমান কিতাব " কথাটি অত্যন্ত প্রযোজ্য।
২৭৮০। অনেক তফসীরকারের মতে আয়াতটি আবু জহলের প্রতি প্রযোজ্য। কিন্তু এই আয়াতের বক্তব্য সার্বজনীন। সকল যুগেই আবু জহলের মত লোক সমাজে বিদ্যমান। আয়াত [ ২২ : ৩ ] এর বক্তব্য একই, এক্ষেত্রে আয়াতটির নাজেল হওয়া সম্বন্ধে বলা হয় যে, তা Nadhar ibn Harith এর জন্য প্রযোজ্য ছিলো। তবে এর আবেদন সার্বজনীন যুগ কাল অতিক্রান্ত।
২৭৮১। প্রত্যেককে প্রত্যেকের কর্মফল ভোগ করতে হয়। ভালো কাজের শেষ পরিণত ভালো এবং মন্দ কাজের শেষ পরিণতি মন্দ। এই আল্লাহ্র আইন। বিশ্ব বিধাতার সর্ব চরাচরে এই আইন বিদ্যমান। আল্লাহ্ ন্যায় বিচারক। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি সামান্যতমও অবিচার করেন না।
সূরা হাজ্জ
Page 1 of 7
সূরা হাজ্জ বা তীর্থযাত্রা - ২২
৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে।]
ভূমিকা : এখান থেকে শুরু হচ্ছে চারটি নূতন সিরিজের সূরা। পূর্ববর্তী পাঁচটি সূরা যে ভাবে বিভিন্ন নবী রসুলদের সত্যকে প্রচার ও প্রসারের বিভিন্ন চেষ্টা এবং পাপকে জয় করার বর্ণনা আছে ঠিক একই ভাবে এই নূতন সিরিজের সূরাগুলিতে বর্ণনা আছে ধর্মীয় অগ্রগতির উপরে পরিবেশ ও পদ্ধতির প্রভাব। দেখুন সূরা ১৮ এর ভূমিকা।
এই সুরার বিষয়বস্তুতে বিশেষ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে পবিত্র কাবাগৃহ, হজ্জ্ব, কোরবাণী, আক্রান্ত হলে সত্যকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করা এবং যুদ্ধ করা এবং অন্যান্য নিঃস্বার্থ কর্ম যা মিথ্যাকে দূরীভূত করে।
এই সূরার সময়কাল সম্বন্ধে মতবিরোধ আছে। সম্ভবতঃ এর কিছু অংশ মক্কাতে এবং কিছু অংশ মদীনাতে অবতীর্ণ হয়, সে যাই হোক তার সাথে সূরাটির বক্তব্যের কোনও সম্পর্ক নাই।
সারসংক্ষেপ : আধ্যাত্মিক জীবনের ভবিষ্যত গুরুত্বপূর্ণ। সত্যের জন্য সাহায্য এবং পাপের জন্য শাস্তি - ঈমানের দৃঢ়তার জন্য প্রয়োজনীয়। [ ২২: ১ - ২৫ ]
পবিত্রতা , প্রার্থনা , বিনয়, এবং ঈমানের প্রতীকার্থে প্রকাশ হচ্ছে হজ্জ্ব। পবিত্র কোরবাণী আমাদের কৃতজ্ঞতার এবং আল্লাহ্র প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা, এবং গরীবের মাঝে মাংস বিতরণের মাধ্যমে তাদের সাথে অংশীদারিত্বের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটে। সত্য যখন আক্রান্ত হয়, তখন তা রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং যুদ্ধ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ। [ ২২ : ২৬ - ৪৮ ]
মন্দ বা অসৎ আল্লাহ্র নবীর কাজে বাঁধার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তাঁর কাজ সাফল্য লাভ করবেই এবং আল্লাহ্র সত্য ও করুণা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবেই। সুতারাং বিনয়ের সাথে আল্লাহ্র সেবা কর এবং আল্লাহ্ তোমাদের রক্ষা করবেন ও সাহায্য করবেন। [ ২২ : ৪৯ - ৭৮ ]
সূরা হাজ্জ বা তীর্থযাত্রা - ২২
৭৮ আয়াত, ১০ রুকু, মাদানী[ দয়াময় , পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে।]
০১। হে মানবকূল ! তোমার প্রভুকে ভয় কর। [ কেয়ামতের ] প্রচন্ড আন্দোলন হবে এক ভয়ংকর ব্যাপার ২৭৭০।
২৭৭০। কেয়ামতের প্রকম্পনের ভয়াবহতার উল্লেখের মাধ্যমে আল্লাহ্র আদেশ অমান্যকারীদের সাবধান করা হয়েছে। কেয়ামত তাদের জন্যই ভয়াবহ যারা আল্লাহ্র আদেশের বিরুদ্ধে বলে এবং বিদ্রোহ করে। অপর পক্ষে যারা পূণ্যাত্মা তাদের জন্য কেয়ামত দিবস ভয়াবহ নয়, বরং তারা ফেরেশতাদের দ্বারা স্বাগত সম্ভাষিত হবেন। দেখুন আয়াত [ ২১ : ১০৩ ]।
০২। সেদিন তোমরা দেখবে প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মাতা তার দুগ্ধপোষ্য শিশুর কথা ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী মাতা তার গর্ভপাত করে ফেলবে। মানবকূলকে দেখবে নেশাগ্রস্থের ন্যায়, যদিও তারা নেশাগ্রস্থ নয়। বস্তুতঃ আল্লাহ্র ক্রোধ হবে ভয়াবহ ২৭৭১।
২৭৭১। কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতা উপস্থাপন করার জন্য তিনটি উপমার ব্যবহার করা হয়েছে এই আয়াতে : ১) এই পৃথিবীতে আমরা দেখি কোনও মা -ই শত বিপদেও তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পরিত্যাগ করবে না। কিন্তু কেয়ামত দিনের ভয়াবহতায় " মা " তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে পরিত্যাগ করতে দ্বিধা বোধ করবে না। ২) সন্তান সম্ভবা মাতা গর্ব ও আশার সাথে সন্তান ধারণ করে, এবং অপেক্ষা করে নবজাতকের আগমনের। কিন্তু কেয়ামতের ভয়াবহতায় গর্ভপাত ঘটে যাবে। ৩) স্বভাবতঃ সাধারণ অবস্থায় মানুষ থাকে দৃঢ় আত্ম মর্যদাপূর্ণ। কিন্তু মাতাল হলে তাঁর এই আত্মমর্যদাপূর্ণ অবস্থার অন্তর্ধান ঘটে। কেয়ামত দিবসে কোনও মাদক ব্যতীতই মানুষ মাতালের ন্যায় ব্যবহার করবে। সে তার আত্মমর্যদা হারাবে।
০৩। তথাপি মানুষের মধ্যে কিছু মানুষ আছে যারা না জেনেই আল্লাহ্র সম্বন্ধে তর্ক করে এবং [ তারা ] অবাধ্য ও বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে।
০৪। তাদের সম্বন্ধে এই আইন করা হয়েছে যে, যারাই [ মন্দদের সাথে ] বন্ধুত্ব কামনা করবে, তাকেই সে পথভ্রষ্ট করবে। এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে ২৭৭২।
০৪। তাদের সম্বন্ধে এই আইন করা হয়েছে যে, যারাই [ মন্দদের সাথে ] বন্ধুত্ব কামনা করবে, তাকেই সে পথভ্রষ্ট করবে। এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে ২৭৭২।
২৭৭২। এত সাবধান বাণী সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে এমন নির্বোধ আছে যারা আল্লাহ্র বিরোধিতা করে, সেই আল্লাহ্ , যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, এবং দয়া , করুণা ও ভালোবাসার সাথে তাদের প্রতিপালন করেন। এ সব লোক আল্লাহ্র আইন অমান্যকারী এবং অপরাধী - কারণ তারা শয়তানের বন্ধুত্বের প্রয়াসী। আর আল্লাহ্ এখানে বলছেন যে, তিনি তাঁর অমোঘ নিয়ম চালু করেছেন যে যারা শয়তানের বন্ধুত্ব কামনা করবে শয়তান তাদের দোযখের পথে পরিচালিত করবেই।
০৫। হে মানবকূল ! পুণরুত্থান সম্বন্ধে তোমাদের যদি সন্দেহের অবকাশ থাকে তবে গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখ, ২৭৭৩ আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি ধূলো কণা থেকে , তারপরে শুক্র থেকে , তারপরে ঝুলন্ত রক্তপিন্ড থেকে , তারপর পূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট অথবা অপূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট গোশ্তপিন্ড থেকে ২৭৭৪ যেনো আমি আমার [ক্ষমতা ] তোমাদের নিকট প্রকাশ করতে পারি। এবং আমি যাকে ইচ্ছা তাকে মাতৃগর্ভে নির্দ্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত রাখি ২৭৭৫, তারপর আমি তোমাদের শিশুরূপে বের করে আনি , তারপর [ লালন পালন করি ] যেনো তোমরা পরিণত বয়সে উপণীত হও। তোমাদের মধ্য কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয়, আবার কাউকে কাউকে নিয়ে যাওয়া হয় অতিদুর্বল বৃদ্ধ বয়েসে, যেনো [ অনেক কিছু ] জানার পরে তারা আর সজ্ঞানে থাকে না ২৭৭৬। এবং [ আরও ] দেখ, যে ভূমি নিষ্ফলা ও নির্জিব থাকে, কিন্তু যখন আমি তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তা তখন [ জীবন স্পন্দনে ] জেগে ওঠে, তা ষ্ফীত হয় এবং উৎপন্ন করে [ জোড়ায় জোড়ায় ] সুন্দর সুন্দর উদ্ভিদ সমূহ ২৭৭৭।
২৭৭৩। এই আয়াতে মানুষের সৃষ্টি রহস্যের বর্ণনা আছে যা অনেক তফসীরকার তফসীরের প্রধান বক্তব্য হিসেবে উত্থাপন করেছেন। এই বর্ণনা হচ্ছে বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু। আমরা এখানে আল্লাহ্র বক্তব্যের মর্মার্থ উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। সন্দেহ বাতিকেরা যদি পুণরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে, তবে স্রষ্টা এই আয়াতে পৃথিবীর অতি সাধারণ কয়েকটি ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা আমরা প্রতি নিয়ত আমাদের চারিদিকে দেখতে পাই। মানুষ কি নিজের জন্ম রহস্যের দিকে দৃষ্টিপাত করে না ? প্রাণহীন মাটি থেকে অর্থাৎ বিভিন্ন মৌলিক উপাদান , যা প্রাণহীন , থেকে শুরু , তারপর বীজ বা শুক্র, তারপর নিষিক্ত ডিম্ব, তারপরে ভ্রুণ এভাবেই পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এর পরে পৃথিবীর জীবনের পরিক্রমায় শৈশব, কৈশর, যৌবন অতিক্রম করে একদিন বার্দ্ধক্যে উপণীত হয় এবং শেষ পরিণতি ঘটে মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। যিনি পৃথিবীতে এক জীবনের এতগুলি পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হন , তবে মানুষ কিভাবে অবিশ্বাস করে যে, সেই মহান স্রষ্টা পৃথিবীর এই জীবন শেষে পরলোকে অন্য জীবনের শুরু করতে অক্ষম ? বিবর্তনের ধারাতে পৃথিবী ও মানুষ সৃষ্টি হয়েছে, যিনি তা পারেন তিনি অবশ্যই মৃত্যুর পরে পুণরুত্থানে সক্ষম। এই সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য আর এক সত্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে আমাদের চারিদিকে দৃষ্টিপাত করতে। উষর মরুভূমি, যেখানে তৃণলতার চিহ্নমাত্র নাই যদি সেখানে আল্লাহ্র করুণারূপ বৃষ্টি নিয়মিত হয়, তবে অতি অল্পদিনেই মরুভূমি শস্যশ্যামল ভূমিতে রূপান্তরিত হয়ে পড়ে। মৃত জমি জীবন্তরূপ ধারণ করে। যে স্রষ্টা মৃত জমিকে এক সমারোহপূর্ণ প্রদর্শনীতে পরিণত করতে পারেন , তিনি অবশ্যই মৃত্যুর পরে নূতন অন্য পৃথিবী সৃষ্টিতে সক্ষম।
২৭৭৪। মানুষের সৃষ্টির বর্ণনায় প্রাণহীন পদার্থ [ এমিনো এসিড ] থেকে শুরু করে তার পূর্ণ জীবন চক্রের বর্ণনা করা হয়েছে। এই বর্ণনার নির্ভুলতা, সৌন্দর্য, খুঁটিনাটি যে ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা বিজ্ঞানের বিষয় বস্তু। যারা প্রাণীবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত আশা করা যায় চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে নাজেল হওয়া কোর-আনে তারা বর্তমান বিজ্ঞানের যোগসূত্র খুঁজে পাবেন। মানুষের মাতৃগর্ভে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে আত্মিক পরিবর্তনের কথাটিও চিন্তা করতে হবে। মহান শিল্পী আল্লাহ্ এ ভাবেই আত্মার বাহন শরীরের পূর্ণতার মাধ্যমে আত্মাকে করেন সমৃদ্ধ, পরিপূর্ণ ও বিকশিত।
২৭৭৫। "আমি যাকে ইচ্ছা করি " অর্থাৎ ছেলে বা মেয়ে সন্তান, সুন্দর বা কুৎসিত , ফর্সা বা কালো, বুদ্ধিমান বা সাধারণ, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি শিশু। মানব শিশু অনন্ত সম্ভাবনাময়। জীবনের বিভিন্ন দিকে তাঁর বিকাশ লাভের সম্ভাবনা আল্লাহ্ তার চরিত্রের মাঝে ডি, এন , এ'র মাধ্যমে নির্দ্দিষ্ট করে দেন। তিনি নির্দ্দিষ্ট করে দেন বংশগতিধারা - এ সকলেই মহান আল্লাহ্র ইচ্ছা।
২৭৭৬। দেখুন [ ১৬ : ৭০ ]। এই আয়াতে জীবনের রহস্যের মাধ্যমে আল্লাহ্র করুণা ও অনুগ্রহকে তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়াতে মানুষের জীবন মৃত্যুর রহস্যকে তুলে ধরার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানব সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা পরকালের জীবনের প্রতি , যে জীবন সৃষ্টি আল্লাহ্র ক্ষমতারই স্বাক্ষর ও প্রতিজ্ঞা। এখানে উপমা ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের জীবনচক্রের।
জীবন শক্তিতে পরিপূর্ণ শিশু যৌবনে, শৈর্যে বীর্যে, জ্ঞানে গরিমায়, উদ্দীপ্ত হয়, আবার সেই মানুষই বার্দ্ধক্যে সকল ক্ষমতা ও জ্ঞানশুন্য হয়ে শিশুর মত হয়ে যায়। " যেনো অনেক কিছু জানার পরে তারা আর স্বজ্ঞানে থাকে না।" মানুষের জীবন চক্র সেতো স্রষ্টারই ক্ষমতার প্রকাশ মাত্র।
২৭৭৭। এই আয়াতটি ভাষা ও উপমা ও বর্ণনার মাধুর্যে এক অপূর্ব ও অমূল্য নীতিগর্ভমূলক উপদেশ। সামান্য কয়েকটি বাক্যের মাধ্যমে যে সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে তার যাদুকর প্রভাব যে কোন আল্লাহ্ প্রেমিকের মনে গভীর ভাবে রেখাপাত করতে সক্ষম।
০৬। ইহা এরূপেই [ হয় ], কারণ আল্লাহ্ [ একমাত্র ] সত্য। তিনিই মৃতকে জীবন দান করেন এবং সব কিছুর উপরে তাঁর ক্ষমতা বিদ্যমান ২৭৭৮।
২৭৭৮। বিশ্ব- প্রকৃতির মাঝে জীবনের সমারোহ, জীবনের রহস্য আমাদের এক অমোঘ সত্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আর তা হচ্ছে বিশ্ব-প্রকৃতির স্রষ্টা একজনই। একদিন সবই ধ্বংস হয়ে যাবে, শুধু রয়ে যাবে আল্লাহ্র অস্তিত্ব। তিনি আদি ও তিনিই অন্ত এবং তিনি অবিনশ্বর।
০৭। এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহের অবকাশ নাই যে, কিয়ামত অবশ্যই আসবে, অথবা যারা কবরে আছে তাদের সকলকে আল্লাহ্ উত্থিত করবেন।
০৮। তথাপি মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে যাদের কোন জ্ঞান নাই , কোন পথ নির্দ্দেশ নাই, কোন দীপ্তিমান কিতাব নাই, কিন্তু [ তা সত্ত্বেও ] তারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে বির্তক করে ২৭৭৯;-
০৮। তথাপি মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে যাদের কোন জ্ঞান নাই , কোন পথ নির্দ্দেশ নাই, কোন দীপ্তিমান কিতাব নাই, কিন্তু [ তা সত্ত্বেও ] তারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে বির্তক করে ২৭৭৯;-
২৭৭৯। 'দীপ্তিমান কিতাব '। দেখুন আয়াত [ ৩ : ১৮৪ ] এবং টিকা ৪৯০। মওলানা ইউসুফ আলীর মতে জ্ঞান শব্দটি পার্থিব জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মানুষ বিদ্যা শিক্ষার মাধ্যমে , বুদ্ধির ব্যবহারের মাধ্যমে যে জাগতিক জ্ঞান লাভ করে তাকেই জ্ঞান শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে। 'পথ নির্দ্দেশ ' শব্দটি দ্বারা স্বর্গীয় হেদায়েতকে বোঝানো হয়েছে যা আল্লাহ্র তরফ থেকে সরাসরি আগত অথবা তার নবী রসুলদের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, অথবা স্বর্গীয় প্রত্যাদেশ যা ওহীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, এবং "Book of Enlightenment" বা "দীপ্তিমান কিতাব অর্থ নৈতিক মূল্যবোধ পরিচালনার ভিত্তিস্বরূপ যে কিতাব। সৎ চরিত্রের ভিত্তি স্বরূপ যে নৈতিক মালা , যার অনুসরণে মানুষ পবিত্র ও সৎ চরিত্রের অধিকারী হয় তা যে গ্রন্থ ধারণ করে। দীপ্তিমান কিতাব হচ্ছে সেই গ্রন্থ যার মধ্যে আছে চরিত্রের মাধুর্য ও গুণের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপন প্রণালীর পথের নিশানা। আর এই স্বর্গীয় পথের নিশানাকে যিনি দেখিয়ে দেন বা নির্দ্দেশ করেন বা চিনিয়ে দেন সেই সব আল্লাহ্র নবী ও রাসুলেরা হচ্ছে "পথ নির্দ্দেশ।" কোর-আনকে দীপ্তিমান কিতাব বলা হয় কারণ এই সেই গ্রন্থ যার মধ্যে আছে চরিত্রের মাধুর্য ও গুণের উৎকর্ষ সাধন করে সুন্দর জীবন যাপন প্রণালীর পথের নিশানা। কোর-আনের মূল নির্দ্দেশ হচ্ছে চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করার উপায় সমূহ , যার মাধ্যমে আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। পাপে নিমজ্জিত আত্মা আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভে বঞ্চিত হয়। যে আত্মা গুণান্বিত ও আল্লাহ্র সান্নিধ্য লাভে ধন্য সেই তো আলোকিত আত্মা। সেদিক থেকে " দীপ্তিমান কিতাব " কথাটি অত্যন্ত প্রযোজ্য।
০৯। [ অবজ্ঞাভরে ] ঘাড় বাঁকিয়ে, যেনো [ লোকদের ] আল্লাহ্র পথ থেকে বিপথে চালিত করতে পারে। ইহজীবনে তাদের জন্য আছে অসম্মান এবং শেষ বিচারের দিনে আমি তাদের জ্বলন্ত [ আগুনের ] স্বাদ আস্বাদ করাব ২৭৮০।
২৭৮০। অনেক তফসীরকারের মতে আয়াতটি আবু জহলের প্রতি প্রযোজ্য। কিন্তু এই আয়াতের বক্তব্য সার্বজনীন। সকল যুগেই আবু জহলের মত লোক সমাজে বিদ্যমান। আয়াত [ ২২ : ৩ ] এর বক্তব্য একই, এক্ষেত্রে আয়াতটির নাজেল হওয়া সম্বন্ধে বলা হয় যে, তা Nadhar ibn Harith এর জন্য প্রযোজ্য ছিলো। তবে এর আবেদন সার্বজনীন যুগ কাল অতিক্রান্ত।
১০। [ বলা হবে ] : তোমাদের হাত [ যে কর্ম ] পূর্বে প্রেরণ করেছে এটা তারই জন্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তার বান্দাদের প্রতি অন্যায় করেন না ২৭৮১।
২৭৮১। প্রত্যেককে প্রত্যেকের কর্মফল ভোগ করতে হয়। ভালো কাজের শেষ পরিণত ভালো এবং মন্দ কাজের শেষ পরিণতি মন্দ। এই আল্লাহ্র আইন। বিশ্ব বিধাতার সর্ব চরাচরে এই আইন বিদ্যমান। আল্লাহ্ ন্যায় বিচারক। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি সামান্যতমও অবিচার করেন না।
