Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৩ জন
আজকের পাঠক ১২৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৬৭ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৩৮০ বার
+ - R Print

সূরা কাহ্‌ফ

সূরা কাহ্‌ফ - ১৮

১১০ আয়াত, ১২ রুকু, মক্কী,
[দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

ভূমিকা : সূরা xvii এর ভূমিকাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, কি ভাবে প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব কর্মের দ্বারা, চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারে। আত্মিক উন্নতির ধর্মীয় ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে এবং তা সাধারণ বর্ণনার আওতায় আনা হয়েছে।

জীবন ক্ষণস্থায়ী ও রহস্যপূর্ণ, এই পাঠ এই বিশেষ মক্কী সূরাতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে গুহা সঙ্গীদের কথা, যারা গুহার অভ্যন্তরে বহু বছর নিদ্রিত ছিলেন। কিন্তু তাদের ধারণা ছিলো তারা স্বল্প সময়ই সেখানে ছিলেন। তারপরে বর্ণনা করা হয়েছে হযরত মুসার রহস্যময় শিক্ষকের কথা। যিনি মুসাকে শিক্ষা দেন যে মানুষের জীবন এক রূপক কাহিনী। আরও আছে দুই শিং বিশিষ্ট জুলকারনাইনের কাহিনী। যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিপতি ছিলেন, এবং অত্যাচারীদের থেকে দুর্বলকে রক্ষা করার জন্য লোহার দেয়াল তৈরী করেন। ক্ষণস্থায়ী, অনিশ্চিত , গৌরবান্বিত জীবনকে রূপক কাহিণীর মাধ্যমে এই সূরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনের অনেক কিছুই আপতঃদৃষ্টিতে সত্য বিরোধী মনে হলেও সত্যবিরোধী নয়। জীবনের প্রকৃত অর্থ তখনই ভাস্বর হবে, যখন ধৈর্য্য ও জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে। পাপের আক্রমণ থেকে আত্মিক জীবনকে রক্ষা করতে হবে।

সার সংক্ষেপঃ কোরাণ হচ্ছে পথনির্দ্দেশ ও সর্তকবাণী। জীবন ক্ষণস্থায়ী ও ভাগ্যের উত্থান পতনের দ্বারা পরিবর্তনশীল। আমাদের সময়ের ধারণা ত্রুটিপূর্ণ; গুহা সঙ্গীদের গল্পের মাধ্যমে এই সত্যকে তুলে ধরা হয়েছে। গুহা সঙ্গীরা ছিলেন বিশ্বাসী, সত্যের পূজারী, ধৈর্য্যশীল এবং আরও অন্যান্য গুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের জীবন ছিলো রহস্যে আবৃত যার গভীরতা খুব অল্প সংখ্যক লোকই নির্ণয় করতে পারে [১৮: ১-২২]

সকল জ্ঞানের উৎস এক আল্লাহ্‌। মিথ্যা অনুমান ও এর উপরে ভিত্তি করে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া থেকে বিরত থাক। কোরাণ থেকে শিক্ষা নাও যে, পার্থিব বিষয়ে অহংকারে স্ফীত ব্যক্তির সব কিছুই বৃথা [১৮:২৩-৪৪]

জীবন অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল। ধার্মিকতা ও গুণাবলী হচ্ছে চরিত্রের স্থায়ী বস্তু। শেষ বিচারের দিন অবশ্যই আসবে, যেদিন আল্লাহ্‌র করুণা ও ক্রোধের প্রকাশ ঘটবে। [১৮:৪৫-৫৯]

হযরত মুসা তাঁর জ্ঞানের পিপাসায় নিজের সীমানা ভুলে গিয়েছিলো। তাঁর উপরে ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের আদেশ দেয়া হয়। তাঁর কাছে যখন জীবনের আপতঃদৃষ্টিতে সত্যবিরোধী , কিন্তু সত্যবিরোধী নয় এ দিকগুলি তুলে ধরা হয়, তিনি তা বুঝতে পারেন। [১৮:৬০-৮২]

জুলকারনাইনের ছিলো বিশাল সাম্রাজ্য। তিনি দোষীকে শাস্তি দিতেন ও ভালোকে পুরস্কৃত করতেন। তিনি দুর্বলকে অত্যাচারী থেকে রক্ষা করতেন। তাঁর ছিলো আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস;এবং আল্লাহ্‌ তাঁকে পথ নির্দ্দেশ দিতেন। আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয় এবং তাঁর জন্য কাজ করাই হচ্ছে পূণ্য। [১৮: ৮৩-১১০]

সূরা কাহ্‌ফ -১৮

১১০ আয়াত, ১২ রুকু, মক্কী,
[দয়াময় পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]

১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র ২৩২৫ যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেন নাই ২৩২৬।

২৩২৫। পূর্বের সূরার [১৭:১১১] আয়াতেও বলা হয়েছে " প্রশংসা আল্লাহ্‌রই " - তিনি একমাত্র প্রশংসার যোগ্য। এই সূরাতেও বলা হয়েছে আল্লাহ্‌- ই একমাত্র প্রশংসার যোগ্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করেছেন। মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটে ক্রমান্বয়ে - আর এর জন্য প্রয়োজন আল্লাহ্‌র দয়া ও করুণা।

২৩২৬। পবিত্র কিতাব সম্বন্ধে অনেক লোকের বিশ্বাস যে তা হবে মানুষের বোধগম্যতার উর্দ্ধে। কারণ তা হবে রহস্যময়, অস্পষ্ট ভাষা সমৃদ্ধ, মানুষের ভাষায় তার সহজ ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। ইচ্ছা মত সে ভাষাকে যে কোনও দিকে পরিচালনা করা যাবে - ফলে কখনও তার অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব, কখনও এর কোনও অর্থ থাকবে না। আরব মোশরেকদের এরূপ ধারণার কারণ ছিলো, তারা তাদের দেবদেবীর পক্ষ থেকে যে সব দৈববাণী প্রচার করতো, তা থাকতো হেঁয়ালী, ও অস্পষ্টতায় ভরা। এসব দৈববাণী সাধারণ অর্থে প্রকাশ করা যুক্তিযুক্ত ছিলো না। যারা এর প্রচার করতো, তারা পরবর্তী সময় ও ঘটনার প্রেক্ষিতে তা শ্রোতাদের নিকট ব্যাখ্যা করতো, যার সম্পূর্ণ অর্থ ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো না। সমস্ত দৈববাণীর উদ্দেশ্যই ছিলো শঠতাপূর্ণ জুয়াচুরি। উদ্দেশ্য ছিলো সাধারণ শ্রোতাদের প্রতারণা করে তাদের আনুগত্য আদায় করা। কিন্তু কোরাণের বাণী বা প্রত্যাদেশ, সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশের ধরণকে বোঝানোর জন্য Qaiyim বা সহজ ও পরিষ্কার শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে; যার বিপরীত অর্থবোধক শব্দ Iwaj বা বক্র যা এই আয়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। 'সরল পথের' উল্লেখ আছে দেখুন [১৯:৩৬] আয়াত এবং টিকা ২৪৮৮।

মন্তব্য : আমাদের অনেকেই এই বিশ্বাসের দ্বারা পরিচালিত হয়ে, শুধুমাত্র না বুঝে আরবী কোরাণ শরীফ পড়ে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য শেষ করি। এই আয়াত তাদের চিন্তা ও চেতনার পরিবর্তন আনবে।

২। [তিনি একে করেছেন সুস্পষ্ট এবং] সরল ২৩২৭, যেনো তিনি [কাফেরদের] ভয়াবহ শাস্তি সম্বন্ধে সাবধান করতে পারেন, তাঁর পক্ষ থেকে, এবং তিনি যেনো সুসংবাদ দিতে পারেন বিশ্বাসীদের, যারা সৎ কাজ করে - তাদের জন্য আছে উত্তম পুরষ্কার ,-

২৩২৭। "Qaiyim" যার বাংলা অর্থ দাড়ায় ঋজু, যা বাঁকা নয়, রহস্যময় নয়, যার ভাষা প্রাঞ্জল বা পরিষ্কার যাতে কোনও অস্পষ্টতা নাই, যা সহজ সরল পথে পরিচালিত করে। কোরাণের ভাষা ও মর্মবাণীকে প্রকাশের জন্য উপরোক্ত বিশেষণটি ব্যবহার করা হয়েছে। কোরাণ সব অস্পষ্টতার উর্দ্ধে - এর ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল। এর নির্দ্দেশাবলী সবার কাছেই সুস্পষ্ট - সকলেই এর উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
আধ্যাত্মিক জীবনের সর্বোচ্চ রহস্যের সন্ধান দেয় কোরাণ। সুতারাং কোরাণের বাণীর আবেদন সকলের নিকট সমান নয়। আধ্যাত্মিক উন্নতির তারতম্য অনুযায়ী কোরাণের বাণীর বোধগম্যতার তারতম্য ঘটে থাকে। সে অর্থে কোরাণের বাণীর গ্রহণযোগ্যতার তারতম্য ঘটে তাদের নিকট। কিন্তু এই বিশাল কিতাবের কোথাও রহস্যময়তা নাই, - মানুষের যুক্তি বা চিন্তাকে রহস্য দ্বারা আবৃত করার কোনও প্রবণতা নাই। এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে আধ্যাত্মিক জগত সম্বন্ধে সাবধান করে দেয়া যেনো পরলোকে সে বিপদের সম্মুখীন না হয়। মানুষ যেনো পরলোকে সর্বোচ্চ শান্তির সন্ধান লাভ করে।

৩। যাতে তারা সেখানে চিরদিন স্থায়ী থাকবে ২৩২৮।

২৩২৮। অনুরূপ আশ্বাস আছে নিম্নলিখিত সূরা সমূহে। দেখুন , [৪:১২২], [৪৩:৭১] , [৬৫:১১] ,[৯৮:৮]। পুরষ্কার কোন জাগতিক বস্তু নয়। এই পুরষ্কার হচ্ছে আত্মার শান্তি ইহকালে ও পরকালে। কবি মিল্টনের ভাষ্যে , "The mind is its own place, and in itself can make a Heaven of Hell, a Hell of Heaven." [P.L, 254-55]

৪। উপরন্তু, তিনি যেনো তাদেরকেও সর্তক করতে পারেন, যারা বলে, "আল্লাহ্‌ পুত্র সন্তান গ্রহণ করেছেন। " ২৩২৯

২৩২৯। শুধুমাত্র আল্লাহকে এবং আল্লাহ্‌র বাণীকে অস্বীকারকারী নয় , এই আয়াতের মাধ্যমে যারা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে অপমানকর ধারণা পোষণ করে তাদেরকেও সাবধান করা হয়েছে। যারা বলে আল্লাহ্‌ পুত্র ধারণ করেছেন। তারা যে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র ক্ষমতার অংশীদার কল্পনা করে তাই- ই নয় , তারা আল্লাহকে প্রাণীর যৌন-প্রবৃত্তির সমগোত্রীয় কল্পনা করে। কিন্তু আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয় শক্তি। তাঁর সম্বন্ধে পশু প্রবৃত্তির ধারণা করা জঘন্য অপমানকর উক্তি।

৫। এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নাই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিলো না। বক্তব্য হিসেবে ওদের মুখ নিঃসৃত কথা কত ভয়ংকর ২৩৩০। তারা যা বলে তা মিথ্যা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।

২৩৩০। ' আল্লাহ্‌ সন্তান গ্রহণ করেছেন' এই মতবাদের বা ধর্মমতের কোনও বাস্তব যুক্তি বা প্রমাণ নাই। এটা শুধুমাত্র তাদের মুখ নিঃসৃত বাক্য। কোন যুক্তি বা ব্যাখ্যা বা সত্য দ্বারা তা আল্লাহ্‌র মহান ও গৌরবান্বিত ধারণার সাথে সমন্বিত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ্‌র ৯৯ টি নাম আল্লাহ্‌র শক্তির বিভিন্ন রূপকে প্রকাশের জন্য ভাষা। আল্লাহ্‌র এই বিশাল, মহান ও সুন্দর রূপের সাথে আল্লাহ্‌র জন্য যৌন প্রবৃত্তির ধারণা "ভয়ংকর"।

৬। ওরা এই বাণী বিশ্বাস না করলে তুমি সম্ভবতঃ ওদের পিছনে ঘুরে ঘুরে দুঃখে আত্ম-বিনাশী হয়ে পড়বে ২৩৩১।

২৩৩১। ইসলামের মত যুক্তিসম্মত ধর্মের প্রচার,বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের মাঝে খুব সহজেই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে পৃথিবীতে সত্যিকারের বিচার বুদ্ধির অভাব পরিলক্ষিত হয়। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য রসুলের (সা) নিঃস্বার্থ পরিশ্রম ও ঐকান্তিক চেষ্টা যখন দুর্বার বাঁধার সম্মুখীন হয়, স্বাভাবিক ভাবেই রসুলের সমস্ত সত্তা বিপর্যস্ত বোধ করে। ইসলাম প্রচারের মধ্যে রসুলের (সা) কোনও স্বার্থ বিদ্যমান ছিলো না, তিনি তো একান্ত ভাবে চেয়েছিলেন মানুষের আত্মার মুক্তি। হিজরতের পূর্বে মক্কার কোরেশ দলপতিদের কাছ থেকে , তাঁর নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন নির্যাতন, শুধু তিনি নন , তাঁর অনুসারীরাও পেয়েছিলেন নির্যাতন ও শাস্তি। পৃথিবীকে মিথ্যা, কুসংস্কার , স্বার্থপরতা, পাপ, অবিচার এবং অত্যাচার মুক্ত করার যে বিশাল দায়িত্ব তাঁর উপরে আল্লাহ্‌ ন্যস্ত করেছিলেন, তা যে কোনও লোকের জন্য ভীতিকর কারণ ঘটাতো। কারণ এ সব মিথ্যা ও অন্যায়ের দ্বারা পৃথিবী এমনভাবে অন্ধকারচ্ছন্ন ছিলো যে একমাত্র রসুলের (সা) মত সিদ্ধান্তে অটল ও দৃঢ় চরিত্রের অধিকারীর পক্ষেই সম্ভব ছিলো তা দূরীকরণ করা। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাকে সান্তনা দিয়েছেন যে এই বিশাল কর্তব্যের দায়িত্বের জন্য তিনি যেনো আতঙ্কিত না হন। রসুল (সা) আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়তার সাথে কর্তব্যে অবিচল থাকেন যার ফলে পরবর্তীতে সত্যের বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করে যদিও তা সে সময়ে দৃষ্টিগোচর ছিলো না। এ সব কোরেশ দলপতিরা মিথ্যা আত্মগর্বে এতটাই নিমগ্ন ছিলো যে, অনুধাবনে ব্যর্থ হয় যে তাদের সম্মানের মিথ্যা ক্ষেত্র ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে।

৭। পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা করা হয়েছে পৃথিবীর চাকচিক্যময় প্রদর্শনীর জন্য , যেনো আমি পরীক্ষা করতে পারি মানুষের মধ্যে আচরণে কে শ্রেষ্ঠ ২৩৩২।

২৩৩২। পার্থিব বা জাগতিক বিষয় বস্তু যেমন: অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি এগুলি অর্জনের জন্য মানুষ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। পৃথিবীতে এ সবই তার একমাত্র কাম্য বস্তু। কিন্তু এ সবই হচ্ছে অস্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী বস্তু। এগুলি যেনো দ্রুত ধাবমান দৃশ্য। যদিও অস্থায়ী তবু এ সব মানুষের চোখে শোভা বর্দ্ধন করে কামনার আকাঙ্খা জাগ্রত করে। পরকালের জীবনে এ সবের কোনও মূল্যই নাই। যারা পৃথিবীতে এ সব করায়ত্ব করে তারা অস্থায়ী পৃথিবীর জীবন শেষে পরলোকের চিরস্থায়ী জীবনে এ সব দ্বারা কোনও উপকারই পাবে না। এ সব জাগতিক বস্তু তাদের পরলোকের স্থায়ী সুখের ঠিকানায় পৌঁছে দেবে যখন তারা এ সব জাগতিক বস্তুর সঠিক ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। জাগতিক নেয়ামত সামগ্রীকে সঠিক ভাবে আল্লাহ্‌র প্রদর্শিত পথে ব্যবহার করতে পারা ব্যক্তির চরিত্রের অমূল্য গুণাবলীর নিদর্শন। আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাকে বিভিন্ন নেয়ামতে ধন্য করেছেন, যেনো তাঁর বান্দারা কর্মের মাধ্যমে তাঁর দেয়া নেয়ামতের সদ্ব্যবহার করে থাকে, তাঁর নেয়ামত সমূহ আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করে। যখন সে তা করতে পারে তখন সে তার নিজের প্রভু, সে প্রবৃত্তির দাস নয়। যারা প্রবৃত্তির দাস তারা আল্লাহ্‌র নেয়ামতকে নিজের সুখ-সম্ভোগে , বিলাস ব্যসন চরিতার্থের জন্য ব্যয় করে থাকে। এদের অবস্থান পরলোকে হবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যে এ সব জাগতিক বস্তু লাভ করে , কিন্তু আল্লাহ্‌র প্রদর্শিত পথে ব্যয় করে, আবার যারা এ সব করায়ত্ব করতে পারে না , কিন্তু তার দরুণ তারা হতাশায় না ভুগে বরং নিশ্চিন্ত হয় এই ভেবে যে আল্লাহ্‌ তাকে সম্পদের, ক্ষমতার , প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রভৃতির ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দান করেছেন, এরাই হচ্ছেন তাঁরা যারা প্রকৃত খাঁটি চরিত্রের অধিকারী। মানুষের গুণাবলীর মাধ্যমেই মানুষের চরিত্রকে পরলোকে বিচার করা হবে।

উপদেশ : গুণাবলীই হচ্ছে মানুষের যোগ্যতার মাপকাঠি। আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্যতার একমাত্র মানদন্ড হচ্ছে গুণাবলী বা আচরণের শ্রেষ্ঠতা। সুতারাং আমাদের যে বিশ্বাস 'পীর ' বংশ বা এরূপ আধ্যাত্মিক নেয়ামতে ধন্য বংশ, তা নিতান্তই ভ্রান্ত ধারণা।