Logo

খোঁজ করুন

পাঠক

অনলাইনে আছেন ৩ জন
আজকের পাঠক ১২৩ জন
সর্বমোট পাঠক ১৪৩৯৬৭ জন
সূরা পাঠ হয়েছে ১৩৫৩৭৬ বার
+ - R Print

সূরা রাদ

সূরা রাদ অথবা বজ্র - ১৩

৪৩ আয়াত, ৬ রুকু, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


ভূমিকাঃ সূরা ১০ - ১৫ পর্যন্ত সূরাগুলিকে একই গোত্রভুক্ত করার কারণ সূরা ১০ এর ভূমিকাতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই সূরাতে যে বিশেষ যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সমূহের প্রতি ইঙ্গিত; যার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাঁর ইচ্ছা সমূহকে প্রকাশ করেছেন। মানুষের প্রতি তাঁর করুণার অভিব্যক্তি রয়েছে এই সূরাতে। পয়গম্বরদের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নির্দ্দেশ সমূহ মানুষের ভাষাতে রূপান্তরিত হয়। যা পরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষাতে রূপান্তরিত হয় । আল্লাহ্‌র বাণী যেমন মানুষের ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, আমরা যদি বিশ্ব প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করি, সেখানেও দৃষ্টিগোচর হবে প্রকৃতির বিভিন্ন আইন সমূহ যা আল্লাহ্‌র আইনেরই প্রকাশ মাত্র। পৃথিবীর জীবনে প্রতিনিয়ত নূতন জীবন সৃষ্টি ও মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এই সত্যই প্রতিভাত হয় যে মৃত্যুই শেষ কথা নয় । তবে কেন সাধারণ মানুষ মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে অবিশ্বাস করে? তারা পরকালের শাস্তির কথাকে উপহাসের বিষয় বস্তুতে পরিণত করে - কারণ পরকালের শাস্তি তাৎক্ষণিক নয়। কিন্তু তারা এত নির্বোধ কেন? তারা কি বজ্র, বিদ্যুৎ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির মধ্যে আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্য অনুধাবন করে না?

গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলেই অনুধাবন করা যায় যে, বিশ্বপ্রকৃতি, আকাশ, বাতাস, সকলেই তাঁরই মাহাত্য ঘোষণা করছে। সর্বসৃষ্টির মাঝে তাঁর হাতের পরশ বিদ্যমান। যা সত্য, যা সুন্দর সব তাঁর অস্তিত্ব ঘোষণা করে। পৃথিবীতে একমাত্র সত্য, সুন্দর ও ভালো চিরকালের জন্য স্থায়িত্ব লাভ করে, যা অসুন্দর, মন্দ তা সময়ের আবর্তনে ধবংস প্রাপ্ত হয় - যেমন ভাবে বুদ্‌বুদ বাতাসে মিশে যায় । আল্লাহ্‌ হচ্ছেন সত্য ও সুন্দরের প্রতীক। বিস্ময়কর বা অলৌকিক কিছুর মধ্যে আল্লাহ্‌কে অনুসন্ধান না করে আমাদের চারিপাশের প্রকৃতির মাঝে, তাঁর সৃষ্টির মাঝে, চেনা পৃথিবীর মাঝে, আল্লাহ্‌র সৃষ্টি নৈপুণ্যের মাঝে তাঁর ক্ষমতা ও দয়াকে অনুধাবন করতে বলা হয়েছে। প্রকৃতির আইনের মাঝে তাঁর ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে। মানুষ তার পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌র পরিকল্পনা বা ইচ্ছাই স্থায়ীত্ব লাভ করবে। পূর্বের সূরা ইউসুফের কাহিনীতে আল্লাহ্‌ এই সত্যকেই প্রকাশ করেছেন।

সার সংক্ষেপঃ আল্লাহ্‌র প্রত্যাদেশ সত্য এবং বিশ্ব প্রকৃতির মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নিদর্শন সমূহ প্রদর্শিত হয়। আল্লাহ্‌ , যিনি শক্তিশালী প্রাকৃতিক শক্তি সমূহের স্রষ্টা, তিনি ক্ষমতা রাখেন মৃত্যুর পরে পুণর্জীবিত করার । আল্লাহ্‌র জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সকল কিছুর মধ্যে বিদ্যমান । তাঁর ক্ষমতা , কল্যাণ আমাদের সর্বদা ঘিরে থাকে [১৩:১ -১৮]

পূণ্যাত্মাদের সব কাজ আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়, ফলে তাঁরা আত্মার মাঝে প্রশান্তি লাভ করে। যারা মন্দ তারা আল্লাহ্‌র বিধান বা আইন অমান্য করে, ফলে তারা তুচ্ছ ব্যাপারে বিবাদ বিসংবাদে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস ভঙ্গ করে। সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় এদের উপরেই আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত বর্ষিত হয় । [১৩: ১৯ - ৩১]

ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটে পূর্ববর্তী নবীদের জীবনে; তাদের যারা প্রথমে উপহাস করতো, পরবর্তীতে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। অপর পক্ষে ধার্মিক ও পূণ্যাত্মারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পূর্ণতা লাভ করে । [ ১৩: ৩২: ৪৩]

সূরা রাদ -১৩ অথবা বজ্র - ১৩

৪৩ আয়াত, ৬ রুকু, মাদানী
[দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্‌র নামে ]


১। আলিফ-লাম-মীম রা এই গুলি কিতাবের আয়াত তোমার প্রভুর নিকট থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।

২। তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে আকাশকে সৃষ্টি করেছেন কোন স্তম্ভ ব্যতীত ১৮০০। [অতঃপর] তিনি দৃঢ়ভাবে [কর্তৃত্বের] সিংহাসন প্রতিষ্ঠিত করলেন ১৮০১। তিনি সুর্য এবং চন্দ্রকে তার [আইনের আওতায়] নিয়মাধীন করলেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত [স্ব স্ব কক্ষ পথে] আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন ১৮০২ নিদর্শন সমুহ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যেনো তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত সমন্ধে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতে পার ১৮০৩।

১৮০০: এখানে তোমাদের "দৃষ্টিসীমার মধ্যে" বাক্যটি "স্তম্ভ" বা "আকাশমন্ডলী" কোন শব্দটি বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হবে ? এখানে দুটি শব্দকে বুঝানোর জন্যই ব্যবহৃত হতে পারে। মাওলানা ইউসুফ আলী পূর্বের শব্দটি অধিক পছন্দ করেন। কারণ আকাশ মন্ডলী কোনও স্তম্ভ ব্যতীতই শুন্যে ভাসমান এ সত্য আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করি। আমাদের দৃষ্টির সম্মুখে সুনীল আকাশকে ভাসমান দেখি, কিন্তু এই দৃশ্যমান সুনীল গগন সৃষ্টির পিছনে আল্লাহর যে শক্তি কাজ করে তার ব্যাখ্যা দিতে পারে একমাত্র বিজ্ঞান, আর বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যা আমাদের করে বিস্মিত ও স্তম্ভিত। আল্লাহ্‌র এই বিশাল ক্ষমতা ও মাহাত্ম্য আমাদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

১৮০১: দেখুন [১০:৩] আয়াত। বিজ্ঞান বলে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড এক সু-নিয়ন্ত্রিত অমোঘ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত। প্রকৃতির এই ব্যবস্থাপনা উচ্চস্বরে ডেকে বলছে যে, এর পিছনে এমন একজন স্রষ্টা ও পরিচালক রয়েছেন, যিনি মানুষের অনুভুতি ও চেতনার বহু উর্দ্ধে। তিনিই সকল কিছুর স্রষ্টা সকল কিছুর পরিচালক, রক্ষক প্রতিপালক। সকল কিছু পরিচালনার জন্য তিনি নির্দিষ্ট আইন করে দিয়েছেন। আরশে বা সিংহাসনে সমাসীন কথাটি দ্বারা এই ভাবকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সব কিছুকেই তিনি তার নিয়মের আজ্ঞাবহ করে দেন। এই নিয়ম এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত কার্যকর হবে। সমস্ত সৃষ্টির শেষ গন্তব্যস্থল আল্লাহ, যেমন সৃষ্টির প্রথম শুরু হয়েছিলো আল্লাহ্‌র থেকে।

১৮০২: দেখুন [১০:৩১] আয়াত ও টিকা ১৪২৫। "তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন" অর্থাৎ বিশ্ব প্রকৃতির জন্য যে প্রাকৃতিক আইন তা আল্লাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা অপরিবর্তনীয়। আমাদের চারিপাশের প্রকৃতি, পরিবেশ, বিশ্ব ব্রহ্মান্ড, গ্রহ, নক্ষত্র সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আল্লাহর প্রদত্ত প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী, আর এই নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী হবে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। যে সময় কালও আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট। সারা বিশ্ব প্রকৃতির সাধ্য নাই, প্রাকৃতিক আইনকে একচুল অমান্য করার। শুধু মানুষকে আল্লাহ খুব সীমিত আকারে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন ভালোকে গ্রহণ করা ও মন্দকে বর্জন করার। কিন্তু তা সত্বেও মানুষের মানসিক দক্ষতা বা ক্ষমতা [Faculties of mind] তা আল্লাহ প্রদত্ত জন্মগত। এখানে মানুষের ইচ্ছাশক্তির কোন প্রভাব নাই। আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে ভালোবাসেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

১৮০৩: বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্‌ মানুষকে ভালো ও মন্দকে গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেয়া সত্বেও তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য নবী রসুলদের প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের বর্ণনা করেছেন। আকাশে বাতাসে বিশ্বভুবনে তাঁর সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার হাতের পরশ বিদ্যমান, -এই সত্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন । স্রষ্টাকে দেখা যায় না, কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকে প্রত্যক্ষ করে নিরাকার স্রষ্টাকে হৃদয়ের মাঝে অনুধাবন করা যায়। পৃথিবীর জীবনের শেষে পরকালের জীবনের হিসাব নিকাশের জন্য আমাদের প্রস্তুতি যেনো আমরা ভুলে না যাই। আমাদের মনে যেনো আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব সম্বন্ধে কোনও সন্দেহ না থাকে সে কারণেই বিশ্ব স্রষ্টা তাঁর অস্তিত্বের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন তাঁর সৃষ্টিকে হৃদয়ের মাঝে অনুভবের মাধ্যমে।


৩। তিনিই পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন এবং তার উপরে পর্বতকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করিয়েছেন এবং নদীকে [প্রবাহিত] করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় ১৮০৪। তিনি দিনের উপর রাত্রির অবগুন্ঠন টেনে দেন। দেখো যারা চিন্তাশীল, তাদের জন্য এসবের মধ্যে নিদর্শন নিহিত রয়েছে। ১৮০৫।

১৮০৪: আল্লাহ্‌র বাণী প্রকৃতির মাঝে লেখা আছে। ফুল, নদী, আকাশ, তারা, এদের মধ্যে দিয়ে আল্লাহর হাতের পরশ অনুভুত হয়। এই আয়াতে আল্লাহ মানব সন্তানকে তাঁর কয়েকটি নিদর্শনের সন্ধান দিয়েছেন যার অর্থ হলো, প্রকৃতিকে ভালবাসতে হবে অনুভবের মাধ্যমে। প্রকৃতিকে ভালবেসে সেই প্রকৃতিরই সাহায্যে প্রকৃতির স্রষ্টা সেই মহান শক্তির কাছে পৌছানোর নির্দেশ আছে এই সব আয়াতে। চোখ খুলে তাঁকে দেখতে হবে, মন দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে হবে। এই তাঁর নির্দেশ। এই আয়াতে নির্দেশ দান করা হয়েছে প্রকৃতির বিন্যাসের দিকে সর্বপরি বিশাল উদ্ভিদ জগতের প্রতি। স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি কৌশল সেখানে বিদ্যমান । একই ফুলের মাঝে পরাগ রেণু ও স্ত্রী-ডিম্বাশ্বয় বিদ্যমান আবার কখনও কখনও খেজুর গাছ ও পেঁপে, তাল গাছের মত স্ত্রী ও পুরুষ গাছ আলাদা আলাদা ভাবে অবস্থান করে। এও স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি কৌশল উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য । দেখুন [২০:৫৩] এবং [৩১:১০]।

১৮০৫: দেখুন [৭:৫৪] আয়াত ও টিকা ১০৩২। পুর্বোক্ত আয়াতটি বর্তমান সূরার আয়াতটির সমতুল্য।
[মন্তব্য : উদ্ভিদ বিজ্ঞান আমাদের উদ্ভিদ সম্বদ্ধে স্রষ্টার সৃষ্টি রহস্যের জ্ঞান দান করে । সুতারাং বিজ্ঞানের জ্ঞানের মাধ্যমে স্রষ্টাকে হৃদয়ের মাঝে অনুধাবন করা সম্ভব। ]

৪। পৃথিবীতে রয়েছে [বৈচিত্র্যে ভরা] ভুভাগ [যদিও তারা] পরস্পর সংলগ্ন, তাতে আছে আঙ্গুরের বাগান, শষ্যে ভরা মাঠ, এবং পাম [জাতীয়] বৃক্ষগুলি-১৮০৬ যারা একই শিকর থেকে উৎপন্ন হয় অথবা ভিন্ন প্রকারে। একই পানি সিঞ্চিত হওয়া সত্বেও, তাদের কতককে অপর গুলির তুলনায় স্বাদে উৎকৃষ্ট করেছি। ১৮০৭। দেখো যারা উপলদ্ধি করতে পারে তাদের জন্য অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন।

১৮০৬: একাধিক শির বিশিষ্ট অর্থাৎ মুল এক কিন্তু উপরে বহু কান্ড বিশিষ্ট গাছ যেমন 'পাম' গাছ আঙ্গুর বা ধান-গাছ এ সব গাছ একই মুল থেকে, থোকা বা গুচ্ছ বেঁধে উৎপন্ন হয়। আবার খেজুর, কচু জাতীয় বৃক্ষ শিকড় থেকে নতুন চারা উৎপন্ন করে। মাটি ও আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে বিভিন্ন গাছের বংশ বিস্তার বিভিন্নভাবে ঘটে থাকে। স্রষ্টার সৃষ্টির এই অপুর্ব কৌশলের প্রতি এই আয়াতের মাধ্যমে এই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অরণ্যভুমি, গাছপালা প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে, এর শোভা আমাদের অন্তরে প্রশান্তি আনে, আর এর সৃষ্টি কৌশল অনুধাবনের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্মায়।

১৮০৭: স্রষ্টার সৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শনকে আবারও তুলে ধরা হয়েছে এই আয়াতের মাধ্যমে। একই আলো, একই বাতাস একই পানিতে সঞ্জিবীত হয়ে বিভিন্ন বৃক্ষলতা বিভিন্ন স্বাদের ফল উৎপন্ন করে। কোনটিকে আমরা বলি খেজুর। কোনটি আঙ্গুর, কোনটি আপেল, কি বৈচিত্র এদের আকৃতিতে স্বাদে, গন্ধে, রং এর বাহারে । এই বৈচিত্র সমস্ত উদ্ভিদ জগতের জন্য প্রযোজ্য। ফলে, ফুলে রং এর বাহারে সমস্ত উদ্ভিদ জগত প্রত্যেকেই অনন্য। এর মাঝে স্রষ্টাকে হৃদয়ে অনুভব করার পাঠ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডব্যপী লিখে রেখেছেন আল্লাহ

৫। [তাদের অবিশ্বাস] যদি তোমাকে বিস্মিত করে, তবে [শোন] অদ্ভুদ তাদের কথা ''যখন আমরা [প্রকৃতই] ধুলিতে পরিণত হব সত্যিই কি তখন আমাদের পুনঃসৃষ্টি করা হবে" ১৮০৮? এরাই তারা যারা তাদের প্রভুকে অস্বীকার করে। এরাই তারা যাদের গলার চার পার্শ্বে [দাসত্বের] শৃঙ্খল বেষ্টন করে থাকবে ১৮০৯। এরা হবে আগুনের অধিবাসী ও সেখানে [তারা চিরদিন] থাকবে।