+
-
R
(দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে)
ভূমিকা : ১০ থেকে ১৫ নম্বর সূরা সমূহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এদের সম্পর্কে ১০ নম্বর সূরার ভূমিকাতে জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। সেই দিক থেকে ১১ নম্বর সূরাটি ১০ নম্বর সূরার অতিরিক্ত অংশ বিশেষ হিসেবে গণ্য করা যায়। ১০ নম্বর সূরাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে মানুষের প্রতি, আল্লাহর দয়া ও করুণার উপরে ; ঠিক সেইভাবে ১১ নম্বর সূরাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে আল্লাহর ন্যায় বিচারের উপরে। যখন মানুষ আল্লাহর প্রসারিত দয়া ও করুণার হাতকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তখন আল্লাহর করুণা থেকে সে হয় বঞ্চিত। ফলে অবধারিতভাবে আল্লাহর শাস্তি তার উপরে নেমে আসে।
সার সংক্ষেপ : আল্লাহর প্রত্যাদেশ, আল্লাহর দয়া ও করুণারই স্বাক্ষর। এই আয়াত গুলিতে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে আল্লাহ্ মানুষের অকৃতজ্ঞতা, মিথ্যার প্রতি ভালবাসা, দম্ভ, অহংকার, কুচক্রপনা প্রভৃতি করুণা ও ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করেন। [১১; ১-২৪]
বিধর্মীরা হযরত নূহ এর প্রচারিত আল্লাহ্র প্রত্যাদেশকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তুতে পরিণত করে। হযরত নূহ্ আল্লাহ্র নির্দেশে নৌকা তৈরী করেন এবং আল্লাহ্র করুণায় হযরত নূহ্ মহা প্লাবন থেকে রক্ষা পায়। অপরপক্ষে যারা তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করেছিল, তাঁরা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [১১ ; ২৫-৪৯]
হুদ নবী আদ সম্প্রদায়কে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করতে নিষেধ করেছেন, সালেহ্ নবী তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ্র প্রতীক উটের অসম্মান করতে নিষেধ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা প্রত্যাখাত হয়েছেন, ফলে প্রত্যাখানকারীরা পৃথিবী থেকে নিঃশেষ হয়ে গেছে [১১;৫০-৬৮]
হযরত লূত তাঁর সম্প্রদায়কে তাঁদের পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করে দেয়, কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করে না। ফলে তারা তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করে। প্রতারণা ও জাল জুয়াচুরীর বিরুদ্ধে সুয়েব নবী মিদিয়ানবাসীদের সাবধান করেন, কিন্তু তারা তাকে ভৎর্সনা করে, পরিণামে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [১১; ৬৯-৯৫]
ফেরাউনের মত উদ্ধত অহংকারী নৃপতি যে তার সম্প্রদায়কে বিপথে চালিত করেছিলো, পরিণাম স্বরূপ নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। আল্লাহ্ ন্যায় বিচারক। পাপের শাস্তি হবেই। সুতারাং সব ধরণের মন্দ ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র সেবা করতে হবে। [১১; ৯৬-১২৩]
(দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে)
১৪৯৩: দেখুন সূরা [৩:৭] আয়াতে এবং টিকা ৩৪৭। জীবনের প্রতিটি মূল নীতিমালা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশে সন্নিবেশিত এবং তা উদাহরণ, উপমা ও রূপকের সাহায্যে বিষদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১৪৯৪: যুগে যুগে অন্যান্য নবী রসুলেরা আল্লাহ্র যে প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলো, হযরত মুহম্মদ মুস্তফার (সা) জন্যও সেই একই প্রত্যাদেশ ছিল। আল্লাহ্র এই প্রত্যাদেশ হচ্ছেঃ (১) মন্দ বা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ্র সর্তকবাণী এবং (২) বান্দার জন্য আল্লাহ্র রহমতের সুসংবাদ । আল্লাহ্র রহমতের যোগ্য তারাই যারা আল্লাহ্তে বিশ্বাসী ও নির্ভরশীল ও শুধুমাত্র এক আল্লাহ্র এবাদত করে, - এই দ্বিবিধ প্রত্যাদেশকে এই সূরায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১৪৯৫: "উত্তম জীবন উপভোগ করাকে মঞ্জুর করতে পারেন"। এই বাক্যটিতে পার্থিব সকল সুখ-সুবিধা, আরাম-আয়েশের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। "সীমাহীন অনুগ্রহ" শব্দটি আধ্যাত্মিক জগতের সমৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই সমৃদ্ধি এই পৃথিবীতেই শুরু হয়ে যায়, কিন্তু পরিসমাপ্তি ঘটে পরকালের জীবনে।
১৪৯৬। সাধারণত হৃদয় কথাটি হৃৎপিন্ড কথাটির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। হৃৎপিন্ড বুকের অস্থির কাঠামের মধ্যে অতি সাবধানে সুরক্ষিত দেহযন্ত্রের অংশ বিশেষ, কিন্তু হৃদয় ঠিক তা নয়। আমরা সাধারণত : কোনও গোপন সুরক্ষিত কথাকে বলে থাকি যে হৃদয়ের অভ্যন্তরে লুক্কায়িত। কারও নিকট থেকে মানসিক আঘাত পেলে প্রকাশ করি যে, হৃদয় আঘাতে বিপর্যস্ত, দুঃখ কষ্টকে প্রকাশ করি, হৃদয় দুঃখে ভারাক্রান্ত ইত্যাদি। অর্থাৎ হৃদয়কে মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতীক স্বরূপ কল্পনা করা হয়। সেদিক থেকে মানুষের গোপনতম অনুভূতি হৃদয়ের মাঝেই লুকিয়ে রাখে। এখানে হৃদয় কথাটি 'মন' এর প্রতীক স্বরূপ। যারা নির্বোধ শুধু তারাই ভাবতে পারে যে তারা তাদের হৃদয়ের অনুভূতি আল্লাহ্র কাছে লুকিয়ে রাখতে পারবে। "গোপন রাখবার জন্য হৃদয়কে ভাজ করে" এটি একটি বাগধারা অর্থ তারা তাদের অন্তরের বিদ্বেষ গোপন রাখে। এই বাক্যটি প্রতীক ধর্মী। অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন অংগ আচ্ছাদিত করার জন্য আমরা কাপড় ব্যবহার করি ; শরীরের যে কোনও দোষত্রুটি ঢেকে রাখার জন্য বস্ত্রকে ব্যবহার করতে পারি, ঠিক সেই রূপ আমরা আমাদের অসৎ চিন্তা, পরিকল্পনা যত্ন সহকারে লোক চক্ষুর অগোচরে রাখতে পারি। কিন্তু আল্লাহ্র কাছে তা দিবালোকের মত সুষ্পটা বস্তু জগতের সামান্যতম জ্ঞান, মনোজগতের সামান্যতম আবেগ, অনুভূতি, দৃশ্য, অদৃশ্য সবই মহানপরাক্রমশালী আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের মত ভাস্বর, সুষ্পষ্ট।
১৪৯৭। দেখুন সূরা [৩; ১১৯] আয়াতে।
১৪৯৮। দেখুন সূরা [৬:৫৯] আয়াত।আল্লাহ্র হুকুম বা পরিকল্পনা ব্যতীত পৃথিবীতে কোনও কিছুই ঘটতে পারে না। দৃশ্য, অদৃশ্য, কোনও কিছুই তাঁর অজ্ঞাত নয়। গাছের সামান্য পাতা পর্যন্ত তাঁর হুকুম ব্যতীত পড়ে না। জগৎ সমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা সব কিছু তাঁরই পরিকল্পনার উপরে নির্ভরশীল।
১৪৯৯। "Mustaqarr" অর্থ নির্দিষ্ট বাসস্থান, যেখানে কেউ আসে, অথবা কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম লাভ করে। কোনও স্থানে স্থাপিত হয়। "Mustauda" কোনও বস্তুকে স্থাপন করা, কিছুক্ষণের জন্য অবস্থিত রাখা। প্রথম শব্দটি ব্যবহার হয়েছে পৃথিবীর সকল জীবিত প্রাণীর জন্য, তাদের পার্থিব জীবন ও জীবন চক্রের সব কিছুই এই শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে স্থায়ী অবস্থিতি। দ্বিতীয় শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অস্থায়ী অবস্থানের অর্থ পৃথিবীতে পূর্বের ক্ষণস্থায়ী অবস্থান যেমন মাতৃজঠর ডিমের মধ্যে। আবার ভিন্ন অর্থেও ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন : শেষ বিচারের দিনে পুনরুত্থানের পূর্বে মানুষের কবরের মাঝে যে অবস্থান সেই ক্ষণস্থায়ী অবস্থানকেও বুঝানোর জন্য শব্দটির এখানে প্রয়োগ হতে পারে।
১৫০০। দেখুন সূরা [৬:৫৯] আয়াত ও টিকা ৮৮০ এবং সূরা [১০:৬১] ও টিকা ১৪৫০।
সূরা হুদ
Page 1 of 12
সূরা হুদ - ১১
১২৩ আয়াত, ১০ রুকু, মক্কী,(দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে)
ভূমিকা : ১০ থেকে ১৫ নম্বর সূরা সমূহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এদের সম্পর্কে ১০ নম্বর সূরার ভূমিকাতে জ্ঞাতব্য বিষয় সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। সেই দিক থেকে ১১ নম্বর সূরাটি ১০ নম্বর সূরার অতিরিক্ত অংশ বিশেষ হিসেবে গণ্য করা যায়। ১০ নম্বর সূরাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে মানুষের প্রতি, আল্লাহর দয়া ও করুণার উপরে ; ঠিক সেইভাবে ১১ নম্বর সূরাতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে আল্লাহর ন্যায় বিচারের উপরে। যখন মানুষ আল্লাহর প্রসারিত দয়া ও করুণার হাতকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তখন আল্লাহর করুণা থেকে সে হয় বঞ্চিত। ফলে অবধারিতভাবে আল্লাহর শাস্তি তার উপরে নেমে আসে।
সার সংক্ষেপ : আল্লাহর প্রত্যাদেশ, আল্লাহর দয়া ও করুণারই স্বাক্ষর। এই আয়াত গুলিতে বর্ণনা করা হয়েছে কিভাবে আল্লাহ্ মানুষের অকৃতজ্ঞতা, মিথ্যার প্রতি ভালবাসা, দম্ভ, অহংকার, কুচক্রপনা প্রভৃতি করুণা ও ধৈর্য্যের সাথে মোকাবেলা করেন। [১১; ১-২৪]
বিধর্মীরা হযরত নূহ এর প্রচারিত আল্লাহ্র প্রত্যাদেশকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তুতে পরিণত করে। হযরত নূহ্ আল্লাহ্র নির্দেশে নৌকা তৈরী করেন এবং আল্লাহ্র করুণায় হযরত নূহ্ মহা প্লাবন থেকে রক্ষা পায়। অপরপক্ষে যারা তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করেছিল, তাঁরা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [১১ ; ২৫-৪৯]
হুদ নবী আদ সম্প্রদায়কে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনা করতে নিষেধ করেছেন, সালেহ্ নবী তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ্র প্রতীক উটের অসম্মান করতে নিষেধ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা প্রত্যাখাত হয়েছেন, ফলে প্রত্যাখানকারীরা পৃথিবী থেকে নিঃশেষ হয়ে গেছে [১১;৫০-৬৮]
হযরত লূত তাঁর সম্প্রদায়কে তাঁদের পাপের বিরুদ্ধে সাবধান করে দেয়, কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করে না। ফলে তারা তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করে। প্রতারণা ও জাল জুয়াচুরীর বিরুদ্ধে সুয়েব নবী মিদিয়ানবাসীদের সাবধান করেন, কিন্তু তারা তাকে ভৎর্সনা করে, পরিণামে তারা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [১১; ৬৯-৯৫]
ফেরাউনের মত উদ্ধত অহংকারী নৃপতি যে তার সম্প্রদায়কে বিপথে চালিত করেছিলো, পরিণাম স্বরূপ নিজের ধ্বংস ডেকে আনে। আল্লাহ্ ন্যায় বিচারক। পাপের শাস্তি হবেই। সুতারাং সব ধরণের মন্দ ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহ্র সেবা করতে হবে। [১১; ৯৬-১২৩]
সূরা হুদ - ১১
১২৩ আয়াত, ১০ রুকু, মক্কী,(দয়াময়, পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে)
০১। আলিফ-লাম-রা [এই সেই] কিতাব যার আয়াতসমূহ [প্রমাণিত অর্থসহ] মৌলিক । ১৪৯৩। উপরন্তু, [এখানে] বিশদভাবে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ সত্ত্বার নিকট থেকে।
১৪৯৩: দেখুন সূরা [৩:৭] আয়াতে এবং টিকা ৩৪৭। জীবনের প্রতিটি মূল নীতিমালা আল্লাহ্র প্রত্যাদেশে সন্নিবেশিত এবং তা উদাহরণ, উপমা ও রূপকের সাহায্যে বিষদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
০২। [যা শিক্ষা দেয়] আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুকে এবাদত করবে না। [বলঃ] "অবশ্যই আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ।" ১৪৯৪।
১৪৯৪: যুগে যুগে অন্যান্য নবী রসুলেরা আল্লাহ্র যে প্রত্যাদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলো, হযরত মুহম্মদ মুস্তফার (সা) জন্যও সেই একই প্রত্যাদেশ ছিল। আল্লাহ্র এই প্রত্যাদেশ হচ্ছেঃ (১) মন্দ বা পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ্র সর্তকবাণী এবং (২) বান্দার জন্য আল্লাহ্র রহমতের সুসংবাদ । আল্লাহ্র রহমতের যোগ্য তারাই যারা আল্লাহ্তে বিশ্বাসী ও নির্ভরশীল ও শুধুমাত্র এক আল্লাহ্র এবাদত করে, - এই দ্বিবিধ প্রত্যাদেশকে এই সূরায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
০৩। [এবং এভাবে ধর্ম প্রচার কর] " তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, এবং অনুতাপের মাধ্যমে তাঁর দিকে ফিরে এসো, যেনো তিনি তোমাদের এক নির্দ্দিষ্ট কালের জন্য উত্তম জীবন উপভোগ করাকে মঞ্জুর করতে পারেন; এবং তিনি তাঁর সীমাহীন অনুগ্রহ সকল গুণীজনকে দান করতে পারেন। ১৪৯৫। কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও তাহলে আমি তোমাদের জন্য মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।"
১৪৯৫: "উত্তম জীবন উপভোগ করাকে মঞ্জুর করতে পারেন"। এই বাক্যটিতে পার্থিব সকল সুখ-সুবিধা, আরাম-আয়েশের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। "সীমাহীন অনুগ্রহ" শব্দটি আধ্যাত্মিক জগতের সমৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই সমৃদ্ধি এই পৃথিবীতেই শুরু হয়ে যায়, কিন্তু পরিসমাপ্তি ঘটে পরকালের জীবনে।
০৪। "আল্লাহ্রই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং সকল বিষয়ের উপরে তিনি ক্ষমতাবান।"
০৫। দেখো ! তারা তাদের হৃদয়কে ভাঁজ করে ফেলে যেনো তারা আল্লাহ্র নিকট মিথ্যা বলতে এবং গোপন করতে পারে। ১৪৯৬। আঃ! যখন তারা নিজেদের পোষাক দ্বারা আবৃত করে রাখে তখনও তিনি জানেন তারা কি গোপন করে এবং কি তারা প্রকাশ করে। কারণ তিনি ভালোভাবেই অন্তরের [গোপন কথা] অবগত। ১৪৯৭।
০৫। দেখো ! তারা তাদের হৃদয়কে ভাঁজ করে ফেলে যেনো তারা আল্লাহ্র নিকট মিথ্যা বলতে এবং গোপন করতে পারে। ১৪৯৬। আঃ! যখন তারা নিজেদের পোষাক দ্বারা আবৃত করে রাখে তখনও তিনি জানেন তারা কি গোপন করে এবং কি তারা প্রকাশ করে। কারণ তিনি ভালোভাবেই অন্তরের [গোপন কথা] অবগত। ১৪৯৭।
১৪৯৬। সাধারণত হৃদয় কথাটি হৃৎপিন্ড কথাটির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। হৃৎপিন্ড বুকের অস্থির কাঠামের মধ্যে অতি সাবধানে সুরক্ষিত দেহযন্ত্রের অংশ বিশেষ, কিন্তু হৃদয় ঠিক তা নয়। আমরা সাধারণত : কোনও গোপন সুরক্ষিত কথাকে বলে থাকি যে হৃদয়ের অভ্যন্তরে লুক্কায়িত। কারও নিকট থেকে মানসিক আঘাত পেলে প্রকাশ করি যে, হৃদয় আঘাতে বিপর্যস্ত, দুঃখ কষ্টকে প্রকাশ করি, হৃদয় দুঃখে ভারাক্রান্ত ইত্যাদি। অর্থাৎ হৃদয়কে মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতীক স্বরূপ কল্পনা করা হয়। সেদিক থেকে মানুষের গোপনতম অনুভূতি হৃদয়ের মাঝেই লুকিয়ে রাখে। এখানে হৃদয় কথাটি 'মন' এর প্রতীক স্বরূপ। যারা নির্বোধ শুধু তারাই ভাবতে পারে যে তারা তাদের হৃদয়ের অনুভূতি আল্লাহ্র কাছে লুকিয়ে রাখতে পারবে। "গোপন রাখবার জন্য হৃদয়কে ভাজ করে" এটি একটি বাগধারা অর্থ তারা তাদের অন্তরের বিদ্বেষ গোপন রাখে। এই বাক্যটি প্রতীক ধর্মী। অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন অংগ আচ্ছাদিত করার জন্য আমরা কাপড় ব্যবহার করি ; শরীরের যে কোনও দোষত্রুটি ঢেকে রাখার জন্য বস্ত্রকে ব্যবহার করতে পারি, ঠিক সেই রূপ আমরা আমাদের অসৎ চিন্তা, পরিকল্পনা যত্ন সহকারে লোক চক্ষুর অগোচরে রাখতে পারি। কিন্তু আল্লাহ্র কাছে তা দিবালোকের মত সুষ্পটা বস্তু জগতের সামান্যতম জ্ঞান, মনোজগতের সামান্যতম আবেগ, অনুভূতি, দৃশ্য, অদৃশ্য সবই মহানপরাক্রমশালী আল্লাহ্র নিকট দিবালোকের মত ভাস্বর, সুষ্পষ্ট।
১৪৯৭। দেখুন সূরা [৩; ১১৯] আয়াতে।
০৬। পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোন প্রাণী নাই যে, তার জীবিকার জন্য আল্লাহ্র উপরে নির্ভরশীল নয়। ১৪৯৮। তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সময় ও অবস্থান সম্বন্ধে অবগত। ১৪৯৯। সুষ্পষ্ট নথিতে সব কিছু [লিপিবদ্ধ] আছে। ১৫০০
১৪৯৮। দেখুন সূরা [৬:৫৯] আয়াত।আল্লাহ্র হুকুম বা পরিকল্পনা ব্যতীত পৃথিবীতে কোনও কিছুই ঘটতে পারে না। দৃশ্য, অদৃশ্য, কোনও কিছুই তাঁর অজ্ঞাত নয়। গাছের সামান্য পাতা পর্যন্ত তাঁর হুকুম ব্যতীত পড়ে না। জগৎ সমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা সব কিছু তাঁরই পরিকল্পনার উপরে নির্ভরশীল।
১৪৯৯। "Mustaqarr" অর্থ নির্দিষ্ট বাসস্থান, যেখানে কেউ আসে, অথবা কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম লাভ করে। কোনও স্থানে স্থাপিত হয়। "Mustauda" কোনও বস্তুকে স্থাপন করা, কিছুক্ষণের জন্য অবস্থিত রাখা। প্রথম শব্দটি ব্যবহার হয়েছে পৃথিবীর সকল জীবিত প্রাণীর জন্য, তাদের পার্থিব জীবন ও জীবন চক্রের সব কিছুই এই শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে স্থায়ী অবস্থিতি। দ্বিতীয় শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অস্থায়ী অবস্থানের অর্থ পৃথিবীতে পূর্বের ক্ষণস্থায়ী অবস্থান যেমন মাতৃজঠর ডিমের মধ্যে। আবার ভিন্ন অর্থেও ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন : শেষ বিচারের দিনে পুনরুত্থানের পূর্বে মানুষের কবরের মাঝে যে অবস্থান সেই ক্ষণস্থায়ী অবস্থানকেও বুঝানোর জন্য শব্দটির এখানে প্রয়োগ হতে পারে।
১৫০০। দেখুন সূরা [৬:৫৯] আয়াত ও টিকা ৮৮০ এবং সূরা [১০:৬১] ও টিকা ১৪৫০।
০৭। তিনিই ছয় দিনে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। ১৫০১ [তখন] তাঁর সিংহাসন ছিলো পানির উপর ১৫০২। তোমাদের মধ্যে চারিত্রিক [গুণাবলীতে] কে শ্রেষ্ঠ তা যেনো পরীক্ষা করতে পারেন। ১৫০৩। কিন্তু তুমি যদি তাদের বল" মৃত্যুর পরে তোমাদের অবশ্যই উত্থিত করা হবে," অবিশ্বাসীরা নিশ্চয়ই বলবে, ১৫০৪ "এটা তো সুষ্পষ্ট যাদু।
